About Us
Md. Razib Hossain - (Kushtia)
প্রকাশ ০৪/০৪/২০২১ ০৪:১২পি এম

মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ Ad Banner

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিসে অনুপস্থিত থাকা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সভা ও সেমিনার থাকলে কেবল তখনই অফিসে উপস্থিত থাকেন তিনি। বাকি সময় অনুপস্থিত। 

এছাড়া কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ফিল্ড সুপারভাইজার ও জেন্ডার প্রমোটারদের বেতন, মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প সমিতিতে ভুয়া নাম দেখিয়ে অনুদানের অর্থ ও ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিডি পরিবহন বিল না দিয়ে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি দফরের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সহায়তা দিতেও অর্থ আদায় করছেন নড়িয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুজিনা খানম। তবে সব অভিযোগই ভিত্তিহীন দাবি করেছেন এই কর্মকর্তা। 

নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অফিস ও সংশিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৪ মে নড়িয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন রুজিনা খানম। এছাড়া ২০১৫ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাজিরা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন তিনি। গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন নড়িয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুজিনা খানম। এছাড়া ২০১৬ সাল থেকে বেতন-ভাতা, সরকারি সভা, সেমিনার থাকলে অফিসে উপস্থিত থাকেন তিনি। বাকি সময় গাজীপুরে নিজ বাড়িতে থাকেন তিনি। 

জাজিরায় দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তিনটি স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির নামে ৬০ হাজার অনুদান আসে। কিন্তু সেই অনুদানের টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন তিনি। এ ঘটনায় ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর জাজিরার হরিয়াশা নারী বিকাশ কেন্দ্রের সভানেত্রী নাসিমা বেগমসহ আরও দুইজনে তৎকালীন ইউএনও বরাবর তিনটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সেই টাকা ফেরত দেন রুজিনা খানম। এছাড়া ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জাজিরার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ভিজিডি পরিবহন বিল না দিয়ে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করছেন তিনি। 

এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন বলেন, স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতি যা জেলা অফিস থেকে রেজিস্ট্রেশনভুক্ত। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ওই সমিতির তিনজনের নামে ৬০ হাজার টাকা অনুদান আসে। তখনকার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুজিনা খানম ওই টাকা বিতরণ করেননি। পরে জাজিরার হরিয়াশা নারী বিকাশ কেন্দ্রের সভানেত্রী নাসিমা বেগমসহ তিনজনে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এবং ইউএনওসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করলে আমাকে তদন্তের জন্য বলা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে টাকা ফেরত দেন রুজিনা খানম। 

এছাড়া রুজিনা খানম জাজিরা থাকাকালীন আড়াই বছরের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ভিজিডি পরিবহন বিল তিন লাখ টাকা না দিয়ে নিজে স্বাক্ষর করে ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে, তিনি নিজে নিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে চেয়ারম্যানরা জাজিরা ইউএনও ও আমার কাছে অভিযোগ করেন। আমরা টাকাটা উদ্ধারে কাজ করছি।  নড়িয়া বৈশাখিপাড়া গ্রামের টুম্পা আক্তার (২৫) বলেন, ২০১৯ সাল থেকে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের জেন্ডার প্রমোটার হিসেবে চাকরি করছি। চাকরি পেতে রুজিনা খানমকে ২ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। ৫৬নং কেদারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আবৃত্তি শিক্ষক আমি।

প্রতি শনিবার ক্লাস করাতে হয়। মাসে ২ হাজার টাকা বেতন। কিন্তু তিন বছর চাকরির বয়সে মাত্র চার মাসের বেতন দিয়েছেন ম্যাডাম। আর সব আত্মসাৎ করেছেন। চার মাসের বেতন ওঠাতেও কয়েকজোড়া জুতা ক্ষয় হয়েছে।  নড়িয়া উপজেলার ভূমখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ডি.এম শাহজাহান সিরাজ বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে গর্ভবতী মায়েদের তিনদিন প্রশিক্ষণ দেয়া হয় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অফিস থেকে। তিনদিনে প্রতিজনকে ১৫০টাকা করে দেয়ার কথা। আমার ইউনিয়নে পাঁচ বছরে একবার প্রশিক্ষণ করানো হয়েছে।

যেখানে ৭৯ জন প্রশিক্ষণ নেয়। মাত্র ৬ জনকে টাকা দেয়া হয়েছে। বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা।  তিনি বলেন, তিন বছরের ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিডি পরিবহন বিল ৩ লাখ টাকা আমাদের দেননি মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুজিনা খানম। টাকাটা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।  নড়িয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুজিনা খানম অনিয়মের বিষয় অস্বীকার করে বলেন, গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমি অসুস্থ ছিলাম। ইউএনও ও জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে বলে ছুটি নিয়েছিলাম। আমি সব সময় অফিস করি। অনিয়ম করি না। কোন টাকা আত্মসাৎ করিনি।

সব সঠিকভাবে কাগজপত্রে উল্লখ আছে।  জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার বলেন, মাত্র দুই মাস হলো জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছি। বিষয়গুলো মাত্র জানলাম। বিষয়গুলো নিয়ে কেউ যদি আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসে, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়ন্তী রূপা রায় বলেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিষয়গুলো আমরা ক্ষতিয়ে দেখব। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে ছুটির জন্য আমার কাছে লিখিত কোনো দরখাস্ত দেননি ওই কর্মকর্তা।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ