About Us
মোহাম্মদ শামছুল আলম ইঞ্জিনিয়ার - (Rangamati)
প্রকাশ ০১/০৪/২০২১ ১১:২৪পি এম

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে আগুন

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে আগুন Ad Banner

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি না হলে বাংলাদেশ নামের লাল সবুজের পতাকার একটি বাংলাদেশের সৃষ্টি হতো না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু মাত্র একটি নাম নয়, তিনি হচ্ছেন আজকের সতের কোটি বাঙালি ও তৎকালীন সারে সাত কোটি বাঙালির দীর্ঘদিনের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত কারী বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৭১ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে ও পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী যখন ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করে, তখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বুঝতে আর দেরি হলো না। তিনি শেষ পর্যন্ত ৭১ সালের ০৭ ই মার্চ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক মহাসমাবেশের ঘোষণা করেন।

ঐতিহাসিক ০৭ ই মার্চ, ১৯৭১, বিপুল সংখ্যক জনসমুদ্রের উপস্থিতিতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই যাদুময়

ভাষণ শুরু করেন। 

১৯ মিনিটের এই যাদুময়ী ভাষণে বাঙালি জাতির মুক্তির সকল কলাকৌশল বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন "এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, 

" রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেবো, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ"।

বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় জেলে কাটিয়েছেন। ১৯৭১ এর ২৫ শেখ মার্চ যখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী রাতের অন্ধকারে নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করে দিয়েছিল, তখন বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন অচিরেই তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বন্দী হতে যাচ্ছেন, তাই ২৬ শে মার্চ ভোর রাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।এরপর পাকিস্তানি বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে বন্দি করে পাকিস্তানের বন্দিশালায় নিয়ে যায়‌।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সাড়ে সাত কোটি বাঙালি বঙ্গবন্ধুর একটি কথা  মনোযোগ দিয়ে মনে রেখেছিলেন, আর তা হলো 

" এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম,  এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, মনে রাখবা আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি তোমরা তোমাদের যাই কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থেকো", 

সমস্ত বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর এই মহা মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে যার যাই কিছু আছে তাই নিয়ে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। 

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ও তাদের দোসরদের নির্যাতন ও পাশবিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কোন রকমে জান বাঁচিয়ে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে আশ্রয় নেয়। ঐ সময় কেবল মাত্র ভারত ই আমাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল ছিল। সেই ভারতে মুক্তি বাহিনী গঠন করে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় ট্রেনিং নিয়ে পাক বাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে যায়। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি স্বাধীন হয় ১৯৭১ এর ১৬ ই ডিসেম্বর।

বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি যখন পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিয়ে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ কে মনেপ্রাণে গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই সেই বাংলার নব্য মীর জাফর, মোস্তাক গং রা ১৯৭৫ এর ১৫ অগাস্ট হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে স্বপরিবারে হত্যা করে। কেবলমাত্র শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পড়াশোনার জন্য দেশের বাইরে থাকাতে তাদেরকে মারতে পারে নি।

আমার প্রিয় পাঠকদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখি, আজকে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে যিনি মাতৃভূমির জন্য স্বপরিবারে বিলীন হয়ে গিয়েছেন, জীবদ্দশায় যিনি প্রিয় মাতৃভূমির জন্য জেল জুলুম ছাড়া আর কিছুই পাননি, সারাবিশ্ব দ্বারা স্বীকৃত হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি আমাদের জাতির জনকের ছবি বা  ভাস্কর্যের উপর যদি এই প্রিয় মাতৃভূমির লোক দিয়ে ই হিংসাত্মক আক্রমণ করা হয় তাহলে আক্রমণ কারী কে কি বলে আখ্যা দিবেন? তারা কি আসলেই বাংলাদেশ চায়?

আমি আপনাদের আরো একটি প্রশ্ন রাখি, এই যে হেফাজতের বিক্ষোভ মিছিল ও তাদের দেশব্যাপী যে ধ্বংসাত্বক তাণ্ডব হয়ে গেল এই গুলোর ইসু টা কী?

এইগুলোর ইসু যদি প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনের জন্য হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন রইল মোদী কি এই দেশে হিন্দুত্ববাদ জারি করতে এসেছেন? না কোন দলের প্রধান হিসেবে রাজনীতি করতে এসেছেন?  কিন্তু তিনি তো একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আরেকটা রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় সফরে এসেছেন। যে দেশ তার সৈন্য বাহিনী দিয়ে মুক্তিবাহিনীর সহায়তায় যুদ্ধ করে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করে দিয়েছেন, ঐরকম একটি রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে এসেছেন। আমাদের অন্ততপক্ষে নূন্যতম কৃতজ্ঞতা বোধ  থাকা দরকার যে মিত্র দেশের একজন প্রধানমন্ত্রী আমাদের দেশে মেহমান হিসেবে আসলে তার উপস্থিতিতে আমাদের কি ধরনের ব্যবহার করা দরকার। হেফাজতে ইসলাম যদি ইসলামের হেফাজত করে থাকেন তাহলে তাদের তো এই টুকু জানা থাকা দরকার ছিল যে ভারতের ১৩০ কোটি জনতার ৩০ কোটি কিন্তু মুসলিম। তাদের এই তান্ডবে ভারতের মুসলমানরা কোন সমস্যায় পড়বে কিনা এটা চিন্তা করা কি হেফাজতের উচিত ছিল না?

আমার জানামতে ইসলাম একটি পরিপূর্ণ শান্তির ধর্ম। ইসলামে কোন অবস্থাতেই এই ধরনের হিংসাত্মক কাজ অনুমোদন করে না। 

তাহলে মুদীর আগমনের সাথে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে আগুন ও সরকারি বেসরকারি এতগুলো স্থাপনা জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার' করে দেওয়ার দরকার টা কতটুকু সবার বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখলাম।

(ছবিতে )একজন অসহায় মায়ের চোখে আঘাত করে রক্তাক্ত করে তারা কী পেয়েছে?

আসুন এখন কিন্তু সময় এসেছে  ৭১ এর পরাজিত সেই হায়েনাদের পুনর্জাগরণ কে সম্মিলিতভাবে সমূলে বিনাশ করি।







শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

Md Rony Sheikh - (Dhaka)
প্রকাশ ১৯/০৪/২০২১ ০৪:৩০পি এম