About Us
Younus Ali
প্রকাশ ০৪/০৪/২০২১ ১২:৪০পি এম

তথাকথিত লকডাউন শুধু অর্থনীতিরই ক্ষতি করবে

তথাকথিত লকডাউন শুধু অর্থনীতিরই ক্ষতি করবে Ad Banner

অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেছেন, সাত দিনের লকডাউন হলেও তা হতে হবে কঠোর। কারফিউর মতো লকডাউন দিতে হবে। তবে তার আগে গরিব মানুষের খাবার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় তথাকথিত লকডাউন  দিয়ে কোনো লাভ হবে না।  এতে শুধু অর্থনীতির ক্ষতিই হবে। গরিব মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।

এ সাত দিনের লকডাউনে হয়তো বড় কোনো উপকার হবে না। তবে সংক্রমণ কমানো যাবে। আর এখন সেটাই দরকার। একই সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ মানতে হবে। সেখানে কোনো ঢিলেঢালাভাব দেখানো যাবে না।  বইমেলা বন্ধ করতে হবে। অন্য যেসব উৎসব, খেলাধুলা সেগুলোও বন্ধ করতে হবে। গরিব মানুষের খাবার নিশ্চিত করতে হবে। যেসব কলকারখানা চালু থাকবে তার শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। 

গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি বলেন, সাত দিনের লকডাউন নিয়ে মনে কিছু প্রশ্ন এসেছে। দরিদ্র দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষের জন্য খাদ্যসহায়তার কোনো প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে কিনা? এ সময়ে বইমেলা কি চালু থাকবে? প্রণোদনার অর্থ যারা ঋণ হিসেবে নিয়েছেন তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার সময়সীমায় কি কোনো পরিবর্তন আসবে? (কারণ লকডাউনে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হবে)।

এ ছাড়া লকডাউনের সময় বিভিন্ন পণ্যের অনলাইন ডেলিভারি কি চালু থাকবে? এ সময় বেড়াতে যাওয়া কিংবা গ্রামে চলে যাওয়া ঠেকানোর জন্য কোনো প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে কি না? কৃষিপণ্য সঠিকভাবে সরবরাহের ব্যবস্থা কি নেওয়া হয়েছে? কেউ অসুস্থ হলে তার হাসপাতালে যাওয়ার জন্য যানবাহন পর্যাপ্ত পাওয়া যাবে কি না? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, লকডাউন কার্যকরের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা কি নেওয়া হয়েছে? লকডাউনের সঙ্গে সঙ্গে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসা জরুরি। নইলে গত বছরের অর্থনৈতিক ধীরগতির প্রভাবে দুর্বল অর্থনীতি বড় রকমের চ্যালেঞ্জে পড়বে। ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারকে কঠোর হতে হবে।

এতে কিছু মানুষের ভোগান্তি হবে।  সেটা লাঘবের জন্যও সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। এ সময় দরিদ্র মানুষের খাবার নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালগুলোয় যেন মানুষ সেবা পায় তা-ও নিশ্চিত করা জরুরি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ