About Us
এসএম হাসান আলী বাচ্চু - (Satkhira)
প্রকাশ ০২/০৪/২০২১ ০৫:৫৩পি এম

তৃষ্ণায় স্বস্তির রসালো ফল তরমুজ আসতে শুরো করেছে তালা উপজেলায়

তৃষ্ণায় স্বস্তির রসালো ফল তরমুজ আসতে শুরো করেছে তালা উপজেলায় Ad Banner

গ্রীষ্মের প্রখর রোদ্রে তৃষ্ণায় স্বস্তির রসালো ফল তরমুজ।দুপুরে প্রশান্তির জন্য তরমুজের একটি ফালি যথেষ্ট। সারা বছর কম-বেশি দেখা মিললেও মৌসুমি এই ফলটি এখন পুরোদমে বাজারে আসতে শুরু করেছে। 

শুক্রবার (২এপ্রিল) উপজেলার তালা বাজার, পাটকেলঘাটা বাজার, জেঠুয়া বাজার ও জাতপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফলের দোকানগুলোয় থরে থরে তরমুজ সাজানো আছে। মৌসুমি তরমুজ গত ১৫-২০ দিন ধরে আসতে শুরু করেছে। বাজারভেদে তরমুজের দামের পার্থক্য রয়েছে। দোকানগুলোতে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন আকারের এসব তরমুজ। মৌসুমি নতুন এই ফলের স্বাদ গ্রহণে দাম বেশি হলেও বিত্তবানরা কিনছেন স্বাচ্ছন্দে। তবে দাম বেশি হওয়ায় ইচ্ছে থাকলেও কিনতে পারছেন না নিম্ন আয়ের মানুষজন।

এক নজরে তরমুজ

তরমুজ  এর ইংরেজি নাম ওয়াটারমেলন ও বৈজ্ঞানিক নাম সিট্রুলাস ল্যান্যাটাস । তরমুজে প্রচুর পানি থাকে। ফলটিতে ৯২ শতাংশ পানি, ছয় শতাংশ চিনি ও দুই শতাংশ অন্যান্য উপাদান আছে। তরমুজে খুব সামান্য ক্যালরি আছে। তাই তরমুজ খেলেও ওজন বৃদ্ধির কোনো আশঙ্কা থাকে না। শরীরে পানির অভাব পূরণে ফলের মধ্যে তরমুজই হলো আদর্শ ফল। তরমুজে আছে পর্যাপ্ত ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম ও আঁশ।

মৌসুমি এই ফলটির রয়েছে নানা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তরমুজ হলো ভিটামিন ‘বি৬’-এর চমৎকার উৎস, যা মস্তিষ্ক সচল রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তরমুজে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি খেলে দেহের অক্সিডেটিভ স্ট্রোজনিত অসুস্থতা কমে। এই ফলটি নিয়মিত খেলে প্রোস্টেট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে না।

তরমুজের আরো একটি গুণ হলো এটি চোখ ভালো রাখতে কাজ করে। তরমুজে ক্যারোটিনয়েড থাকায় এ ফলটি চোখ ও দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। একইসঙ্গে চোখের নানা সমস্যার প্রতিষেধক হিসেবেও কাজ করে তরমুজ। চিকিৎসকেরা বলেন, ক্যারোটিনয়েড রাতকানা প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। তরমুজে প্রচুর পানি ও কম ক্যালরি থাকায় পেট পুরে তরমুজ খেলেও ওজন বাড়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, তরমুজে থাকা উচ্চ পরিমাণে সিট্রুলিন মানব দেহের ধমনির কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে ও রক্তচাপ কমিয়ে দেয়।

বাজারের ডিম বিক্রেতা স্বাক্ষর বলেন, বাজারে নতুন ফল উঠলে সবার মন চায় তা খেতে, কিন্তু ইচ্ছে থাকলে আর কি হবে! আমাদের আয় বুঝে ব্যয় করতে হবে। সারা দিন ডিম বিক্রি করে ২/৩শ টাকায় আয় হয় তা দিয়ে কোনোরকম সংসার চালাতে হয়। কিন্তু এখন একটি তরমুজ কিনতে ন্যূনতম ১ হতে ২শত টাকা লাগবে। তাই হিসেব করে চলতে হয়, সে কারণেই এত দাম দিয়ে ফল কিনে খাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। 

ইজি বাইক চালক সাগর বলেন, বাজারে তরমুজ দেখে ছেলে মেয়েরা বায়না ধরেছে তরমুজ খেতে। কিন্তু চোখের সামনে নতুন ফল দেখেও দাম বেশি বলে কিনতে পারছি না।

বর্তমানে যে দাম তার কারণে আমাদের মতো এই আয়ের মানুষদের তরমুজ খাওয়ার স্বাদ মেটানো সম্ভব নয়, কয়েক দিন গেলে যখন দাম কমে আসবে তখন কিনে ছেলে মেয়েদের তরমুজ খাওয়ার শখ মেটাবো।

বাজারের ফল বিক্রেতা সামাদ শেখ জানান, বর্তমানে অনেক দূরের  মোকাম থেকে তরমুজ কিনে তালা বাজারে বিক্রি করছি। মোকামে তরমুজের ব্যাপক আমদানি থাকলেও চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেশি। তাই বাধ্য হয়ে আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বাজারে আমাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। 

দেশের বিভিন্ন স্থানে তরমুজ উঠতে শুরু করলে বাজারে সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে। বর্তমানে আবহাওয়া বেশ গরমের কারণে তরমুজ বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে।

ফল বিক্রেতা মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ১৫-২০ দিন হলো মৌসুমি তরমুজ আমরা দোকানে ওঠাতে পেরেছি। মাত্র বাজারে আসায় এখন দাম একটু বেশি। আমরা ২৫-৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। বাজারে যখন পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকবে তখন হয়তো দাম একটু কমবে। বাজারে থাই তরমুজ সারা বছরই পাওয়া যায়। তবে মৌসুমি তরমুজটা কয়েকমাস থাকে।



শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ