About Us
Ananda - (Pirojpur)
প্রকাশ ২৬/০৪/২০২১ ১২:১০পি এম

আজ থেকে বন্ধ প্রথম ডোজের টিকা

আজ থেকে বন্ধ প্রথম ডোজের টিকা Ad Banner

 টিকার স্বল্পতার কারণে প্রথম ডোজ দেয়ার কর্মসূচি আজ থেকে বন্ধ। ইতিমধ্যে প্রাপ্ত টিকা থেকে গতকাল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮১ লাখ ডোজ টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। হাতে আছে মাত্র সাড়ে ২০ লাখ ডোজ। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসার কথা ছিল। চুক্তি অনুযায়ী, গত তিন মাসে এসেছে মাত্র ৭০ লাখ ডোজ।

ভারত থেকে মার্চ মাসে কোনো টিকা আসেনি। এ হিসাবে মার্চ পর্যন্তই ৮০ লাখ ডোজ টিকা কম পেয়েছে বাংলাদেশ।চলতি মাসে টিকা আসবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।   এরমধ্যে গত  শনিবার ভারতীয় হাইকমিশনের তরফ থেকে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এক চিঠিতে বলা হয়, তাদের পক্ষে টিকা সরবরাহ করা সম্ভব নয়। চিঠিতে দুটি কারণ উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, ভারতেই টিকার চাহিদা বেশি। তাছাড়া, কাঁচামাল সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এই অবস্থায় ভারতের পক্ষে টিকা সরবরাহ করা সম্ভব নয়। ভারতের এই সিদ্ধান্ত জানার পরই দেশে টিকার প্রথম ডোজ কর্মসূচি বন্ধ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম রোববার সাংবাদিকদের জানান, তারা আশা করছেন মে মাসের প্রথমদিকে ২০ লাখ ডোজ টিকা সেরাম ইনস্টিটিউট সরবরাহ করবে। তিনি এও জানান, মে মাসে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ফাইজার থেকে ১ লাখ টিকা পাওয়া যাবে।   

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, আজ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত করোনার প্রথম ডোজ টিকা দেয়া বন্ধ থাকবে দেশে। কি কারণে প্রথম ডোজের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে তার কারণ চিঠিতে উল্লেখ না থাকলেও সূত্র বলছে, টিকার স্বল্পতার কারণেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ডের টিকার তিন কোটি ডোজ কিনতে গত বছরের ৫ই নভেম্বর সরকারের সঙ্গে চুক্তি হয়। ওই টিকার প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ দেশে আসে গত ২৫শে জানুয়ারি।

এর আগে ভারত সরকার বাংলাদেশকে আরো ২০ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে পাঠায় ২১শে জানুয়ারি। ওই টিকা হাতে পাওয়ার পর ২৭ ও ২৮শে জানুয়ারি পরীক্ষামূলক টিকাদান করা হয়। ৭ই ফেব্রুয়ারি সারা দেশে গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ২২শে ফেব্রুয়ারি কেনা টিকার আরো ২০ লাখ ডোজ আসে। আর স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশকে আরো ১২ লাখ ডোজ টিকা উপহার দেয় ভারত। সব মিলিয়ে সরকার এক কোটি দুই লাখ ডোজ টিকা পেয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, কেনা টিকার তিন কোটি ডোজের মধ্যে প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে আসার কথা।

কিন্তু জানুয়ারিতে ৫০ লাখ ডোজ পাওয়ার পর ফেব্রুয়ারিতে আসে ২০ লাখ ডোজ। ৩০ লাখ ডোজ কম আসে। মার্চ মাসে কোনো টিকা আসেনি। এ হিসাবে মার্চ পর্যন্তই চুক্তি অনুযায়ী ৮০ লাখ ডোজ টিকা কম পেয়েছে বাংলাদেশ। আর এপ্রিলের টিকা আসবে কিনা তা নিশ্চিত নয়।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, এ মুহূর্তে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম একইসঙ্গে চালানোটা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্বিতীয় ডোজগুলো দেয়া যাবে কিনা, এ বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। কারণ এই মুহূর্তে মজুত কমে আসছে।   

আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে করোনাভাইরাসের প্রায় ২১ লাখ টিকা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। তিনি বলেন, এর একটি অংশ আনবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। আরেকটি পাওয়া যাবে কোভ্যাক্স থেকে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ