About Us
sheikh sahaur rahman belal
প্রকাশ ০৪/০৪/২০২১ ০৩:৩৩পি এম

ইউপি মেম্বারের স্ত্রীর নামে সরকারি ঘর বরাদ্দের অভিযোগ

ইউপি মেম্বারের স্ত্রীর নামে সরকারি ঘর বরাদ্দের অভিযোগ Ad Banner

হতদরিদ্রের এসব ঘর কোনো কোনো স্থানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, তাদের আত্মীয়স্বজন ও এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনেকে বরাদ্দ নিয়েছেন। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ১১নং ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আক্তার মিয়া সর্দার অনিয়ম করে নিজের স্ত্রীর নামে সরকারি ঘর বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি ওই  ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। 

এভাবেই রাহুর গ্রাসে চলে যাচ্ছে গরিবের ঘর। ফলে দেশের গৃহহীন দরিদ্র মানুষের মাথা গোঁজার সুযোগ করে দিতে প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  জানা গেছে, ওই ইউপি সদস্য আক্তার মিয়া সর্দার তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী শেফুল বেগমকে দরিদ্র দেখিয়ে দুই বছর আগে ‘যার জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের একটি ঘর বরাদ্দ করিয়ে নেন।  ওই ইউনিয়নের অপর একজন ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আক্তার মিয়া সর্দার ইউপি সদস্য একজন সম্পদশালী। তার রয়েছে দুইটি বাড়িসহ কয়েক বিঘা জমি।   

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই গ্রামের কয়েকজন স্থানীয় ব্যাক্তি জানান, আক্তার মেম্বার একজন বিত্তশালী ব্যক্তি। তার কোন কিছুর অভাব নেই। হতদরিদ্রদের নামে আসা ঘর তিনি কিভাবে নিলেন। গ্রামে অনেকেই হতদরিদ্র পরিবার রয়েছে, তাদেরকে না দিয়ে নিজের স্ত্রীকে ঘর দিয়েছেন।  ওই ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য জানান, আমি বিষয়টি জেনেছি। স্বচ্ছল থাকা অবস্থায় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের স্ত্রীর নামে সরকারি ঘর বরাদ্ধ নেওয়া ঠিক করেননি।   

২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রকল্পের আওতায় শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় বরাদ্ধ দেয়া হয় ৮টি ঘর। প্রতিটি ঘরের বরাদ্ধ ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর এতেই অনিয়ম করে নিজের স্ত্রীর নামে ঘর নিয়ে নেন ইউপি সদস্য আক্তার মিয়া সর্দার। নিজের স্ত্রীর নামে প্রাপ্ত ঘর বরাদ্দের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে ইউপি সদস্য আক্তার মিয়া সর্দার বলেন, আমার স্ত্রীর নামে একটি ঘর বরাদ্দ আসে। এটি আমি মেম্বার হওয়ার আগে আবেদন করা ছিলো। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যাদেও ১০ শতাংশ জমি আছে তারা এই ঘর পায়। আমার স্ত্রীর নামে ৪ শতাংশ জমি রয়েছে বিধায় সে ওই ঘরটি পেয়েছে। স্বামীর বিঘা বিঘা সম্পত্তি থাকা সত্বেও স্ত্রী কিভাবে আলাদা সরকারি ঘর বরাদ্দ পান এমন প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।   দায়িত্বরত শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই।

২০১৯-২০ অর্থ বছরের ঘরগুলো আগের ইউএনও দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে করে গেছেন। তাছাড়া এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ করেনি। তবে, খোজঁ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।   নাগরিক সমাজ কর্মীদের দাবী, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া প্রয়োজন। গরিবের ঘর যদি জনপ্রতিনিধি বা বিত্তশালীরাই নেন, তাহলে সরকারের উদ্দেশ্য ভেস্তে যাবে।’  প্রধানমন্ত্রীর কার্য্যালয়ের আশ্রয়ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা উপ-প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, ইউপি সদস্য নিজ স্ত্রীর নামে ঘর বরাদ্দ নেওয়া ঠিক করেনি। আমি এব্যাপারে খোঁজ নিব।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ