M. R. Sumon
প্রকাশ ০৭/০৪/২০২১ ১২:১১এ এম

সব্যসাচী লেখক আবু সাইদ কামাল

সব্যসাচী লেখক আবু সাইদ কামাল Ad Banner

ছড়াকার ও কথাসাহিত্যিক আবু সাইদ কামাল।  ১৯৫৯ সালের জানুয়ারির ৫ তারিখ গফরগাঁওয়ের ধামাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোঃ ইন্নছ আলী মুন্সি। মাতা মোছাঃ হাজেরা বেগম।

কবির পরিবার ১৯৬২ সালে কমলাকান্দা, নেত্রকোনাতে স্থানান্তরিত হয়ে স্থায়ীভাবে বসতি গড়েন। সেখানেই 'খারনই’ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। ১৯৭২ সালে 'গোবিন্দপুর জুনিয়র হাইস্কুল' থেকে অষ্টম শ্রেণী সম্পন্ন করেন। ১৯৭৩ সালে 'রোস্তম আলী গোলন্দাজ' হাইস্কুলে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং ১৯৭৫ সালে এস. এস. সি. পাশ করেন। গফরগাঁও সরকারি কলেজ থেকে ১৯৭৮ সালে এইস. এস. সি সম্পন্ন করেন। একই কলেজ থেকে ১৯৮০ সালে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন তিনি।

স্নাতক পরীক্ষার ফলাফল বের হওয়ার আগেই তূলা উন্নয়ন বোর্ডে ‘ফিল্ডম্যান’ চাকুরিহয়। ওখানে তিন মাস চাকুরি করার ইস্তফা দিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ খোঁজেন। ১৯৮২ সালে টিএন্ডটি বোর্ডে উচ্চমান সহকারির চাকুরি নিয়ে  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈশকালীন বাংলা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ভর্তি হন। ১৯৮৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে হিসাব মহানিয়ন্ত্রয়কের কার্যা লয়ে অডিটর পদে চাকুরি হয়। সেই কার্যাকলয়ের অধীন জেলা হিসাব রক্ষণ অফিস ময়মনসিংহে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে ময়মনসিংহ ‘ল’ কলেজ এল. এল. বি. ডিগ্রি অর্জন করেন। জানুয়ারির ৫ তারিখ ২০১৮ সালে নিরীক্ষা ও হিসাব রক্ষণ অফিসার হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন।

গফরগাঁও রোস্তম আলী গোলন্দাজ হাইস্কুলে ৯ম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে গফরগাঁও ইসলামিয়া হাইস্কুলের একটি অনুষ্ঠানে তার স্কুলের সাহিত্যরসিক শিক্ষক ইব্রাহীন খান রচিত একটি ছড়া প্রথম আবৃত্তি করেন এবং চিন্তা করেন নিজেও কবিতা লিখবেন। সেই থেকেই কবিতা লেখার প্রয়াস। পরবর্তী সাহিত্যের অনুষ্ঠানে তিনি স্বরচিত কবিতা ফাঠ করেন। এভাবেই সাহিত্যে তাঁর হাতেখড়ি।

কবি আবু সাইদ কামাল বর্তমানে সাহিত্যের সকলক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। সত্তরের দশকে কবিতা দিয়ে শুরু করলেও লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ নব্বইয়ের দশকে। (প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম ‘শেষ বিকেলের রোদ’ প্রকাশকাল ১৯৯৭ )। লিখে যাচ্ছেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিশুতোষ গল্প ও ছড়া। অভিনয় করেছেন নাটক ও যাত্রায়। 'রক্তরাঙা বাংলাদেশ' নামক নাটকে ১৯৭২ সালের শুরুতে অভিনয় করেন। এবং নিজেও নাটক লেখার চিন্তা করেন। তারপর নিজেই রচনা করেছেন 'অপবাদ' নামক একটি নাটক যা ১৯৯৭ সালের ২৬ শে মার্চ কলমাকান্দা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রথম মঞ্চস্থ হয়।

কবি আবু সাইদ কামাল পুরোপুরি একজন সাহিত্যকর্মী ও সাহিত্যসেবী। ১৯৯৭ সালে 'পাদদেশ সাহিত্য সাংস্কৃতিক পরিষদ'র ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে সংগঠনটির সভাপতি।'বৃহত্তর ময়মনসিংহ ছড়া সংসদ' গঠিত হয় ২০১৭ সালে। তখন থেকে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জনাব আবু সাইদ কামাল। তিনি সম্পাদনা করেন 'পাদদেশ'; 'ছোটদের সাহিত্য' ও 'ছড়াপাতা' ‘বাকবাকুম’(শিশুসাহিত্যের ছোটকাজ) নামে চারটি ছোট কাগজ। কবির প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ২৬ টি। ছড়া, কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কিশোর উপন্যাস ও কিশোরগল্প বিষয়ে ১০ টি পাণ্ডুলিপি হাতে রয়েছে। ১৯৭৮ সালে জেলা প্রসাশনের উদ্যোগে 'ময়মনসিংহের সাহিত্য সংস্কৃতি' নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিলো। কবি আবু সাইদ কামাল ১৯৭৮ এর পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত 'ময়মনসিংহের সাহিত্য' নামে বাকি অংশ অতি শীঘ্রই প্রকাশ করতে যাচ্ছেন। 'মাতৃকুলভিত্তিক গারো সমাজ' ও 'হাজংদের অতীত বর্তমান' তাঁর প্রকাশিত গবেষণাধর্মী দু'টি তথ্যসমৃদ্ধ প্রবন্ধগ্রন্থ। কবি, কথাসাহিত্যিক ও ছড়াকার আবু সাইদ কামালের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।

লেখকের প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ:
(ক) কাব্য গ্রন্থ
১। শেষ বিকিলের রোদ
২। বিনষ্ট হয়ে যায় উঠতি ফসল
৩। বাংলাদেশ এক অখ- কবিতা
৪। তের কবির পংক্তিমালা( কাব্য সংকলন)
(খ) উপন্যাস
৫। সুমিতা হাজং
৬। দূরত্ব
৭। ভাঙন
৮। মা হারা
৯। ঠিকানা
১০। বাঁহাতি তানিয়া
১১। কিশোর মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস
 (গ) প্রবন্ধ
১২। মাতৃকুল ভিত্তিক গারো সমাজ
১৩। হাজংদের অতীত বর্তমান
(ঘ) গল্প গ্রন্থ
১৪। চুড়ি ফিতা আললতা
১৫। সোয়া ডজন ভৌতিক গল্প
১৬। কিশোর মুক্তিযুদ্ধের গল্প
১৭। সোনার সিঁড়ি(কিশোর গল্প)
১৮। কিশোর মুক্তিযুদ্ধের গল্প-২
১৯। গারো , হাজং ও অন্যান্যদের গল্প
২০। নির্বাচিত গল্প
(ঙ) ছড়া গ্রন্থ
২১। আলো ফোটা ভোরের ছড়া
২২। আন্দাখালির বাঁকে
২৩। সোনালি এক খাম
২৪। আবু সাইদ কামালের নির্বাচিত ছড়া
২৬। নির্বাচিত ছাড়, খ--২
(চ) নাটক
২৬। অপবাদ

সম্পাদিতগ্রন্থ
১। ইউসুফ শরীফ ৬০তম জন্মদিনে অভিনন্দন
২। সিকদার আবুল বাশার বইশিল্পী
৩। ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছড়া’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ