About Us
Md Rejaul Karim - (Dinajpur)
প্রকাশ ০৩/০৪/২০২১ ০৩:৩৫পি এম

মৃতপ্রায় করতোয়া নদীটি নাব্যতা হারিয়েছে

মৃতপ্রায় করতোয়া নদীটি নাব্যতা হারিয়েছে Ad Banner

করতোয়া নদী বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলায় উৎপত্তি লাভ করেছে। অতঃপর এই নদীর জলধারা বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলার ভোজনপুর ইউনিয়ন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং দিনাজপুর সদর উপজেলার সরকারপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে আত্রাই নদীতে পতিত হয়েছে।  করতোয়া নদী প্রায় ১২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ। বগুড়া শহরের বুক চিরে নদীটি উত্তর-দক্ষিণ আড়াআড়িভাবে প্রবাহিত। আগে করতোয়া নদীর সঙ্গে মূল করতোয়া নদীর সংযোগ ছিল। এখন উৎসমুখে জলকপাটের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে করতোয়ার পানিপ্রবাহ। পরিবেশবাদী ও নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করতোয়া নদীর অবস্থা খুবই নাজুক।

উৎসমুখে জলকপাটের কারণে নদীটি অনেক আগেই নাব্যতা হারিয়েছে। রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলাধীন টুকুরিয়া ইউনিয়নে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া সেতু  স্থাপিত। ইহা পীরগঞ্জ উপজেলার সদর থেকে ১৯ কিলোমিটারে পশ্চিমে অবস্থিত। এখানে বাস টেম্পু, মটরসাইকেল, রিক্সা, ভ্যান প্রভৃতি যানবাহনের মাধ্যমে উপজেলা সদর খেকে খালাশপীর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার সংগে যোগাযোগ করা যায়। 

একসময় খরস্রোতা এই নদীতে নৌকা চলত, জেলেরা মাছ ধরতেন, নৌকাবাইচে মেতে উঠত নদীপারের মানুষ। নদী ঘিরেই ছিল এখানকার কৃষি, অর্থনীতি, যোগাযোগ ও সংস্কৃতি। বর্তমানে করতোয়া নদীটির নাব্যতা হ্রাস পেতে পেতে এখন তা মরা খাল ও চাষের জমিতে রুপান্তরিত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ৩-৪ মাস করতোয়ার বুকে কিছুটা পানি প্রবাহ থাকলেও সারা বছর করতোয়া আর নদীরূপে থাকে না। বর্তমানে এ নদীটি মৃতপ্রায়। নদীর সব রূপ-লাবণ্য হারিয়ে মরা খালে পরিণত হচ্ছে।  পানিশূন্য হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে নদী। এলাকার সাধারণ মানুষ নদী পারাপার হচ্ছেন পায়ে হেঁটেই। নদীর বুক জুড়ে চাষ করা হয়েছে ধান ও সরিষাসহ নানা রকম ফসল। নদীর এমন করুন দুর্দশার প্রভাব পড়েছে নদী তীরবর্তী প্রামগুলোর কৃষক সহ জেলে পরিবারগুলোর জীবনেও।

বোরো মৌসুমে এই নদীর পানির মাধ্যমে সেচ দিয়ে এলাকার কৃষকরা তাদের জমি চাষাবাদ করতেন। কিন্তু নদীতে পানি না থাকায় কৃষকরা তাদের বোরো চাষ করতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অপরদিকে এই করতোয়া নদীই ছিল নদী তীরবর্তী জেলে পরিবারগুলোর জীবিকা নির্বাহের অন্যতম উপায়।  পাউবোর কর্তৃপক্ষ বলছে , হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন নদীতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সিএস নকশা অনুযায়ী নদী খনন করা ছাড়াও পানি ধরে রাখার জন্য   একটি নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে। এর মাধ্যমে নদীর উৎসমুখে নতুন করে জলকপাট নির্মাণ  , তরল বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ করা হবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ