About Us
Md Sabbir Hossain - (Patuakhali)
প্রকাশ ২১/০৪/২০২১ ১০:৩৩এ এম

করোনা আতঙ্কে কর্মহীন খেটে খাওয়া মানুষ

করোনা আতঙ্কে কর্মহীন খেটে খাওয়া মানুষ Ad Banner

এবারের লকডাউনে খেটে খাওয়া মানুষ, দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের কী হবে? এ বিষয়ে কেউ কিছু জানে না৷ পুলিশ ও প্রশাসন এমনকি মাঠ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরাও রাস্তায় নেমে মাস্ক না পরার কারণে মানুষকে কানে ধরাতে লাগলেন, লাঠিপেটা করাতে লাগলেন। শুরুতে মধ্যবিত্ত তার উন্নাসিক মানসিকতা নিয়ে এই গায়ের জোরে বাসায় রাখার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও যখন বুঝতে পারলো এমনটা চলতে থাকলে তারা নিজেরাও বিপদে পড়তে যাচ্ছেন, তখন সুরুৎ করে বাসার বাইরে বেরিয়ে পড়লেন৷   

এক বছরেও উদ্ভ্রান্ত পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেনি। এখনও হাসপাতালে আইসিইউ সংকট। এখন ঘটছে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ঘটনা। একদিকে করোনা বেশি ভয়ঙ্কর হচ্ছে।    করোনার শুরু থেকে  বিভিন্ন মাত্রায় লকডাউন চলছে। কিন্তু তাতেও কমানো যাচ্ছে না করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু। এদিকে রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে দোকানপাট, পর্যটন, সবই বন্ধ থাকায় দেশের অর্থনীতিতে বিপুল চাপ পড়ছে। যারা এসব চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন, তারাও মারাত্মক দুর্ভোগে পড়তে পারেন৷    ভ্রমণ, টিকা, স্কুল খোলা, দোকান খোলা ইত্যাদি নিয়ে একেক সপ্তাহে একেক ধরনের সিদ্ধান্ত দিচ্ছে ৷   

এক বছর ধরে বাংলাদেশে স্কুল বন্ধ৷ এর মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যমেলা, বইমেলা, সমাবেশ, ভর্তি পরীক্ষা, দল বেঁধে ঘুরতে যাওয়া, সবই হচ্ছে৷    অন্য অনেক দেশের চেয়ে জনসংখ্যার তুলনায় শনাক্ত ও মৃত্যুর হার বাংলাদেশে অনেক কম৷ সেটার কারণ কী? আবারও কোনো গবেষণা এবং তথ্য ছাড়াই হাজির কিছু বিজ্ঞানী৷ আবারও বলে দিলেন, বাংলাদেশ হার্ড ইমিউনিটির পথে হাঁটছে বলেই এমন ঘটছে৷    তাহলে এখন করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু রেকর্ড করছে কেন? এখন কেন লকডাউন দিতে হলো? করোনা একটা দুর্যোগ৷ এবং এটা ভূমিকম্পের মতো নয় যে আগে থেকে কিছু বোঝা যায় না৷ বরং ঘূর্ণিঝড়ের মতো অনেক আগে থেকে সব জানিয়েই আসছে৷      এরপরও কেন আমাদের কোনো পরিকল্পনা নেই? কেন লাখ লাখ মানুষকে মেলা, পরীক্ষা, সমাবেশ ইত্যাদির নামে এক জায়গায় জড়ো হয়ে করোনা ছড়ানোর সকল ব্যবস্থা করে দিয়ে তারপর লকডাউনের নামে মানুষকে না খাইয়ে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে?   

লকডাউনে শিল্প-কারখানা খোলা থাকছে৷ এর আগেও এমনই করা হয়েছিল৷ বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে তথাকথিত 'সচেতন‘ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা, সেখানে কারখানার উচ্চবিত্ত মালিকরা 'অসচেতন' নিম্নবিত্ত শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি মানাবেন? এটা অলীক কল্পনা৷ নাকি আমরা ধরেই নিয়েছি শ্রমিকদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, তাদের কিছু হবে না? (বা, হলেই বা কার কী এসে যায়?)    লকডাউনে যারা আর্থিকভাবে ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাদের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা কি সরকার ভেবেছে? আর জনগণ তো বলিহারি৷ বিশেষ করে মধবিত্ত৷ যখন মধ্যবিত্তের মনে হবে লকডাউন প্রয়োজন, তখন কেউ না খেয়ে মারা গেলেও সেটা চিন্তা না করে লকডাউন চাপিয়ে দিতে চাইবেন৷ যখন তাদের মনে হবে এবার যথেষ্ট হয়েছে, তখনও অন্য কারো কথা চিন্তা না করে বইমেলা, পরীক্ষা, কক্সবাজার ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করবেন৷   

যখন মসজিদে নামাজ না পরে বাসায় পরার আহ্বান এলো, অনেকে দেখালেন- ব্যাংক তো খোলা, যখন বইমেলা বন্ধের আহ্বান এলো, তখন অনেকে দেখালেন- মসজিদ-মাদ্রাসা তো খোলা৷  কোন কারণে কোন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, কী করা যাবে না সেটা নিজেরা স্পষ্ট হোন আগে, তারপর জনগণের কাছে স্পষ্ট করুন৷ নাহলে গত বছরের মতো মাস্ক কেনার ব্যবস্থা না করেই 'মাস্ক কই' বলে মানুষকে পুলিশের লাঠিপেটার মতো ঘটনা ঘটতেই থাকবে৷ তাতে জনগণ-সরকার-স্বাস্থ্যসেবীর বদলে বরং করোনারই লাভ হবে৷


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ