MD.KAMRUZZAMAN SOHAG - (Kushtia)
প্রকাশ ০৩/০৪/২০২১ ০৩:১১পি এম

চাঁদপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ

চাঁদপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ Ad Banner

জোটে যদি একটি পয়সা খাদ্য কিনিও খুধার লাগি, জোটে যদি দুটি পয়সা অর্ধেকে ফুল কিনে নিও হে অনুরাগী। হ্যাঁ এক সময়ে এদেশে ফুল কেনার মানুষ খুঁজে পাওয়া না গেলেও আজ তা ফুল প্রেমির হাত গড়িয়ে বাণিজ্যিক পন্যের দোর গোড়ায় পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে।  বলছি সূর্যমুখীর কথা। এর সৌন্দর্য নজরকাড়ে ফুল প্রেমিক জনসাধারণের, তাঁর সাথে সৌন্দর্য বাড়ে কৃষি মাঠের। মাঠ জুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহে চোখ জুড়ায় দর্শনার্থীদেরও। আর এ দৃশ্যের দেখা মিলছে চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলায় ।

এর মধ্যে কচুয়া উপজেলার ডুমুরিয়া, কালঁচো, সাচার, পালাখাল, রহিমানগরহ বিভিন্ন এলাকায় হচ্ছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ।  কম সময় আর স্বল্প খরচে ভালো লাভ পাওয়ায় চাষীরাও বেশ খুশি। তবে শুধু কচুয়াতেই নয়, সূর্যমূখী ফুলের চাষ হয়েছে হাজীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক বড় মসজিদ সংলগ্ন উত্তর পাশের মাঠে, হাটিলা ইউনিয়ন, ৫নং সদর ইউনিয়ন, কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়ন ও চাঁদপুর সদরের কুমারডগী গ্রামেও।  চাষিরা বলেন, সূর্যমূখী চাষে এক বিঘা জমিতে খরচ হয় ৮-১০ হাজার টাকা। সামান্য রাসায়নিক সার আর দুইবার সেচ দিতে হয়। নভেম্বরে বীজ বপনের পর ৮০ থেকে ৯৫ দিনের মধ্যে তোলা যায়।

প্রতি এক বিঘা জমি থেকে উৎপাদিত বীজ থেকে আয় হবে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। সূর্যমুখী গাছ জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। অন্য ফসলের তুলনায় খরচ কম, সে কারণে লাভ বেশি হওয়ার কারণে এই ফুলের চাষে অধিক মনোযোগী হয়ে উঠেছেন এখানকার চাষিরা। আগামীতে আরও চাষের আগ্রহ প্রকাশ করছেন কেউ কেউ।  ফুল চাষিরা জানান, জেলার সর্বত্র সূর্যমুখী চাষ বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ ফুলেই পাওয়া যায় বীজ। আর সেই দৃষ্টিকাড়া ফুলের মধ্যে কেউবা সেলফি, কেউবা স্বজন নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছবি তুলতে ভিড় করছে সব বয়সের নারী পুরুষ। সরকারি কর্মকর্তারাও পরিবার-পরিজন নিয়ে সেখানে ছুটে যাচ্ছেন।  কৃষকরা জানান, প্রকৃতিপ্রেমী শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ এই ফসলগুলো নষ্ট করবেন না।

আপনারা যদি সুর্যমুখী আবাদ করতে চান প্রত্যেক উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে যোগা-যোগ করলে আপনাদের আগামীদিনে সার্বিক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। সূর্যমুখী চাঁদপুর জেলায় আগামীদিনের সম্ভবনাময়ী অর্থকরী তৈল ফসল। এটি নষ্ট করে কৃষককে অনাগ্রহ না করতে বিশেষ অনুরোধ করেন কৃষকগণ।  এই বছর চাঁদপুরে পরীক্ষা মূলকভাবে সূর্যমুখী ফুলের চাষাবাদ শুরু করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর । সূর্যমুখীর তৈলকে জনপ্রিয় করতেই এ উদ্যোগ তাদের। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসেন আগ্রহী চাষীরা। পরামর্শ ও বীজ নিয়ে অনেকেই এখন সূর্যমুখীর আবাদ শুরু করেছেন।

চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলাগুলোতে চাষীরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে সূর্যমুখীর আবাদ শুরু করেছেন। সূর্যমুখী বীজ একটি লাভ জনক শস্য। সূর্যমুখী তৈলের নানাবিধ স্বাস্থ্যগত গুনাগুন রয়েছে। সূর্যমুখী তৈলের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্রমাগত । ফলে সূর্যমুখী ফুলের চাষাবাদ জনপ্রিয় করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করা হচ্ছে। চাষীদের প্রশিক্ষণ, বীজসহ নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে।  ভবিষ্যতে চাঁদপুরে সূর্যমুখী ফুলের চাষ ব্যাপক বিস্তার লাভ করবে বলে অাশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন কৃষি কর্মকর্তারা।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ