MD.KAMRUZZAMAN SOHAG - (Kushtia)
প্রকাশ ০৬/০৪/২০২১ ১০:১৬এ এম

দশ মাসে নৌ-দুর্ঘটনায় মুন্সিগঞ্জের ৫২ জনের মৃত্যু

দশ মাসে নৌ-দুর্ঘটনায় মুন্সিগঞ্জের ৫২ জনের মৃত্যু Ad Banner

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সোমবার রাত ১১টা পর্যন্ত মুন্সিগঞ্জের ১৮ জনের লাশ পাওয়া গেছে। এরআগে গত বছরের ২৯ জুন বুড়িগঙ্গা নদীতে মর্নিংবার্ড লঞ্চ দুর্ঘটনায় মুন্সিগঞ্জের ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ১০ মাসে দুটি পৃথক লঞ্চ দুর্ঘটনায় মুন্সিগঞ্জের ৫২ জনের লাশ উদ্ধার করা হলো। 

এদিকে মুন্সিগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ নৌপথে নড়বড়ে ছোট লঞ্চ চলাচল করায় এবং নৌপথের ধলেশ্বরী-শীতলক্ষ্যা নদীতে সিমেন্ট কোম্পানির অসংখ্য জাহাজ যত্রতত্র রাখায় আবারও দুর্ঘটনার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।  তারা বলছেন, মুন্সিগঞ্জের অনুপোযোগী যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেই নিয়মিত এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কের ভোগান্তি এড়াতে নৌপথ ব্যবহার করে এই জেলার মানুষ। সেখানে পেতে রাখা হয়েছে মৃত্যুর ফাঁদ। সেই ফাঁদেই মুন্সিগঞ্জের মানুষের অনিশ্চিত যাতায়াত।  মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাটের ইজারাদার দীল মোহাম্মদ কোম্পানি বলেন, মুন্সিগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ নৌপথে ২৫টি লঞ্চ চলাচল করে। এরমধ্যে ২৩টি লঞ্চ ৪৫ থেকে ৫৫ ফুট দৈর্ঘ্যের। মাত্র দুইটি লঞ্চ ৬০ ফুটের উপরে। লঞ্চগুলো দিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করে। লঞ্চের আকার ছোট হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। লঞ্চগুলোর আকার বড় করার জন্য বিআইডব্লিটিএকে বারবার বলা হচ্ছে। তারপরও তারা বড় লঞ্চের অনুমোদন দিচ্ছেন না। 

সেইসাথে মুন্সিগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ নৌপথের ধলেশ্বরী-শীতলক্ষ্যার মোহনায় সিমেন্ট ফ্যাক্টরিগুলো তাদের জাহাজগুলো যত্রতত্র অবস্থায় রেখেছে। যার ফলে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চগুলো চলাচল করছে। এতে করে যেকোনো সময় আবারও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।  এরআগে গত বছরের ২৯ জুন সকালে এমএল মর্নিংবার্ড নামের যাত্রীবাহী লঞ্চ মুন্সিগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে সদরঘাটের দিকে যাচ্ছিল। শ্যামবাজারের কাছে বুড়িগঙ্গায় ময়ূর-২ নামের আরেকটি বড় লঞ্চের ধাক্কায় সেটি ডুবে যায়। সে দুর্ঘটনায় মুন্সিগঞ্জের ৩৪ জনের প্রাণহানি ঘটে।  দুর্ঘটনার পর ৩০ জুন সদরঘাট নৌ-পুলিশের এসআই শামসুল আলম বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এ বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াদসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এ মামলার এজাহারে দায়িত্বে অবহেলা ও বেপরোয়াভাবে মর্নিংবার্ড লঞ্চটিকে ডুবিয়ে দিয়ে প্রাণহানির জন্য ১৮৬০ সালের দ-বিধির ২৮০, ৩০৪ (ক), ৩৩৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।  উল্লেখ্য, গত রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সাবিত আল হাসান যাত্রীবাহী লঞ্চটি নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ যাচ্ছিল। লঞ্চটি মদনগঞ্জ এলাকায় নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর কাছাকাছি গেলে এসকে-৩ নামের একটি কার্গো জাহাজের ধাক্কায় ডুবে যায়। এতে সোমবার রাত ১১টা পর্যন্ত ২৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। যার মধ্যে ১৮ জনের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫ জন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ