About Us
Rakib Monasib
প্রকাশ ০৩/০৪/২০২১ ০২:২৫পি এম

ছুটির দিনেও ব‌ইমেলায় বাড়েনি বিক্রি

ছুটির দিনেও ব‌ইমেলায় বাড়েনি বিক্রি Ad Banner

ছুটির দিন হওয়ায় গতকাল দুপুরের পর থেকেই বইমেলায় পাঠক-দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। কিন্তু ভিড় বাড়লেও কাটেনি বিক্রির খরা। প্রকাশকরা বলছেন, ছুটির দিন হিসেবে গতকাল পাঠক-দর্শনার্থীর উপস্থিতি আশানুরূপ ছিল। কিন্তু আচমকা বইমেলার সময় কমিয়ে দেয়ার ফলে বেচাবাট্টা তেমন জমে ওঠেনি।   

জিনিয়াস পাবলিকেশন্সের প্যাভিলিয়নে বই দেখছিলেন আরিফ হোসেন। রাজধানীর বাড্ডা থেকে সপরিবারে এসেছেন তিনি। পেশায় সরকারি কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় এসেছি। কিন্তু যে সময় বেঁধে দিয়েছে ওই সময়ের মধ্যে মেলার এক কোনাও ঘুরে দেখতে পারব বলে মনে হয় না।    ঝিঙে ফুল স্টলে কথা হয়েছে সুলতানা রিমির সঙ্গে। ছুটির দিন হওয়ায় তিনিও দুই সন্তানসহ মেলায় এসেছেন। তিনি বলেন, ঘরে কাজ সামলে আসতে আসতে বেলা ৪টা বেজে গেছে। একটু পর বেরিয়ে যেতে হবে।    বিভিন্ন স্টলের বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেলা ১১টায় মেলা শুরু হলেও দুপুরের আগে দর্শকদের উপস্থিতি প্রায় ছিল না বললেই চলে।

কিন্তু জুমার নামাজের পর রীতিমতো উপচে পড়া ভিড় শুরু হতে থাকে। সময় প্রকাশনের প্যাভিলিয়নের বিক্রয়কর্মীরা বলেন, মেলার ভিড় দেখে আশা জেগেছিল, ভালো বিক্রি হবে। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকান বন্ধ করে দেয়ার কারণে সে আশায় গুড়েবালি। অনন্যা প্রকাশনীসহ একাধিক প্যাভিলিয়নের বিক্রয়কর্মীরা জানান, শুক্রবারগুলোতে বেচাবাট্টা ভালো হয়। কিন্তু আজ (গতকাল) তাও হলো না।   

প্যাভিলিয়নের চেয়ে স্টল মালিকদের বেচাকেনার অবস্থা আরো খারাপ। সালাউদ্দিন বইঘরের স্বত্বাধিকারী মো. সালাউদ্দিন বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ছুটির দিনে আমরা ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতাম। এবার ছুটির দিনে ৫-১০ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এ শুক্রবার তাও হলো না।    বইঘর প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মাহমুদুর রহমান বলেন, ছোট ও মাঝারি প্রকাশকদের অবস্থা খুবই করুণ। দৈনিক দোকান খরচ ও স্টাফদের বেতন তোলার মতো বিক্রিও হচ্ছে না।

এরই মধ্যে অনেক টাকাই আমরা বিনিয়োগ করে ফেলেছি। এভাবে চলতে থাকলে প্রকাশনা শিল্পের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে বলেও মন্তব্য করেছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রকাশকরা।    বারবার বাংলা একাডেমির ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল দিচ্ছেন প্রকাশকরা। এবার মাঝারি ও ক্ষুদ্র প্রকাশকদের পথে বসানোর শেষ পদক্ষেপটিও সম্পন্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক বিক্রেতা সমিতির পরিচালক কাজী জহুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বাংলা একাডেমির স্টল বিন্যাস থেকে শুরু করে মেলা পরিচালনার পুরো বিষয়টিতেই অদূরদর্শিতার ছাপ রয়েছে।

সর্বশেষ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মেলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রকাশকদের ফতুর করে দেয়ার পদক্ষেপ ছাড়া আর কী বলা যায়।  জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ বলেন, স্টল বিন্যাসের কারণে শুরু থেকেই প্রকাশকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মেলা বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রকাশকদের ক্ষতি আরো বাড়িয়ে দিল। চলমান করোনা পরিস্থিতিতেও প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতির চাকা সচল রাখার সিদ্ধান্ত নেয়ায় আমরা সীমাহীন আনন্দিত। আমাদের আবেদন থাকবে, যতক্ষণ ব্যাংক ও বিপণিবিতান খোলা থাকবে, ততদিন পর্যন্ত যেন মেলা বন্ধ করা না হয়।   

তিনি আরো বলেন, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজির কাছে আমরা আবেদন জানিয়েছি, মেলার সময়টা যেন বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত করা হয়। তাহলে আশা করা যাচ্ছে, আমাদের ক্ষতি কমে আসবে। মহাপরিচালক আমাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।    সার্বিক বিষয়ে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, প্রকাশকদের সুবিধার জন্যই আমরা ফেব্রুয়ারির মেলা মার্চে শুরু করেছি। করোনার ওপর তো কারো হাত নেই। হঠাৎ করোনা পরিস্থিতির অবনতির কারণে মেলার সময় কমানো হয়েছে। সময় বাড়ানোর ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত এলে সেটা জানিয়ে দেয়া হবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ