About Us
Azizur Rahman babu - (Shariatpur)
প্রকাশ ০২/০৪/২০২১ ১০:৫৩এ এম

করোনা প্রতিরোধে সরকারের করণীয়

করোনা  প্রতিরোধে সরকারের করণীয় Ad Banner

করোনা আঘাত দিনকে দিন বেড়েই চলছে। গতকাল মৃত্যু হয়েছে ৫৯ জনের - আজ হয়তবা ৭০ ছাড়িয়ে যেতে পারে ? কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না । সরকারের যথাযথ মহল এবিষয়ে  কঠোর নজরদারিতেও নেই। কাগজ কলমে নির্দেশনা দায়সারা গোছের - কর্তব্য শেষ। করোনার বর্তমান সাইডএফেক্ট ও পরিবর্তিত হয়েছে । সামনে রোজা, পবিত্র ঈদুল ফিতর।

সমাজের যারা নিম্নবিত্ত - নিম্ন মধ্যবিত্ত তাদের জীবন যাপন পালনে কঠোর ঝুঁকির সম্মুখীন। বাজারে চাল,ডাল, তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে হতাশ।  কী করবে সাধারণ জনগন ?   যেসব পরিবার মাসিক একটা নির্দিষ্ট আয়ের উপর নির্ভরশীল। তাদের মাসিক রোজগার বন্ধের পথে । হতাশ জনজীবন। সরকারের জরুরী পদক্ষেপ নেওয়া এখনই সময়।  করোনার প্রভাব ভয়াবহ। সময় থাকতে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্হা না নিলে - আগামী ২/৪ দিনে মৃত্যুহার কোথায় গিয়ে দাড়াবে তা সহজেই বোঝা যায়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়,স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও কেন কার্যকরি পদক্ষেপ নিচ্ছে না  ?     

যেসব পদক্ষেপ নেয়া জরুরী     (১) প্রতিটি থানা, উপজেলা,জেলা পর্যায়ে ওয়ার্ড ভিত্তিক উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন মনিটরিং টীম গঠন করা উচিত । যাতে জনগনের আস্হা থাকে। রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃস্থানীয়দের পরামর্শক হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা যেতে পারে।     

(২) মনিটরিং টীমে একজন সরকারী কর্মকর্তাকে প্রধান করে সহযোগী চার জন সাধারণ সদস্যদের সমন্বয়ে  স্বেচ্ছাস্রমের  ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা।   

(৩) প্রতি  মনিটরিং টীমে একজন মেডিসিন চিকিত্সক  নিয়োগ করতে হবে । জেলা পর্যায়ে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সককে জেলার সকল থানা, উপজেলার সকল "করোনা নিরাময় কেন্দ্র " এর তত্তাবধায়কের দায়িত্ব পালন করবেন।     

(৪) স্হানীয় কলেজ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩/৪ কক্ষকে " করোনা নিরাময় কেন্দ্র " হিসেবে  সাময়িক ভাবে নির্ধারণ করা ।   

(৫) থানা বা উপজেলার অধীন "করোনা  নিরাময় কেন্দ্রের " প্রধান তত্তাবধায়ক হিসেবে উপজেলা নির্বাহী  কর্মকর্তা কে দায়িত্ব  প্রদানসহ স্হানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করতে হবে ।   

(৬) প্রতিটি কেন্দ্রে জরুরী রোগীকে  সার্বক্ষণিক আনা নেওয়ার  জন্য একটি নির্দিষ্ট  যানবাহনের ব্যবস্হা করতে হবে ।   

(৭) আক্রান্ত রোগীর বাড়ির চারিপাশে লকডাউন বা রেড এলার্ট জারি করতে হবে ।   

(৮) স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে  পাড়ার প্রতি মসজিদে মাইক দিয়ে কঠোর সতর্কতা সহ সরকারী নির্দেশনা  দিয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।     

(৯) সম্ভাব্য করোনা রোগীকে নিরাময় কেন্দ্রে ই হোম করেন্টাইনের ব্যবস্হা নিতে হবে।     

(১০)  জরুরী ভিত্তিতে বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিত্সার সকল ঔষধ সরবরাহ সহ করোনা আক্রান্ত হয়েছে কিনা তা নির্দিষ্ট পরিক্ষাগার থানা বা উপজেলায় প্রতিস্হাপন নিশ্চিত করতে হবে ।   

(১১) যারা কোন কাজ করতে পারছেনা, একজন নিরপেক্ষ কর্মকর্তা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সত্যিকার অর্থেই সাহায্যের প্রয়োজন সেইসব পরিবারের তথ্য সরেজমিনে যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করতে হবে ।     

করোনা মহামারীকে গণসচেতনতার মাধ্যমে সম্মিলিত ভাবেই মোকাবেলা করা একান্ত কর্তব্য। আমাদের মাথায় রাখতে হবে, সরকারের একার পক্ষে এইরকম মহামারীকে প্রতিরোধ করা ও সম্ভব নয়। নিজে সুরক্ষিত থেকে অন্য পাচজনকে সহযোগিতার পবিত্র মানষিকতা সৃষ্টি করতে আসুন আমরা আগ্রহী হয়ে দেশকে বাচাই এবং নিজকে সুরক্ষিত করি। 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ