About Us
MD Emran
প্রকাশ ০২/০৪/২০২১ ০১:৪১এ এম

সন্তানের যৌন হয়রানির বিচার না পেয়ে মুমূর্ষ ঘটনা ঘটালেন মা

সন্তানের যৌন হয়রানির বিচার না পেয়ে মুমূর্ষ ঘটনা ঘটালেন মা Ad Banner

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার লাঙলঝাড়া গ্রামে একই কক্ষ থেকে দুই সন্তানের সঙ্গে মায়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঘরের দরজা ভেঙে ওই তিনজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।  স্থানীয়রা বলছেন, সন্তানের যৌন হয়রানির বিচারের জন্য চেয়ারম্যানকে বলেছিলেন ওই গৃহবধূ। কিন্তু বিচার না পেয়ে তিনি সন্তানদের হত্যার পর নিজে আত্মাহত্যা করেছেন। তবে পুলিশ বলছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।   

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর খায়রুল কবির জানান, ওই গৃহবধূর নাম মাহফুজা খাতুন (৩৫)। তার দুই শিশুর নাম মাহফুজ (৯) ও মোহনা (৫)। মাহফুজা খাতুন দুই সন্তানকে গলাটিপে হত্যার পর গলায় শাড়ি পেঁচিয়ে নিজে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ তিনটি উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। 

এলাকাবাসী জানান, লাঙলঝাড়া গ্রামের ট্রাক্টরচালক শিমুল বিল্লাহর স্ত্রী মাহফুজা খাতুনের ছোট মেয়েকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন স্থানীয় এক যুবক। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামকে জানায় ভুক্তভোগী পরিবার। কিন্তু নুরুল ইসলাম বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে গড়িমসি করেন। 

সামনে ইউপি নির্বাচনের অযুহাতে চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ওই গৃহবধূর সন্তানের বিচার করা নিয়ে কালক্ষেপণ করেন। এরই একপর্যায়ে দুই শিশু সন্তানকে হত্যার পর মাহফুজা খাতুন আত্মহত্যা করেন। 

তবে লাঙলঝাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, গতকাল দিবাগত রাত ১২টা ৪৩ মিনিটে মাহফুজা খাতুন তার কাছে ফোন করে ঘটনাটি বলেন। তিনি নির্বাচনের কাজে ব্যস্ততার কথা বলে সকালে ওসিকে ঘটনাটি জানানোর পরামর্শ দেন। পরে সকালে তাদের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।     

কলারোয়া থানার ওসি মীর খায়রুল কবির জানান, শিশুকে শ্লীতাহানীর যে বিষয় শোনা যাচ্ছে, সেটি খতিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়া এই ঘটনায় অন্য কোনো বিষয় আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে। 

এদিকে, ঘটনার শোনার পর বাগেরহাটে কর্মরত তার স্বামী শিমুল বাড়িতে পৌঁছালে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ