About Us
শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
MD.KAMRUZZAMAN SOHAG - (Kushtia)
প্রকাশ ২৬/০৪/২০২১ ০৬:১২পি এম

হুইল চেয়ারের জন্য আকুতি

হুইল চেয়ারের জন্য আকুতি Ad Banner

ষাটোর্ধ্ব মো. আবুল কাশেম, চোখে মুখে তার বিষাদের ছায়া। যে বয়সে পরিবার-পরিজন নিয়ে হাসি-খুশিতে দিন কাটানোর কথা সে সময় তার দিন কাটছে হতাশায়। বলছি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের দেবনগর গ্রামের মৃত মো. নাইমুদ্দী সরদারের ছেলে মো. আবুল কাশেম সরদারের কথা।

বিগত ২০১১ সালে হঠাৎ স্ট্রোক করেন এরপর তার শরীরের ডান পাশের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্যারালাইজড হয়ে যায়। তারপর থেকে মানবেতর জীবন কাটছে আবুল কাশেম সরদারের। এক ছেলে ও এক মেয়েসহ ৪ জনের পরিবার আবুল কাশেমের। গেল বছর মেয়েটির বিয়ে হয়েছে। এখন দৈন্যদশায় দিনাতিপাত করলেও একসময় সুখের সংসার ছিলো তার। ইট ভাটায় পোড়ায় মিস্ত্রির কাজ করে যা আয় করেছেন তা দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে চলছিল তার সংসার।

কিন্তু বিগত ২০১১ সালে ঢাকার একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় হঠাৎ মাথাঘুরে পড়ে যান তিনি। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান তিনি স্ট্রোক করেছেন। পরে আবুল কাশেম লক্ষ্য করেন তার শরীরের ডান পাশের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে গেছে। এরপর দীর্ঘদিন ঢাকা, সাতক্ষীরা ও খুলনায় চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি যখন ধীরে-ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন ঠিক সে সময় ২০১৩ সালে দ্বিতীয়বার স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে যান আবুল কাশেম।

এখন তার ডান হাত, ডান পা, ডান চোখ পুরোপুরি কার্যক্ষমতা হরিয়েছে। জিহ্বাও ফুলে গেছে। কিছু খেতে গেলে মুখ থেকে পড়ে যায়। ঠিকভাবে কথাও বলতে পারেন না তিনি। দীর্ঘদিন তাকে কৃত্রিমভাবে নলের সাহায্যে খাওয়ানো হয়েছে। সারাজীবন ইটভাটায় কাজ করে যেটুকু সঞ্চয় ছিল তার সব চলে গেছে চিকিৎসার পেছনে। আবুল কাশেমের স্ত্রী বিভিন্ন সময়ে দিনমজুরের কাজ করে কোন রকমে সংসার টিকিয়ে রেখেছেন। এখন প্রতিদিন ৪০টাকার ওষুধ খেতে হয় আবুল কাশেমকে। কোনরকমে যেখানে দিনে দুমুঠো খাবার জোটানো তাদের পক্ষে কষ্টসাধ্য সেখানে দিনে ৪০ টাকার ওষুধ কেনা একাবারেই অসম্ভব। কিন্তু ওষুধ না খেলেই চরম অসুস্থ হয়ে যান তিনি। এজন্য বাধ্য হয়ে বিভিন্ন সময় মানুষের কাছে হাত পাততে হয় তাকে। কিন্তু সেখানেও সমস্যা, প্যারালাইজড হওয়ায়, বাইরে কোথাও গিয়ে কারও কাছে সাহায্য প্রার্থনা করাও তার জন্য কষ্টসাধ্য। মাঝে-মধ্যে ভ্যান ভাড়া করে বিভিন্ন জনের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। কিন্তু সেখান থেকে যা সাহায্য পান তার একটি বড় অংশই চলে যায় ভ্যান ভাড়ায়।

তাই একটি হুইল চেয়ার হলে তার এ কষ্ট অনেকাংশে লাঘব হতো বলে মনে করেন আবুল কাশেম। একটি হুইল চেয়ারের জন্য আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, দশ বছর হয়ে গেল আমি হেটে-চলে বেড়াতে পারি না। অন্যের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। একটি হুইল চেয়ার হলে হয়তো আমার এ কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে।

আবুল কাশেমের ব্যপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান বলেন, আবুল কাশেম সরদারের অবস্থা খুবই করুণ। আজ প্রায় একযুগ হয়ে গেল সে বিকলাঙ্গ। ওনার স্ত্রীকে আমি সরকারি হতদরিদ্র প্রকল্পের মাটির কাজের (দিনমুজুরি) ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ওই কাজ করেই কোন রকমে তাদের দিন চলে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ