মোহাম্মদ শামছুল আলম ইঞ্জিনিয়ার - (Rangamati)
প্রকাশ ০৩/০৪/২০২১ ০৯:৫৩পি এম

একজন মানবিক পুলিশ অফিসার আনোয়ার হোসেন শামীম

একজন মানবিক পুলিশ অফিসার আনোয়ার হোসেন শামীম Ad Banner

প্রিয় পাঠক, ছবিতে যে ব্যক্তি টি দেখতেছেন, তাঁর নাম আনোয়ার হোসেন শামীম। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের ৩৪ তম বিসিএস ক্যাডারের  এএসপি হিসেবে কর্মরত আছেন।

বাল্যকাল থেকেই তিনি মানব সেবা ই পরম ধর্ম জেনে সকলের প্রতি অত্যন্ত মানবিক ছিলেন।

খাগড়াছড়ি জেলার উত্তর বড় বিল নামক গ্ৰামে তিনি জন্ম গ্ৰহন করেন।২০১৮ সালের মার্চ মাসে তিনি প্রথম শ্রীমঙ্গলে র‍্যাব-৯ এ  কমান্ডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 

বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া / রাউজান সার্কেলের এএসপি হিসেবে কর্মরত আছেন। রাঙ্গুনিয়া/ রাউজান সার্কেলের এএসপি হিসেবে ২০২০ সালের অগাস্ট মাসে যোগদান করার পর, সংশ্লিষ্ট দুই থানার সেবার যে মান পরিবর্তন তিনি করেছেন তাহা এলেকার সকল জনগণের মনে সারা জাগিয়েছে। তাঁর সেবার ধরণ টাই  আলাদা। আপনি কোন কারনে তাঁর সান্নিধ্যে গেলে আপনার কল্পনার বাহিরে থাকবে আপনার প্রতি তাঁর ব্যবহার ও সেবা।

আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁহার সান্নিধ্য গিয়ে যে সব মানব সেবা নিজের চোখে দেখেছি তার কিছু বর্ননা এখানে পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরছি।

তিনি নিজের খরচে সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি ফর্ম তৈরি করে নির্দেশ দেন যে কোন ধরনের ব্যক্তি থানায় জিডি করতে আসলে যেন বিনা পয়সায় সম্মানের সহিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জিডি গ্রহণ করা হয়।

তিনি গভীর রাতে কাপ্তাই রোড দিয়ে যে সমস্ত ভারী যানবাহন চলাচল করে তাদের সেবার জন্য নিজ হাতে চা বানিয়ে খাওয়াতেন ঠান্ডার দিনে গরম পানি দিয়ে  দিয়ে ড্রাইভারদের মুখ ধুয়ে দিতেন যাতে পথিমধ্যে ড্রাইভার এর ঘুম না আসে।

আমি দেখেছি তিনি তাঁর নিম্ন পদের কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের প্রতি তাদের সালামের পূর্বে তিনি আগে সালাম দিয়ে কথা বলতে।

আমি দেখেছি তিনি রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় নিজ উদ্যোগে ঘুরে ঘুরে মানুষের অবস্থা জিজ্ঞেস করতে। দেখেছি তিনি বৃদ্ধ মায়ের বাজারের হাতের ঝুড়ি নিজ হাতে নিয়ে তার গন্তব্যের গাড়িতে তুলে দিতে। ছবির মধ্যে আপনি দেখছেন নিজের মাথায় করে চাউলের বস্তা সবার আগে বহন করে যথাযথ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। বলুন না, আপনি কি কখনো একজন বিসিএস ক্যাডার অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারেন্টেন্ড অফ পুলিশ, নিজ ইউনিফর্ম এর সাথে এভাবে চাউলের বস্তা নিয়ে চলতে কখনো দেখেছেন?

কিন্তু আনোয়ার হোসেন শামীমের বেলায় এটা বাস্তব। এটা তিনি করে দেখায়েছেন।

কোন নিন্দুক যদি বলে থাকে এটা এডিট করা আমি তার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলাম। যদি এডিট প্রমাণ করতে পারে আমি সারা জীবন তার গোলামী করবো।

এখানে আমি একজন ভালো মানুষের কর্মের বিবরণ এই জন্য দিচ্ছি যেন বাংলার প্রতিটি ঘরে আনোয়ার হোসেন শামীম এর মত লোক তৈরি হয়। মানব সেবাই পরম ধর্ম। এটা আল্লাহ স্বয়ং নিজেই বলেছেন। আমি আনোয়ার হোসেন শামীম সাহেব কে খুব কাছে থেকে দেখেছি, আমি উনার সঙ্গে আমাদের রাঙ্গুনিয়ার ঐতিহ্যবাহী একটি সামাজিক সংগঠন উল্কা সংঘের কিছুদিন আগে হয়ে যাওয়া একটি ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাশাপাশি বসার সুযোগ পেয়েছিলাম। ঐ ক্লাবের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে আমি ও ক্লাবের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক আয়োজিত আমন্ত্রিত মেহমানদের আপ্যায়নের জন্য অনেক কিছুর ব্যবস্থা করেছিলাম।

আমি ও ক্লাবের সকল সদস্য বৃন্দ আপ্রাণ চেষ্টা করেও উনাকে এক কাপ চা পর্যন্ত খাওয়াতে পারি নি। আমি যতটুকু জানি তিনি এমন একজন মানবিক পুলিশ অফিসার, যিনি নিজের বেতনের অনেকাংশ টাকা মানব সেবায় খরচ করে থাকেন। কারো কাছ থেকে কোন উপহার এমন কি কেউ আগ্রহের সহিত কিছু উপহার দিতে চাইলে তিনি কখনোই তা গ্রহণ করেননি।

কিছু দিন আগে তার ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজে  আইফোন নিয়ে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। স্ট্যাটাসে তিনি বলেছিলেন তাঁর স্বপ্ন এখন একটি আইফোন পাওয়া। ঐ

স্ট্যাটাসের পর এক ভদ্রলোক উনার সম্পর্কে না জেনে বাজে মন্তব্য করেছিল। আমি ওই ভদ্রলোকের উদ্দেশ্যে বলতে চাই হাতের পাঁচ আঙুল সমান নয়। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যদি আনোয়ার হোসেন শামীম সাহেবের মত লোক না থাকতো তাহলে এই বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে আজকে বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল হত না। জাতিসংঘের কাছ থেকে উন্নত রাষ্ট্রের চূড়ান্ত সুপারিশ কখনো পেতনা। 

হ্যাঁ, আমি আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ পুলিশের মধ্যে কিছু কিছু লোক হয়তো অমানবিক আছে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় বাংলাদেশ পুলিশের সকল লোকেরাই খারাপ। 

কারো বিষয়ে মন্তব্য করার পূর্বে ভালো করে জেনে মন্তব্য করাই উত্তম বলে আমি মনে করি। আনোয়ার হোসেন শামীম সাহেব এমন একজন মানুষ যিনি নিজে না খেয়ে ও একজন ক্ষুধার্ত কে খাওয়ার দিয়ে নিজের পরিপূর্ণ তৃপ্তি লাভ করেন।

তিনি যখন শ্রীমঙ্গল র‍্যাব৯  এ কর্মরত ছিলেন তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি করোনা রোগীর সেবা করেছিলেন। আমি বাংলার প্রতিটি থানায় এই ধরনের মানবিক পুলিশের বিস্তার হোক এই কামনা করি।



শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ