sk deen mahmud
প্রকাশ ০৩/০৪/২০২১ ১১:৫৪এ এম

পাইকগাছায় নির্বাচনী সহিংসতায় পাল্টাপাল্টি মামলা

পাইকগাছায় নির্বাচনী সহিংসতায় পাল্টাপাল্টি মামলা Ad Banner

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে নির্বাচনী পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে পাইকগাছার সোলাদানায় আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী আব্দুল মান্নান গাজীর কর্মী-সমর্থক ও বিএনপির নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও বর্তমানে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এস এম এনামুল হকসহ তার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সৃষ্ট সংঘর্ষের ঘটনায়। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে।  পৃথক দু’টি মামলায় ১৮৫ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত আরো ২১০ জনকে আসামী করা হয়েছে।  ঘটনায় ২৮ মার্চ প্রথম মামলাটি করেন, আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মান্নান গাজীর ভাই রবিউল ইসলাম।

মামলায় ৬৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫০/৬০ জনকে আসামী করা হয়েছে। যার নং-৩১।  এর দ’ুদিন পর ৩০ মার্চ বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম এনামুল হক বাদী হয়ে ১২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১০০/১৫০ জনকে আসামী করে পাইকগাছা থানায় দ্বিতীয় মামলা করেছেন। যার নং-৩৩।  ঘটনার বিবরণ ও মামলায় জানানো হয়, গত ২৭ মার্চ সকালে উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের সতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম এনামুল হক এর কর্মী-সমর্থকদের ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদ্রাসা মোড়ে নির্বাচনী পোষ্টার টানানোকে কেন্দ্র করে আ’লীগের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অন্তত ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।  এতে বিএনপির নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও বর্তমান স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুলহকসহ উভয় পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে পাইকগাছা হাসপাতাল ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিলেও চেয়ারম্যান এনামুলসহ এদের কয়েক জনের অবস্থার গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।  সংকটাপন্ন হওয়ায় এনামুল হককে সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ'তে স্থানান্তর করা হয়। 

ঐদিন হাসপাতালে আহতদের ছবি ও তথ্য সংগ্রহে গেলে আওয়ামীলীগের কর্মী-সমর্থকরা স্থানীয় সাংবাদিক আছাদুল ইসলাম ও ফসিয়ার রহমান নামে দু’ সংবাদ কর্মীকে শারীরীকভাবে লাঞ্ছিত করে তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় বলেও অভিযোগ করা হয়।  এ ঘটনায় পরের দিন আব্দুল মান্নান এর ভাই রবিউল ইসলাম রবি বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় ৬৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫০/৬০ জনকে আসামী করে একটি মামলা করেন। যার নাম্বার ৩১। অপরদিকে চেয়ারম্যান এনামুল হক গুরতর অসুস্থ থাকায় ঘটনার ৩ দিন পর ১২২ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অপর মামলাটি করেন। যার নং ৩৩। 

ঘটনার দিনই পাইকগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে আটক করেন। দু’টি মামলারই তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে থানার ওসি (তদন্ত) আশরাফুল আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।  সর্বশেষ এলাকায় সব ধরনের নিরাপত্তায় পুলিশ বিশেষ নজরদারি বলবৎ করেছে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে নির্বাচন স্থগিতের খবরে উভয় পক্ষের মধ্যে নিস্তব্দতা বিরাজ করছে।  এব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) আশরাফুল আলম বলেন, ঘটনায় সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করা হবে। মামলায় অহেতুক নিরীহ কাউকে হয়রাণি করা হবেনা।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ