About Us
শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
Ibrahim Hossain - (Dhaka)
প্রকাশ ২৬/০৪/২০২১ ০৮:০৩পি এম

❝মধ্যবিত্ত প্রেম❞ একটি বাস্তবমুখী বই!

❝মধ্যবিত্ত প্রেম❞ একটি বাস্তবমুখী বই! Ad Banner

❝মধ্যবিত্ত প্রেম❞ একটি বাস্তবমুখী বই!


"যাত্রাবাড়ী টু মাওয়া'র আরো অনেক কাউন্টার আছে। সেই গাড়িগুলো হয়তো ৫/১০ মিনিটের মধ্যে ছাড়বে।.….. খালি গাড়ি স্টপেজে এসে দাঁড়িয়েছে। বসন্ত জানালার ধারে বসা লোক, তাই বাসে উঠে জানালার পাশে সুবিধাজনক সিটে বসে পড়ে। ১৪/১৫ মিনিট পর গাড়ি ছাড়বে। তাই বাসে ফেরি করতে আসা পপকর্ন ওয়ালার কাছ থেকে এক প্যাকেট পপকর্ন কিনে খেতে শুরু করলো।"
উপরোক্ত উপন্যাসাংশ লেখার আশ্চর্যজনক কারণ আছে যেটা আমার সাথে ঘটেছে আর সেটা পড়ে বলছি। আগে বই নিয়ে বলে নেই:

লেখকের চিন্তাশক্তি খুবই প্রখর এবং এতটাই প্রখর যে, যা কল্পনা করে লিখেছেন তা বাস্তব হয়ে যাচ্ছে। আসলে উপন্যাসের কাহিনীটাই বাস্তব ঘটনা থেকে নেয়া এবং পুরো বাস্তব। পুরো উপন্যাস জুড়ে শুধু সত্য বাণীই প্রকাশ করে গেছেন। আর উপন্যাসের প্রতিটা লাইনই একটা মেসেজ, যা থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। আফসোস আমরা এই ধরনের বই এখন কাউকে লেখতে, প্রকাশ বা পড়তে দেখি না। অথচ তারা নিজেকে লেখক, প্রকাশক বা খাঁটি পাঠক বলে দাবি করে বেড়ায়। লেখক কথায়, "এ বইটির প্রেম-কাহিনী গল্পকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি বাহন মাত্র। চেষ্টা করেছি গল্পে ভালো কিছু মেসেজ দেওয়ার।" এখন আসি বইয়ের প্রথম থেকে:
বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন 'পরাগ ওয়াহিদ' ভাই। তাকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে না চিনলেও ফেসবুকের কল্যাণে চিনতে পেরেছি। তার কাজ বরাবরের মতোই অসাধারণ হয়েছে। প্রচ্ছদে উপন্যাসের শেষের দিকের  বসন্ত আর কুসুমের মধ্যরাতে কাজী অফিসে বিয়ের দৃশ্যপ্লট অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তার আরেকটি কাজ আমি দেখেছিলাম প্রবাসী নব কথা সাহিত্যিক 'হৃদয় খান' ভাইয়ের 'দীর্ঘশ্বাস' উপন্যাসে। অসাধারণের চেয়েও সুন্দর করেছিলেন প্রচ্ছদটা। উৎসর্গ অংশে এসে লেখক খুব দরদভরা ও বাস্তব কথা লিখেছেন। উৎসর্গ করেছেন তার স্বত্বাধিকারী বাবাকে। কিন্তু তার বাবা শিক্ষিত নন। তাই উৎসর্গ যাতে বুঝতে পারে সেজন্য লিখেছেন, " যেই ব্যক্তি পড়তে জানে না, সেই ব্যক্তিকে খুশি করার মতো শব্দ পৃথিবীর কোনো অভিধানে নেই।...... তাই উৎসর্গের পাতায় বাবার ছবিটা দিলাম। ছবি দেখে যদি বাবার মুখে একটু হাসি ফুটে!" এখানে আর কিছু বলার নেই, লেখার শব্দ হারিয়ে ফেলেছি!
লেখকের কথা অংশে এসে যা লিখেছেন তা কড়ায়-গণ্ডায় বাস্তব। আমরা বই কেন কিনি অথবা কেনইবা বই পড়ি? এ প্রশ্নের উত্তর কি আছে আমাদের কাছে? না, নেই। এতকাল আমারও ছিল না। কিন্তু 'মধ্যবিত্ত প্রেম' লেখক অংশে এসে তা আমাদের বুঝিয়ে গেছেন। এখন আসি উপন্যাস অংশে:
উপন্যাসে প্রায় অনেক বাক্যই তার সার্থক গুণ হারিয়েছে। যা আমার কাছে বিরক্ত লেগেছে। এধরনের ভুল এড়িয়ে চলা উচিত ছিল। তাছাড়া ৫-১০টির মতো শব্দের বানান আমার চোখে ভুল ধরা পড়েছে। এটা ব্যাপার না, চালিয়ে নেয়া যায়। মানুষ মাত্রই ভুল বৈকি তাহলে তো আর একটি বইয়ে সবকিছু নির্ভুল হতে পারে না, তাইনা। কাহিনী শুরুতেই লেখক ব্যাচেলরদের বন্দনা করেছেন। ব্যাচেলর জীবনের দুঃখ, কষ্ট ছাপিয়ে কীভাবে জীবনকে এগিয়ে নেওয়া যায় সেটাও পুরো উপন্যাস জুড়েই ছিল। আমাদের কাহিনীর প্রধান চরিত্র বসন্তও একজন ব্যাচেলর, পেশায় লেখক ও প্রকাশক। কিন্তু এই পর্যন্ত আসতে যে তার দুর্বিষহ সংগ্রাম করতে হয়েছে সেটা জানা যাবে উপন্যাসটা পড়লেই। কাহিনীতে বসন্ত প্রচুর মনোবলের অধিকারী এবং আত্মসম্মানীয় ব্যক্তিও বটে। তার প্রতিটা কাজ সুশৃঙ্খল।  কাহিনীর কোনো অংশেই তার এই সত্তা হারিয়ে যায়নি, বলা যায় লেখক হারাতে দেননি। কিন্তু বর্তমান সময়ে কিছু লেখক আছে যারা প্রধান চরিত্র প্রথমে উদ্যমী মনোভাব দেখিয়ে শুরু করলেও পরবর্তীতে খেই হারিয়ে ফেলে চরিত্রকে দুর্বল করে দেন যা খুবই গর্হিত কাজ বলে আমি মনে করি। আমাদের দ্বিতীয় প্রধান চরিত্র হলো নায়িকা যার নাম কুসুম। চরিত্রটাকে প্রথমে আমার দুর্বল মনে হয়েছিল কিন্তু শেষের দিকে এসে লেখক তা ভুল প্রমাণিত করেন। কুসুম দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ একজন ব্যক্তিসত্তা। তার এই দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ ব্যক্তিসত্তার কারণেই বসন্ত খোলা আকাশে ঘুরে বেড়াতে পারছে নয়তো তাকে চোদ্দশিকের মামাবাড়িতে বসে ঘোল পানি খাওয়া লাগত। দৃশ্যকল্প এরকম:
"কীভাবে যেন কুসুমের ছোটভাই কুসুমের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ইনবক্স থেকে বসন্তের সব তথ্য পেয়ে যায়। তারপর কুসুমের পরিবার পুলিশ নিয়ে আসে কুসুমকে নিয়ে যাবে বলে। ঘটনাটি বসন্তের এলাকার চেয়ারম্যান জানলে তিনি এসে সালিশ বসান। সেখানের কঠিন পরিস্থিতিতেও কুসুম বসন্তকে বেছে নেয়।" এখানে কুসুম তার ব্যক্তিসত্তার প্রয়োগ দেখিয়েছে বলে শান্তি পেয়েছি। এখানে কুসুমের ব্যক্তিসত্তার পাশাপাশি খুঁজে পাওয়া যায় মাত্র কয়েকদিনের পরিচয়ে ভালোবাসা গড়ে উঠার এক সফল প্রেম কাহিনী। যদিও এর মাঝে অনেক আখ্যান রয়েছে। সব তো আর আমি বলে দিলে হবে না, আপনাদেরও জানতে হবে কীভাবে বসন্তের সাথে কুসুমের পরিচয় হয় এবং শেষে প্রণয়?কে সেই ডলি আন্টি যিনি মাঝরাতে বসন্ত-কুসুমের বিয়ের জন্য কাজী অফিস খুঁজতে বের হয় কিন্তু শেষে বিয়ের স্বাক্ষীর ঘরে নিজের নাম লেখাতে নিষেধ করে! আবার আসে প্রায় অকৃতজ্ঞ বন্ধু ফাহাদের কথা যার আতিথিয়েতায় বসন্ত অসন্তুষ্ট হয়, কিন্তু কেন? কীভাবে বসন্ত-কুসুম একসাথে পালিয়ে আসে? আর তার আগে বইয়ের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া লেখকের মেসেজগুলোইবা কি ছিল? কীভাবে দুজনের বিয়ে মেনে নেয় তাদের পরিবার? এই কাহিনী জানতে বা বুঝতে হলে পড়তে হবে—

এখন আসি আমার সাথে ঘটে যাওয়া সেই আশ্চর্যজনক ঘটনাতে:
গত ৩-১২-২০ তারিখে বইটা অর্ডার করি এবং বইটা ডেলিভারি আসে ৫-১২-২০ তারিখে। নানুর চোখ অপারেশনের জন্য জরুরি প্রয়োজনে আমাকে গ্রামে যাওয়া লাগে ৬-১২-২০ তারিখে কিন্তু বইটা ততক্ষণেও আমি পড়ি নাই। তাই ভাবলাম গ্রামে যেহেতু যাচ্ছি তাই বইটাও সাথে করে নিয়ে যাই বাসে বসে পড়া যাবে। যেই চিন্তা সেই কাজ। বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে প্রথম বাস বসন্তের মতোই মিস করে ফেলি। দ্বিতীয় বাসে উঠে বসন্তের মতোই জানালার পাশের সিট খুঁজে নিয়ে বসি। আবার পপকর্ন ওয়ালা আসে বসন্তের বর্ণিত সময় বাকি থাকতেই আর আমিও পপকর্ন কিনে খেতে থাকি। আর বসন্তের মতো আমারও গন্তব্য ছিল মাওয়া। কিন্তু আশ্চর্যজনক কারণটা হলো এতক্ষণেও আমি ব্যাগ থেকে বই খুলে একটা লাইনও পড়ি নাই। বাস ছাড়ার প্রায় ১৫ মিনিট পরে আমি বই খুলে বসি আর পড়তে থাকি। আর সেম ঘটনা গুলো বইয়ে উল্লেখ থাকায় বই প্রায়  ৫ মিনিট হতবুদ্ধি হয়ে বসে রই আর ভাবতে থাকি এগুলা আমার সাথে কেমনে হলো! হোয়াট এ কো-ইন্সিডেন্স!!!

বই: মধ্যবিত্ত প্রেম
লেখক: আলিফ আহমাদ
প্রচ্ছদ: পরাগ ওয়াহিদ
মুদ্রিত মূল্য: ২৪০ টাকা
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮/১০


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

Md.Abu Jafar - (Bhola)
প্রকাশ ০৬/০৫/২০২১ ০৯:৫৫এ এম
Md.Abu Jafar - (Bhola)
প্রকাশ ০৪/০৫/২০২১ ০৩:০১পি এম
Md.Abu Jafar - (Bhola)
প্রকাশ ০৪/০৫/২০২১ ০৯:৪২এ এম