About Us
Emon Chowdhury - (Pirojpur)
প্রকাশ ০৭/০৪/২০২১ ০৩:২০পি এম

যে চেম্বারে অসহায় রোগী আসলে, চিকিৎসা ছাড়া বাড়ি ফিরেনা

যে চেম্বারে অসহায় রোগী আসলে, চিকিৎসা ছাড়া বাড়ি ফিরেনা Ad Banner

নাম ডা. তপন বসু।প্রায় ৩৫ বছর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দিয়ে আসছে পিরোজপুরবাসীকে। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসাবে পুরো জেলায় ভাল নাম ডাক রয়েছে তাঁর। তিনি একাধারে চিকিৎসক,রাজনীতিবিদ আবার সমাজসেবকও। তাঁর রোগীরা চেম্বারে আসলেই তিনি তাঁদের সাথে পরিবারের মত আচরণ করেণ। সবার সুখ দুঃখের কথা শুনেন। তিনি বহুবিধ রোগের চিকিৎসাও করেন। তাঁর ঔষধের দামও ৫০টাকা থেকে ৪,৫শ টাকার মধ্যে। যা আপনি দেশ-বিদেশে চিকিৎসা করতে গেলে হাজার থেকে লাখ টাকা খরচ হতে পারে। 


ডা. তপন বসু পিরোজপুর সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়নের মৃত ডা. নরেশ চন্দ্র বসুর সন্তান। হোমিওপ্যাথিক এ ডাক্তার ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতীক নিয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন।

তিনি চেয়ারম্যান থাকার সময় কোন বেতন ভাতা নিতেন না। তাঁর বেতন ভাতা দিয়ে হতো কোন অসহায় এতিম মেয়ের বিয়ে অথবা গ্রামের ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার খরচ। মসজিদ-মন্দিরেও সাহায্য দিতেন নিয়মিত।


ডা. তপন বসুর হোমিও চেম্বারে ধনী-গরীব নির্বিশেষে লেগেই থাকে সকল শ্রেণীর ভীড়।তাঁর চেম্বারটি সকাল ১০ থেকে রাত ১০ পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে তাঁর কাছ থেকে চিকিৎসা পেতে হলে আগে সিরিয়ালে নাম লেখাতে হয়।

চেম্বারে আসা ছোট্ট শিশু (রোগী) নাজমার বাবা মোঃ ইলিয়াস মোল্লা জানান,আমরা বাগেরহাট থেকে দাদার চেম্বারে এসেছি বাচ্চাকে দেখাতে। ওর এক সপ্তাহ ধরে ঠান্ড,কাশি। আমার পুরো পরিবারই এখানে আসে অসুস্থ হলে। বলা যেতে পারে তিনিই আমাদের পারিবারিক ডাক্তার। এদিকে কদমতলা থেকে দাঁতের ব্যাথা নিয়ে এসেছেন গিতা রানী দাস।

তিনি জানান, এই ডাক্তারের কাছে আসলে অল্প টাকার ঔষধেই ব্যাথা ভালো হয়ে যায়। আগেও হয়েছে। যা অন্যকোথায় চেকাপ করালে হাজার হাজার টাকা খরচ হবে। তবে সমস্যা পুরোপুরি শেষ হয়না।


ডাক্তারের সহযোগী উজ্জল গুহ জানান, এই ডাক্তারের কাছে থেকে ফেরত যায় না কোন রোগী।কারণ সে সকল রোগীদের কাছে ভাল ডাক্তার হিসেবে সুপরিচিত।তাই তো তাঁর কাছে দূর দূরান্ত ছুটে আসে চিকিৎসা নিতে।

ডা. তপন বসু বলেন, আমার বাবা আমাকে শিক্ষা দিয়েছে মানুষের সেবা করতে। আমি ছোট বেলা থেকেই দেখেছি আমার বাবা গ্রামের মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করতেন। তিনি সততার সাথে জীবনযাপন করে ছিলেন। সেই লক্ষ্যেই আমিও চেষ্টা করছি সাধারণ গরীব মেহনতী মানুষের জন্য কাজ বা সেবা দিতে। আমারচেম্বারে আসলে কাউকে টাকার চিন্তা করতে হয় না। আমার কাছে চিকিৎসা আগে অর্থ নয়। জীবনে যতদিন বাঁচবো সেবাই আমার ধর্ম।

ডা. তপন বসুর চেম্বারে পুরুষের তুলনায় মহিলা ও শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি। সমাজে এমন মানুষ আছে বলেই পৃথিবীতে আজও মানুষ মানুষের জন্যে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ