মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম - (Coxsbazar)
প্রকাশ ০৬/০৪/২০২১ ০২:৫১পি এম

হঠাৎ কাল বৈশাখের বৃষ্টিতে ভেসে গেছে কোটি টাকার লবণ

হঠাৎ কাল বৈশাখের বৃষ্টিতে ভেসে গেছে কোটি টাকার লবণ Ad Banner

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায়  মগনামায় হঠাৎ কাল বৈশাখ টানা ৫ মাস পর বৃষ্টির দেখা পেল কক্সবাজারবাসী। চৈত্রের তপ্তরোধে মাঠঘাট যখন পুড়ছিল, এমনই সময়ে রোববার রাতের দুইঘন্টার বৃষ্টিতে স্বস্তি বয়ে এনেছে জনমনে। তবে এই কালবৈশাখীর ঝড়ে ভেসে গেছে লবণ মাঠের কয়েক কোটি টাকার লবণ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষিক্ষেত্রেও।   

কক্সবাজারে বৃষ্টি ছিল মাত্র দুই ঘণ্টা। এর মধ্যেই মাঠের লবণের ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকার। এ ছাড়া মাঠে পানি জমে আগামী কয়েক দিনের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে ৫০ হাজার একর জমির লবণের উৎপাদন। গত রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঝড়ো হাওয়ার সাথে শুরু হওয়া মাঝারী আকারের এই বৃষ্টিপাত চলে টানা প্রায় ২ ঘন্টা পর্যন্ত। এই সময়ে কক্সবাজারে ২৩ মিলিলিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে বলে জানায় আবহাওয়া বিভাগ।   

কক্সবাজার আবহাওয়া বিভাগের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান জানান, টানা ৫ মাস পর রোববার রাতে কক্সবাজারে বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টিপাতের ফলে সোমবার দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমেছে। পাশপাশি চৈত্রের তপ্তরোধে পোড়া প্রকৃতিতেও স্বস্তি এনেছে।    তবে রোববার রাতের বৃষ্টিপাতের ফলে জেলার সদর, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী  ও টেকনাফ উপজেলার কয়েক হাজার একর লবণ মাঠের কয়েক কোটি টাকার লবণ ভেসে গেছে এবং ঝড়ো হাওয়ায় কৃষিক্ষেতেরও ক্ষতি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।   

মগনামা ইউনিয়নের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কৃষক লীগের সভাপতি বদিউল আলম বলেন, গেল বছর লবণের ন্যায্যমূল্য  না পাওয়ায় চাষিরা এ বছর সহায় সম্বল বিক্রি করে নেমে পড়েছেন লবণ চাষে। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টির কারণে মগনামা ইউনিয়নের চাষিদের কোটি টাকার লবণ ক্ষতি হয়েছে।    একই তথ্য জানান কক্সবাজার লবণ চাষী ও ব্যবসায়ী সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মকসুদ আহমেদ।  তিনি বলেন, রোববার রাতের একপশলা বৃষ্টির পর সোমবার রোদ্রকোজ্জ্বল সকালে চাষীরা ফের লবণ উৎপাদনের জন্যে মাঠ প্রস্তুত করার কাজ শুরু করেছে। চলতি মৌসুমে কক্সবাজারের সাত উপজেলা এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার প্রায় ৫৭ হাজার ২৭০ একর জমিতে লবণ চাষ হচ্ছে। প্রায় ৫৫ হাজার চাষী লবণ চাষে জড়িত।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ