About Us
Ranajit Kumar Barman
প্রকাশ ০৬/০৪/২০২১ ০৮:০৬পি এম

শ্যামনগরে খরায় রসালো ফল তরমুজ ছোট ও বাঁকা হয়ে যাচ্ছে

শ্যামনগরে খরায় রসালো ফল তরমুজ ছোট ও বাঁকা হয়ে যাচ্ছে Ad Banner

সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় উৎপাদিত রসালো ফল তরমুজের সুনাম জেলা উপজেলার বাইরে রয়েছে। উপজেলার ধূমঘাট গ্রাম ও কৈখালী ইউনিয়নের উৎপাদিত তরমুজের স্বাদ সকলের অজানা নয়। বাজারে ক্রেতাদের মুখে শোনা যায় ধূমঘাট ও কৈখালীর তরমুজ পাওয়া যাবে কিনা ? সুস্বাদু রসালো ফল তরমুজ এবার খরায় স্বাদ ও সাইজে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। খরার কারণে তরমুজ চাষিদের এবার উৎপাদন খরচ উঠবে কিনা এ নিয়ে চিন্তায় আছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আলী হাসান জানান উপজেলায় চলতি মেীসুমে প্রায় বারশত বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তরমুজ চাষ হয়েছে উপজেলার কৈখালী ইউপিতে। এ ছাড়া ঈশ^রীপুর ইউপির ধূমঘাট, কাশিমাড়ী, মুন্সিগঞ্জ তরমুজ চাষ হয়ে থাকে। কৈখালী ইউপির বোশ খালী , পশ্চিম কৈখালী বেশী তরমুজ চাষ হয়েছে এবার। তরমুজ চাষি কৈখালী ইউপির আলমগীর হোসেন বলেন তিনি নিজে ১ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন । কিন্ত এ বছর প্রচন্ড খরার কারণে তরমুজের সাইজ ছোট হয়ে যাচ্ছে এবং তরমুজ মুঠিয়ে যাচ্ছে অর্থাৎ বাঁকা হয়ে যাচ্ছে নিচের দিকে। তরমুজ চাষি হাফিজুর রহমান বলেন খরার কারণে তরমুজে ভাইরাস লেগেছে। এর ফলে তরমুজের ভিতরে গাড় লাল রং হচ্ছে না এবং মিষ্ঠতা কমে যাচ্ছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোদাচ্ছের বিল্যা বলেন উপজেলায় গতবার তরমুজ চাষ হয়ে ছিল মাত্র ৫০ হেক্টর এবং উৎপাদন ছিল ৩০ মেঃ টন। গতবার চাষিরা ভাল ফলন ও দাম পাওয়ায় এবার তিন গুন জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। বর্তমানে তরমুজ প্রতি কেজি বাজারে বিক্রয় হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে ।

উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জিয়াউল হক জিয়া বলেন অন্যান্য বছর শ্যামনগরে বৃষ্টির কারণে তরমুজের ওজন ছিল ১০ থেকে ১২ কেজি। এবার বৃষ্টির অভাবে তরমুজের ওজন হয়েছে ৪ থেকে ৫ কেজি। তিনি বলেন বৃষ্টি না হওয়ায় এবার তরমুজ বড় হওয়ার সম্ভবনা নাই শুকিয়ে যাচ্ছে তরমুজ ক্ষেত ও তরমুজ। উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা বলেন প্রকৃতি নির্ভর বৃষ্টির উপর ভরসা করে উপজেলার শ্যামনগর ইউপি, কৈখালী, কাশিমাড়ী, মুন্সিগঞ্জ সহ অন্যান্য এলাকায় চাষিরা শত শত বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন । কিন্ত শ্যামনগরে ভূগর্ভস্থ পানি না পাওয়ায় চাষিরা নিজস্ব পুকুর বা জলাশয়ের পানির উপর নির্ভর করে তরমুজ সহ অন্যান্য ফসল চাষ করে থাকেন। কিন্ত বর্তমানে সেটিও শেষ হওয়ায় এখন চাষিদের অপেক্ষা এক পশলা বৃষ্টি। তিনি বিভিন্ন এলাকায় ফসল চাষের সুবিধার্তে মিষ্টি পানি সংরক্ষণার্তে যথাযথ কতৃপক্ষের নিকট পুকুর খননের দাবী জানান।  

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এস এম এনামুল ইসলাম বলেন পানি সংকটের কারণে শ্যামনগরে তরমুজের সাইজ ছোট হচ্ছে, বাঁকা হচ্ছে। আবার কোথাও পোকার আক্রমণ দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন সরজমিনে কৈখালী ইউনিয়নের কয়েকটি তরমুজ চাষির ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন। তরমুজ ফসলের ক্ষেতে পানি সংকটের অভাব মেটাতে সন্ধ্যার পর পানি স্প্রে করতে পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান। এ ছাড়া পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে রাসায়নিক কীটনাশক স্প্রে ও মাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে মাকড়নাশক  থিওভিট সঠিক মাত্রায় স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন চাষিদের।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন বৃষ্টির পানিতে ভিটামিন বিশেষ করে নাইট্রোজেন থাকে বৃষ্টি না হওয়ার কারণে এবার তরমুজ ফসল কাঙ্খিত উৎপাদন না হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। জানা যায় উপজেলায় উচ্চ ফলন জাত ভারতের ভিফটপ, ড্রাগন, পাকিজা, বাংলালিংকসহ অন্যান্য জাতের তরমুজ চাষ হয়ে থাকে।

শ্যামনগর তরমুজ চাষি সহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনকারীরা জানান ফসলের ক্ষেতে একটু বৃষ্টির ফোঁটা পড়লে উৎপাদিত ফসলের মাত্রা বেড়ে যেত সাথে সাথে ফসলের স্বাদও বেড়ে যেত। সবমিলিয়ে  সকল প্রকার চাষিদের অপেক্ষা বৃষ্টির ফোঁটার।  

 উপজেলা কৃষি অফিসার এস এম এনামুল ইসলাম সহ চাষিরা বলেন উপজেলার বিভিন্ন ইউপির খাল গুলিতে মিষ্টি পানি সংরক্ষণ করা হলে কৃষি ফসল উৎপাদনে এক অন্যান্য ভ’মিকা রাখবে। সাথে সাথে উৎপাদিত খাদ্যে উপজেলার মানুষের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে বলে মতামত প্রকাশ করেন।

ছবি- শ্যামনগর কৈখালী তরমুজ চাষির ক্ষেত পরিদর্শন করছেন উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জিয়াউল হক ।

রনজিৎ বর্মন
তাং-৬.৪.২১
মোবা-০১৭১২৪৪৮৯৬০  


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ