About Us
Ananda - (Pirojpur)
প্রকাশ ০৪/০৪/২০২১ ১২:২২পি এম

পাকিস্তানেও তৈরি হচ্ছে ভেন্টিলেটর

পাকিস্তানেও তৈরি হচ্ছে ভেন্টিলেটর Ad Banner

করোনার শুরু থেকেই  আমরা দেখে আসছি যে  এই মহামারীতে ভেন্টিলেটর কতটা প্রয়োজনীয় মেশিন। 2020 সালে বিশ্বজুড়ে  যখন করোনা মহামারী ছড়িয়ে পড়ে তখন বিভিন্ন দেশ ভেন্টিলেটরের চাহিদা মেটাতে এই যন্ত্র তৈরিতে উঠেপড়ে লাগে।

এ প্রচেষ্টায় গত এক বছরে অনেক দেশই সফল হয়েছে।পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এখন প্রতি মাসে দেড় হাজার ও পাকিস্তান ৩০০ ভেন্টিলেটর তৈরি করছে।অথচ সফলতার দ্বারপ্রান্তে এসেও ভেন্টিলেটর তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাই  এর জন্য দায়ী বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। গত বছরের ২৮ এপ্রিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে দেশে খুব শিগগিরই ভেন্টিলেটর উৎপাদন শুরু হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের তিন মডেলের প্রোটোটাইপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের উদ্বোধন করেন তখন। সে সময় আরো অন্তত ১৮টি উদ্যোগ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে ছিল।

এর মধ্যে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি), মিনিস্টার হাইটেক পার্ক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ শিল্পকারিগরি সহায়তা কেন্দ্রসহ অনেক প্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও ব্যক্তির তৈরি প্রটোটাইপ কারিগরি বিবেচনায় প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেও যায় অনেক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ-ই উৎপাদনে যেতে পারেনি। 

এদিকে ভারতের মতো পাকিস্তান ভেন্টিলেটর তৈরিতে অনেকটাই এগিয়ে।  ২০২০ সালের ৬ জুলাই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এজেন্সির কাছে ১০০টির বেশি ভেন্টিলেটর মেশিন হস্তান্তর করেন, যেগুলো পাকিস্তানেই তৈরি। ভয়েস অব আমেরিকার সাউথ এন্ড কারেন্ট এশিয়া বিভাগে প্রকাশিত ওই দিনের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হরিপুরের একটি কারখানায় ‘সেইফভেন্ট এসপি১০০’ নামে এসব ভেন্টিলেটর তৈরি হয়। মাসে এখন কারখানাটি ৩০০ ভেন্টিলেটর তৈরি করছে। এটির উৎপাদন খরচও খুব কম। 

বাংলাদেশ কেন পারেনি এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে জানা যায় । ভেন্টিলেটর তৈরি ও আরএন্ডডি নিয়ে আইসিটি বিভাগ মূলত বিভিন্ন উদ্যোক্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা করেছে।

সহায়তা করেছে অন্যান্য ক্ষেত্রেও। কিন্তু হাসপাতালে ব্যবহারের অনুমোদন দেয়ার এখতিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের। এছাড়া বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে যন্ত্রাংশ আমদানি, কর সুবিধা, স্ট্যান্ডার্ড সার্টিফিটেক অর্জন, বিনিয়োগসহ অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সংশ্লিষ্ট। অন্য দেশগুলো একই প্ল্যাটফর্ম থেকে এসব সমন্বয় করেছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে, দ্রুততার সঙ্গে। কিন্তু বাংলাদেশে সেটি করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন অফিস ঘুরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় উৎসাহ হারিয়েছেন উদ্যোক্তারা। আবার মাঝখানে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার কারণেও বিষয়টি গুরুত্ব হারায়।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ