About Us
Md. Razib Hossain - (Kushtia)
প্রকাশ ০৪/০৪/২০২১ ১১:১৯এ এম

শৈশবে খুব মিশুক প্রকৃতির মেয়ে ছিলেন অপু বিশ্বাস

শৈশবে খুব মিশুক প্রকৃতির মেয়ে ছিলেন অপু বিশ্বাস Ad Banner

তারকা খ্যাতির আগে এবং চলচ্চিত্রে কাজের প্রথম দিনগুলোতে মার্কেট-বিপণিকেন্দ্রে নিজেই গিয়ে পছন্দসই ঈদের নতুন পোশাক কিনতেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। ঈদের দিনে বান্ধবীদের বাসায় বেড়াতে যেতেন। দাওয়াত খেতেন এবং বিকেল গড়ালেই বান্ধবীদের নিয়ে শহর চষে বেড়াতেন।  অপু বিশ্বাসের বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া এসকে লেনের বহুতলবিশিষ্ট শেফালী ভবনে গিয়ে স্বজন এবং পাশের বাসার প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এমন তথ্য। 

অপু বিশ্বাস যখন চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেননি, তখন ঈদ উপলক্ষে শহরে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। অপু বিশ্বাসের বগুড়ার বাসা শেফালী ভবনের দেখভাল করেন তার মামা স্বপন কুমার রায়। থাকেন ছয়তলার ফ্ল্যাটে।  স্বপন কুমার রায় বলেন, কাটনারপাড়া মহল্লায় হিন্দু-মুসলমানের সৌহার্দ্য-সম্প্রতির বসবাস দীর্ঘদিনের। এ কারণে মুসলমান সম্প্রদায়ের ঈদে এখনো ঘরে ঘরে খুশির বন্যা বয়ে যায়। মুসলমানেরা নিমন্ত্রণ করেন হিন্দু প্রতিবেশীদের। এ কারণে শৈশব থেকেই অপু বিশ্বাসের কাছে ঈদের দিনটি ছিল বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা, ফুর্তি, হই-হুল্লোড় আর খুশির দিন। 

স্বপন কুমার রায় বলেন, ঈদ এলেই বাবা-মায়ের কাছে নতুন পোশাকের আবদার করতেন অপু। নিজেই মার্কেটে গিয়ে পছন্দের জামা কিনতেন। সকালে নতুন জামা পরে বান্ধবীদের বাসায় বেড়াতে যেতেন। তবে তারকা খ্যাতির পর চলচ্চিত্রে ব্যস্ততার কারণে বগুড়ায় খুব একটা ঈদ উদযাপন করা হয়নি অপুর। সর্বশেষ সাত-আট বছর আগে একবার বগুড়ার বাসায় ঈদ করেছেন।  কাটনারপাড়ার বাসিন্দা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর আমিনুল ফরিদ বলেন, শৈশবে খুব মিশুক প্রকৃতির মেয়ে ছিলেন অপু। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও বিচরণ করতেন।  অপু তারকা খ্যাতির আগে টানা এক যুগ ছিলেন সাংস্কৃতিক সংগঠন আমরা ক’জন শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্য। নাচের তালিম নিয়েছেন বগুড়ার নৃত্যগুরু প্রয়াত আবদুস সামাদের কাছে। অভিনয় করেছেন লাইলী মজনু নৃত্যনাট্যে। 

আমরা ক’জন শিল্পীগোষ্ঠীর পক্ষে আব্দুল মোবিন জিন্নাহ বলেন, তারকা খ্যাতির আগে অপু বিশ্বাস প্রতিটি ঈদে আমরা ক’জন শিল্পীর হয়ে নাচের অনুষ্ঠান করতেন। শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তন, পুলিশ লাইনস মাঠসহ বিভিন্ন মঞ্চে সরব উপস্থিতি ছিল তার।  বাবা উপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস ও মা শেফালী বিশ্বাসের তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে সবার ছোট অপু। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে বগুড়াতেই। শিক্ষাজীবনের শুরু স্থানীয় এসওএস হারম্যান মেইনার স্কুলে। তারপর আলোর মেলা কেজি স্কুল থেকে প্রাইমারি ও ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পাঠ চুকান। সরকারি মুজিবুর রহমান কলেজে এইচএসসি ভর্তি হন। 

পরিবারের সবার কাছে তিনি অপু বিশ্বাস মেঘা নামে পরিচিত। তবে ঢাকাই চলচ্চিত্রে শুধুই অপু বিশ্বাস।  বগুড়ার সদর উপজেলার সাতমাথা এলাকার কাটনারপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। ১৯৮৩ সালের ১১ অক্টোবর অপু বিশ্বাসের জন্ম। মায়ের উৎসাহেই মূলত নাচ শিখতে শুরু করেন অপু। হাতেখড়ি বগুড়ার বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে। তারপর শিল্পকলা একাডেমী ও আমরা ক’জন এবং সবশেষে ঢাকার নৃত্যাঞ্চল।  ক্লাস নাইনে পড়া অবস্থায় নৃত্যাঞ্চল আয়োজিত একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দশম হন অপু।  অভিনয়শিল্পী আহসানুল হক মিনুর মাধ্যমে যোগাযোগ হয় গুণী নির্মাতা আমজাদ হোসেনের সঙ্গে। ২০০৪ সালে এই পরিচালকের ‘কাল সকালে’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন। তখন অপু বিশ্বাস নবম শ্রেণির ছাত্রী। 

২০০৬ এরপর এফ আই মানিক পরিচালিত ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবিতে প্রধান নায়িকা হয়ে অভিনয় করেন শাকিব খানের বিপরীতে। ছবিটি ব্যবসা সফল হওয়ার পর অপুকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। রাতারাতি তারকা বনে যান তিনি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ