Rakib Monasib
প্রকাশ ০৩/০৪/২০২১ ০২:০৬পি এম

সাইবার অপরাধীদের টার্গেট শিশুরা

সাইবার অপরাধীদের টার্গেট শিশুরা Ad Banner

প্রযুক্তির উন্নয়নের এ যুগে দিন দিন অনলাইন গেমের বিস্তৃতি ও ব্যবহার বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে সাইবার সন্ত্রাসীদের আক্রমণের আশঙ্কা। যার মধ্যে রয়েছে, শিশুদের কাছে আপত্তিকর বিষয়বস্তুর উন্মোচন, সাইবার বুলিং, জুয়া ও মাদকের প্রতি আসক্তি। 

সাইবার নিরাপত্তা ও পলিসি বিশেষজ্ঞদের সংগঠন সাইবারপিস ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বে গেমিং খাতের ব্যাপক বিস্তৃতি ও উন্নয়ন হবে। সেই সঙ্গে সাইবার ক্রাইম, সাইবার বুলিং বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই এ ব্যাপারে সরকার, অভিভাবক ও গেমার কমিউনিটির সতর্ক থাকা প্রয়োজন।  অনলাইন গেমের বিভিন্ন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ এবং এসব থেকে উত্তরণে গেমার, অভিভাবক ও সরকারের করণীয় শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, অনলাইন গেমের মাধ্যমে সাইবার সন্ত্রাসীরা শিশুদের পর্নোগ্রাফির ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। এছাড়াও এ প্লাটফর্মে শিশুরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়।

যার ফলে মানসিক অবসাদসহ শিশুদের মধ্যে আত্মহত্যা করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এ সমস্যার হার আরো বৃদ্ধি পায় যখন কেউ এসব শিশুর ব্যাপারে জানতে পারে এবং তথ্য অন্যদের জানিয়ে বিপদের সৃষ্টি করে।  অধিকাংশ গেমেই গেমারদের একটি লম্বা সময় বসে থাকতে হয়। এর ফলে মানসিক চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি গেমাররা ধমণীতে রক্ত জমাট বাঁধা, ক্যানসার, হার্টের সমস্যা, লিভারের সমস্যা ও কারপাল টানেল সিনড্রোমসহ মারাত্মক কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার মুখে পড়েন।  দীর্ঘ সময় কম্পিউটার কিংবা স্মার্টফোনের নীল আলোতে তাকিয়ে থাকলে সেটি চোখের ক্ষতি করে এবং ঘুমের সময় ব্যাঘাত ঘটায় বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

মাল্টিপ্লেয়ার মোবাইল গেমে গেমাররা ইন-অ্যাপ বা ইন-গেম পারচেজ করার সুযোগ পেয়ে থাকেন।  গেম টাকা দিয়ে কিনে খেলার চেয়ে পাইরেটেড কপি ডাউনলোড করে খেলার ক্ষেত্রে গেমাররা বেশি আগ্রহী। আর সাইবার সন্ত্রাসীরা এ ব্যাপারে বেশ অবগত। এ কারণে তারা এসব গেমের পাইরেটেড কপির ভেতর ম্যালওয়্যার ইনস্টল করে দেয়। এর ফলে সহজেই গেমারদের পিসিতে এসব ম্যালওয়্যার ঢুকে যায় এবং সন্ত্রাসীরা সহজেই ইউজারদের তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে।  সাইবারস্পেস ফাউন্ডেশনের তথ্যানুযায়ী, গেমস অথবা ভার্চুয়াল মাধ্যমে যে লেনদেন করা হয় এর মাধ্যমে প্রায়ই অর্থ পাচার হয়ে থাকে।  আকামাই টেকনোলজিসের এক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত গেমিং খাতে ১২০০ কোটি বার সাইবার হামলা হয়েছে। 

এ হামলার তথ্য এটাই প্রমাণ করে যে গেমের ফোরাম, অ্যাকাউন্টসহ অন্যান্য মাধ্যমে গেমাররা তাদের যেসব ব্যক্তিগত ও অর্থনৈতিক লেনদেনের তথ্য রেখে যান, সেগুলো হাতিয়ে নেয়ার জন্য সাইবার সন্ত্রাসীরা সব সময় সুযোগ খুঁজতে থাকেন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ