About Us
মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম - (Coxsbazar)
প্রকাশ ২৪/০৪/২০২১ ০১:২০এ এম

ফের সংবাদ সম্মেলনে স্কুল ছাত্রী আজমিন

ফের সংবাদ সম্মেলনে স্কুল ছাত্রী আজমিন Ad Banner

"আমি ধর্ষিতা ও অপহৃত নই, হয়রানি ও অপপ্রচার বন্ধ করুন।"

পেকুয়ায় চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলার বাদী মগনামা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্রী আজমিন সোলতানা আবারো সংবাদ সম্মেলন আহবান করেছেন। দ্বিতীয় দফা প্রেস ব্রিফিংয়ে মেয়েটি পেকুয়ায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রিনিক্স মিডিয়ার সংবাদ কর্মীদের মুখোমুখি হয়েছেন।

২২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যার দিকে এক প্রতিক্রিয়ায় স্কুল ছাত্রী আজমিন সোলতানা জানিয়েছেন আমি ধর্ষিতা নই, এমনকি আমি অপহৃত নই। আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পুলিশ ধর্ষণ মামলা রুজু করে। দ্বিতীয় দফায় আমাকে নিয়ে আবারো চক্রান্ত শুরু হয়েছে। এবার বলা হচ্ছে আমি নাকি অপহরণ হয়ে গেছি। আমি অপহরণ হইনি। আমি আমার পরিবারের সদস্যদের হেফাজতে রয়েছি।

তিনি আরও বলেন - পুলিশ আমাকে খুঁজছে। আমি পুলিশকে মোটেই দেখা দেওয়ার পক্ষে নই। কারণ পুলিশ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করছে। প্রথমে যে ভাবে ষড়যন্ত্র হয়েছে এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে যে, পুলিশের সাথে দেখা করা মানেই আবারো আমার সর্বনাশ হওয়া। পুলিশ এখন আমার প্রেমিক নুর আবিদের চাচাকে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করছে। বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াশিম ও আমার প্রেমিক (নুর আবিদের) চাচা জিয়াউর রহমান প্রকাশ জিয়ার মধ্যে দ্বন্ধ রয়েছে। পূর্বের ওই দ্বন্ধের জের ধরে এখন পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে আমার আত্মসম্মানবোধ হানি করে তারা ফায়দা লুটতে চাই। জিয়ার উপর প্রতিশোধ নিতে আমাদের দুইজনকে বলির পাঠা বানানো হয়েছে। পুলিশ নতুন করে অপহরন মামলা ঢুকিয়ে দেয়ার মিশনে নেমেছে।

তিনি আরও বলেন- আমি একজন অসহায় মেয়ে। আমার বাবা মৃত আব্দুল খালেক সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। এইদিকে মা অসুস্থ দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন আছেন। পরিবারে আর কোন উপযুক্ত অভিভাবক নেই, বলতে গেলে আমি একজন অনাথ মেয়ে। মা বেঁচে থাকতেও, নাই এর মত। বড় বোন রেহেনা বেগম মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করেছেন আমাকে নিয়ে। যেদিন পুলিশ আমাকে এবং আমার প্রেমিক (নুর আবিদ) কে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, তখন আমার বড় বোন রেহেনাও ছিল আমার সাথে । তিনিও মামলার পক্ষে ছিলেন না। থানার মহিলা পুলিশ ও এস,আই সিদ্দিক মামলা রুজু করাতে আমার বড় বোনের সাথে থানায় তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে যায়। এক পর্যায়ে মামলার পক্ষে না থাকায়, পুলিশ থানার ভিতরে আমার বোন রেহেনাকে মানসিক ভাবে হেনস্থা করে। তবু পুলিশের সাথে তিনি একৃতভূত হননি।

এরপর রাতে আমার বড়বোন রেহেনা থানা থেকে পুলিশের অগোচরে থানা থেকে বের হন। পুলিশ তাকে গভীর রাতে পেকুয়া চমৌহনী জিএমসি স্কুলের সামনে থেকে থানায় নিয়ে যায়। এরপর সারারাত আমি ও আমার বোনকে থানায় আটকিয়ে রাখে। পরেরদিন সকালে থানায় জোরপূর্বক মামলা দায়ের করেন। তবে মামলা দায়েরের একদিন পর আমার বোনের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয়। দেখছি আমার বিষয় নিয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে বক্তব্য দিয়েছেন।

আমার বোন রেহেনা বলেছেন - আমাকে নাকি অপহরণ করা হয়েছে। আসলে আমার বোনের সংবাদ সম্মেলন ও অপহরণ সম্পর্কিত বক্তব্য মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমার বোন রেহেনা ও তার স্বামী ফিরোজ টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। মূলত জিয়াউর রহমানকে টার্গেট করে আরেকটি মিথ্যা মামলা রুজু করতে পাঁয়তারা চালাচ্ছে। আমি তাদের বার-বার বলে আসছি, আমাকে নিয়ে আর রং ছিটানো বন্ধ করে দেন। আমি একজন প্রাপ্তবয়স্কা, আমার বুঝার বয়স হয়েছে। আমি সকলকে বলবো আমি আপনাদের মেয়ে। আবার কারো বোন, কারো না কারো সন্তান। একজন মেয়ের প্রতি সমাজের দায়িত্ব থাকে। আমার আত্মসম্মান বোধ ও মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব আপনাদের। গরীব বলে আমার কি বেঁচে থাকার অধিকার নেই। আপনাদের বোন ও মেয়ে হলে আজকে কি অবস্থা হতো না। আমি পুলিশকে বলবো আমি সুস্থ আছি। শান্তিতে আছি। স্বাভাবিক জীবন যাপন করছি।

স্কুলছাত্রী আজমিন সোলতানা দ্বিতীয় দফা সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন- আপনারা আমাকে নিয়ে টানা হ্যাচড়া বন্ধ করুন। সাতঘরপাড়া ষ্টেশনে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করুন। না হয় আমি এ অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবো। প্রয়োজনে এ সব হয়রানি থেকে নিস্কৃতি পাওয়ার জন্য পুলিশের আইজিপি মহোদয়ের কাছেও যাবো। এরপরও সমাধান না হলে প্রয়োজনে এ অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাইতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবেন, বলে আজমিন বক্তব্য দিয়েছেন।

তার বোন রেহেনা বেগম একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন। গতকাল রেহেনা বেগমের সংবাদ সম্মেলন ও বক্তব্যকে নাকচ করে, ভিকটিম আজমিন সোলতানা আবারো সংবাদ সম্মেলন করে উপরোক্ত কথাগুলো উপস্থাপন করেন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ