About Us
MD Alim Uddin
প্রকাশ ০২/০৪/২০২১ ০৮:৩২পি এম

হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী Ad Banner

হজরত ইব্রাহিম (আ.) জন্মগ্রহণ করেন ইরাকের উর নগরীতে। তার বাবা ছিলেন মূর্তি নির্মাতা এবং পুরোহিত। হজরত ইব্রাহিম (আ.) মূর্তিপূজার অসারতা উপলব্ধি করেন ছোটবেলাতেই। বলেন, সূর্য, চাঁদ, আকাশের তারা কিংবা সৃষ্ট কোনো জীব মানুষের উপাস্য হতে পারে না। এগুলোর মূর্তি বানিয়ে পূজা করার মধ্যেও নেই কোনো সার্থকতা। যে সত্ত্বা সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা তিনিই হতে পারেন একমাত্র উপাস্য। 

হজরত ইব্রাহিম (আ.) একেশ্বরবাদের আধ্যাত্দিক চেতনাকে ইরাক, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, আরব, মিসর বা ধারে-কাছের সব ভূখণ্ডে ছড়িয়ে দেন। তার জীবদ্দশাতেই একেশ্বরবাদের পতাকা অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত হজরত ইব্রাহিম (আ.)- ছিলেন নিঃসন্তান।

এ জন্য তিনি মনোকষ্ঠে ভুগতেন। ৮৬ বছর বয়সে আল্লাহ তার প্রতি সদয় হন। দ্বিতীয় স্ত্রী হাজেরার গর্ভে জন্ম নেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)। ইসমাইলের জন্মের ১৪ বছর পর তার প্রথম স্ত্রী সারা গর্ভবতী হন। তার গর্ভে জন্ম নেন হজরত ইসহাক (আ.)। উল্লেখ্য, ইসমাইলের বংশধরদের দ্বারা গড়ে ওঠে আরব জাতি। হজরত ইসহাক (আ.)-এর বংশধররা পরিচিতি লাভ করে ইসরায়েলি জাতি হিসেবে। ইসরায়েলিদের মধ্যে জন্ম নেন হজরত মুসা এবং হজরত ঈসা (আ.)।

ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মের প্রবর্তক হিসেবে তাদের ভাবা হয়। ইসমাইলের বংশধর আরব জাতির মধ্যে আত্দপ্রকাশ করেন মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.)। হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রথম স্ত্রী সারা'র চাপে শিশুসন্তান ইসমাইলসহ হাজেরাকে নির্বাসনে দিতে বাধ্য হন। হাজেরা ছিলেন মিসরীয় বংশোদ্ভূত দাসী। তাকে নির্বাসন দেওয়া হয় আজকের মক্কা নগরীর মরুময় বিরান প্রান্তরে।

সেখানে এক পর্যায়ে সঙ্গে আনা খাদ্য ও পানীয় শেষ হয়ে যায়। শিশু ইসমাইল (আ.) ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কান্নাকাটি শুরু করেন। সেই বিরান প্রান্তরে শিশুকে এক ঝোপের নিচে রেখে পানির জন্য ছোটাছুটি করেন বিবি হাজেরা।

পরিশেষে ক্লান্ত হয়ে শিশু পুত্রের কাছে এসে দেখেন তার পায়ের আঘাতে সৃষ্টি হয়েছে পানির ফোয়ারা। সাড়ে চার হাজার বছর ধরে এ জলাধারটি জমজম কূপ নামে পরিচিত। প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ এ কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করলেও মরু প্রান্তরের এ জলাধার এখনো সমানভাবে তার অস্তিত্বের ঘোষণা দিয়েই চলছে। ইসমাইল (আ.) যখন কিশোর তখন হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্ন দেখেন আল্লাহ তাকে তার প্রিয় বস্তু কোরবানির নির্দেশ দিচ্ছেন। এ স্বপ্ন দেখে হজরত ইব্রাহিম (আ.) ১০০ গবাদিপশু কোরবানি দেন।

দ্বিতীয় দিনও তিনি দেখেন অভিন্ন স্বপ্ন। এবারও তিনি ১০০ গবাদিপশু কোরবানি দেন। তৃতীয় রাতেও তাকে প্রিয় বস্তু কোরবানি দিতে বলা হয়। হজরত ইব্রাহিম (আ.) উপলব্ধি করেন ইসমাইল তার সবচেয়ে প্রিয়। আল্লাহ তাকেই কোরবানির নির্দেশ দিয়েছেন।

সে নির্দেশ পালিত হয়নি বলেই বার বার একই স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে।  এ উপলব্ধি কঠিন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দেয় ইব্রাহিম (আ.) কে। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের জয় হয়। হজরত ইব্রাহিম (আ.) সিদ্ধান্ত নেন যত কষ্টকরই হোক- আল্লাহর হুকুমই তিনি পালন করবেন। তিনি ছুটে যান হাজেরার কাছে। তার কাছ থেকে নিয়ে আসেন প্রাণপ্রিয় পুত্রকে। তাকে কোরবানি দেওয়ার জন্য নিয়ে চলেন দূরবতী ময়দানের দিকে।

মাঝ পথে ইসমাইল (আ.)কে জানান ঐশী আদেশের কথা। ইসমাইল (আ.) বলেন, আল্লাহর রাহে কোরবানি হওয়া তো সৌভাগ্যেরই ব্যাপার। মিনা ময়দানে পুত্রকে কোরবানির জন্য প্রস্তুত হন আল্লাহর নবী।

আপত্য স্নেহ আল্লাহর নির্দেশ পালনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ভেবে হজরত ইব্রাহীম (আ.) কোরবানির আগে নিজের চোখ বেঁধে নেন। তারপর পুত্রের গলায় চালান ধারালো ছুরি। কোরবানি শেষে চোখ খুলেই দেখেন পাশে দাঁড়িয়ে পুত্র ইসমাইল।

তার বদলে একটি দুম্বা জবাই হয়ে আছে। ফেরেস্তা এসে নবীকে জানান আল্লাহ তার উৎসর্গীত মনোভাবে খুশি হয়েছেন। তিনি তার কোরবানি গ্রহণ করেছেন। 

হজরত ইব্রাহিম ও ইসমাইল (আ.) আল্লাহর নির্দেশে কাবাঘর পুনঃনির্মাণ করেন। কাবা ঘর প্রদক্ষিণের নিয়মও প্রবর্তন করেন তারা। হজ উপলক্ষে হজব্রত পালনকারীরা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি অনুসরণে কোরবানি দেন। এ নিয়মও চলে আসছে সাড়ে চার হাজার বছর ধরে। 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ