About Us
Mrinal Kanti Chowdhury
প্রকাশ ২৬/০৪/২০২১ ০২:২৪এ এম

চোর থেকে কি বাঁচার কোন উপায় নেই ?

চোর থেকে কি বাঁচার কোন উপায় নেই ? Ad Banner

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ নদী পথ মেঘনা ও গোমতী নদী। এই মেঘনা নদীতে প্রতিনিয়ত শতশত কার্গো থেকে তেল চুরির ঘটনা ঘটছে একের পর এক। দেখার কেউ নেই !

তেল চুরিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে গজারিয়ার বাসিন্দা হকার মিলন নামে এক ব্যক্তি। তার সাথে হাত মিলিয়ে কাজ করছে কার্গোতে নিয়োজিত মাস্টার, সুকানিসহ অন্যান্য কর্মচারিরা। অন্যদিকে তেল চুরির কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কার্গো মালিকরা।

স্থানীয়রা জানায়, বিভিন্ন সময় জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার কারণে অতি সু-কৌশলে নিজের ট্যাঙ্কারের নাম পরিবর্তন করে চালিয়ে যাচ্ছে তেল চুরি ও বেচাকেনার কারবার। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার লিটার তেল কার্গো থেকে চুরি হচ্ছে। গজারিয়ার বাসিন্দা হকার মিলন তেল চোর সিন্ডিকেট তৈরি করে বিভিন্ন কার্গোর মাস্টার, সুকানিসহ অন্যান্য কর্মচারীদের সহযোগিতায় প্রতিনিয়ত কার্গো থেকে ট্রলার যোগে এই তেল চুরি করে আসছে। হকার মিলনের এই চক্রটি তেল চুরির পর স্থানীয় তেতুইতলা বাজারে নিয়ে বিভিন্ন তেলের দোকানে বিক্রি করে থাকে এবং তেল দোকানদারগন নিজ দায়িত্বে চুরি করা তেল ক্রয় করে, দোকানে নিয়ে বিক্রি করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় লোকজন আরো জানান, এলাকার প্রভাবশালী কতিপয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মদদে হকার মিলনসহ তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে এই চোরাকারবারি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর একজন বলেন, জেলখাটা প্রভাবশালী আন্তঃজেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি রিটু প্রধান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন প্রধানের নেতৃত্বে এই তেল চোরাকারবারি কাজটি করে যাচ্ছে মিলন গং।

সূত্রে আরো জানা যায়, উপরোক্ত ব্যক্তিরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাতে রাখার জন্য তাদের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করে থাকেন প্রায়ই। কার্গো মালিকেরা প্রতিনিয়ত লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং অপরদিকে তেল চোর চক্রের সদস্যরা তেল চুরি করে বিক্রির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হতিয়ে নিচ্ছে। চোর চক্রকে লালন পালনসহ নিজে সরাসরি জড়িত থেকে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে হকার মিলন এবং বিভিন্ন কার্গোর মাস্টার, সুকানি ও অন্যান্য দূর্নীতি প্রবণ কর্মচারীরা।

২৪ ঘন্টা নৌ পুলিশ (গজারিয়া, বদ্দারবাজার ও কলা গাছিয়া ) নদীতে টহলে থাকলেও তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কি ভাবে প্রকাশ্যে চোর সিন্ডিকেট কার্গো থেকে ট্রলার যোগে এসে ড্রামে করে তেল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষনের দাবি জানিয়েছেন কার্গো মালিকরা। সাথে সাথে কার্গোর তেল চোর সিন্ডিকেটসহ জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কার্গো মালিকরা বলেন, আমরা বারংবার স্থানীয় প্রশাসনসহ নৌ-পুলিশকে বলার পরও কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। যতটুকু সম্ভব আমরা আমাদের নিজস্ব লোকজন দিয়ে চেষ্টা করছি, কিন্তু কার্গোর মাস্টার, সুকানি ও অন্যান্য দূর্নীতি প্রবণ কর্মচারীদের কারণে আমাদের ক্ষতিগ্রস্থ হতে হচ্ছে। এসব চোর থেকে কি বাঁচার কোন উপায় নেই ?


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ