About Us
Mehedi Hasan Pial - (Dhaka)
প্রকাশ ২৩/০৪/২০২১ ০৯:৫৭পি এম

করোনাকালে দশমিনায় শ্রমজীবী মানুষের মানবেতর জীবনযাপন

করোনাকালে দশমিনায় শ্রমজীবী মানুষের মানবেতর জীবনযাপন Ad Banner

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে সরকার গত ৫ এপ্রিল থেকে সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকার ঘোষিত লকডাউনের ১৫ দিন চলছে। সরকার নির্দেশিত লকডাউন মানতে গিয়ে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার হতদরিদ্র, দরিদ্র, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, মটরসাইকেল চালক ও দিনমজুরসহ শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পরেছেন। ফলে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। 

উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস সূত্র জানায়, ২০১১ সালের জরিপে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে জনসংখ্যা ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৩ শ’ ৮৮জন। যার মধ্যে পুরুষ ৬০ হাজার ২ শ’ ৪১ ও নারী ৬৩ হাজার ১ শ’ ৪৭ জন। এর মধ্যে প্রত্যন্ত এলাকায় ১ লক্ষ ৪ হাজার ১ শ’ ৩৬ জন এবং শহরে ১৯ হাজার ২ শ’ ৫২ জনের বসবাস। ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক দারিদ্র মানচিত্রে এ উপজেলায় দারিদ্রের হার শতকরা ৫২ দশমিক ৮ ভাগ। সে হিসাবে হতদরিদ্র মানুষ রয়েছে ৬৫ হাজার ১ শ’ ৪৯ জন। তাঁরা দিনে আনে দিনে খায়। কাজ না জুটলে তাদের খাবার জুটে না। লকডাউনের কারণে এ সকল মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। দ্রুত এ সকল শ্রমজীবী অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। 

আজ শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পুলিশ প্রশাসন কঠোরভাবে লকডাউন পালনে কাজ করছে। সড়কে চলতে দিচ্ছে না তেমন যানবাহন। তারপর প্রশাসনের নজর এগিয়ে পরিবার পরিজনের মুখে দু’মুঠো ভাত তুলে দেয়ার জন্য কিছু মাহিন্দ্রা, অটো ও রিকশা চলাচল করছে। কিন্তু সড়কে কোনো বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করছে না। 

উপজেলা পরিষদ সড়কের সামনে চায়ের দোকানী মনির গাজী জানান, করোনায় বন্ধ রয়েছে দোকান। বন্ধ রয়েছে উপার্জনের পথ। মহামারির প্রকোপ ঠেকাতে চলছে কঠোর লকডাউন। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস রমজান।

আরেক দোকানী সবুজ হোসেন জানান, দোকান বন্ধ থাকার কারণে তার সংসার খেয়ে না খেয়ে চলছে। অটোচালক ফারুক হোসেন ও মোসারেফ বলেন, পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে এক- দেড় শ’ টাকা হইলে বাসায় চলে আসি । গাড়ি চার্জের টাকা কই পামু আর কি খামু। লকডাউনে খুব বিপদে আছি। বয়স হয়েছে, তেমন চলতে পারিনা। আয় না করলে পরিবার পরিজন নিয়ে খাওন কই পামু?’ 

উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার মো. মনিরুল হক জানান, তেঁতুলিয়া-বড়াগোরাঙ্গ নদী ভাঙন কবলীত এ উপজেলা। এ উপজেলায় জনসংখ্যার তুলনায় নদী ভাঙ্গন ও কর্মহীন মানুষ বেশি। মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোকে সরকারি, বেসরকারি ও বিত্তবানদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। 

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কর্মহীন মানুষের কাজের জন্য নির্ধারিত সময় দেওয়া প্রয়োজন। যাতে তারা উপার্জন করে পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ চালাতে পারে। তা না হলে কর্মহীন মানুষগুলোর অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিন বলেন, উপজেলার শ্রমজীবী ও অসহায় মানুষকে সহায়তার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। সহায়তা বরাদ্দ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ