About Us
Rejaul karim
প্রকাশ ০১/০৪/২০২১ ০২:৪৪এ এম

বিশ্বনেতা বিশ্ববন্ধু বঙ্গবন্ধু (২য় অংশ)

বিশ্বনেতা বিশ্ববন্ধু বঙ্গবন্ধু (২য় অংশ) Ad Banner

বঙ্গবন্ধু ছিলেন শান্তিবাদী নেতা। তাঁর পররাষ্ট্রনীতি ছিল বৈরিতা নয়, সকলের সাথে বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব ও ভালোবাসাই ছিল তাঁর শক্তি ও যোগ্যতা। ১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি প্রখ্যাত সাংবাদিক ডেবিট ফ্রস্ট তাঁর সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। ফ্রস্ট বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞেস করছেন, What is your strength or qualification? Bangabandhu replied- I love my people. What is your weakness or disqualification? He replied- I love them too much.


বঙ্গবন্ধু ছিলেন সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী, শান্তির পক্ষে, মানবতার কল্যানে নিয়োজিত নেতা। এজন্য বিশ্ব শান্তি পরিষদ তাঁকে ‘জুলিও কুড়ি’ শান্তি পদকে ভূষিত করে। Asian Peace and Security Conference উপলক্ষে বিশ্ব শান্তি পরিষদ ঢাকায় ১৯৭৩ সালের ২২ ও ২৩ মে দুই দিনব্যাপী এক সম্মেলনের আয়োজন করে। উক্ত সম্মেলনের শেষের দিন ২৩ মে বিশ্ব শান্তি পরিষদের মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে পদক তুলে দিয়ে বলেন, “শেখ মুজিব শুধু বঙ্গবন্ধু নন, আজ থেকে তিনি বিশ্ববন্ধুও বটে।” এ বিশ্ব নেতার প্রতি সম্মান জানিয়ে ২০২০ সালের ১১ ডিসেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ‘Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman International Prize in the Field of Creative Economy নামে একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।


সাহস ও ব্যক্তিত্বে বঙ্গবন্ধু ছিলেন হিমালয় পর্বতসম। এ প্রেক্ষাপটে কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিডেল কাস্ট্রো বলেন, ‘’I haven’t seen Himalayas. But I have seen Sheikh Mujib. In personality and in courage this man is the Himalayas. I have thus had the experience of witnessing the Himalayas.” বঙ্গবন্ধু ক্ষমতায় ছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছর। এ স্বল্প সময়ে তিনি ১২৭ টি দেশ ও জাতিসংঘ, আইএম এফ, কমনওয়েলথ, ওআইসি এর মতো ১০টি আন্তর্জাতিক সংগঠনের স্বীকৃতি আদায় করতে সক্ষম হন। বঙ্গবন্ধুর নাম ছিল বিশ্বজোড়া। বিশ্বের অনেক দেশের মানুষ বাংলাদেশ নাম বললে চিনত না, কিন্তু শেখ মুজিবের নাম বললে চিনত। তিনি বেঁচেছিলেন মাত্র ৫৫ বছর। এর মধ্যে ১৩ বছর ছিলেন পাকিস্তানের কারাগারে। ৫১ বছর বয়সে একটা জাতি রাষ্ট্রের স্রষ্টা হন। এটা কম কথা নয়, এটা একটা বিস্ময়। বহু দেশের বহু রাষ্ট্রনায়কের সঙ্গে তাঁর ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং তিনি ছিলেন তাঁদের বন্ধু। যেমন কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো, কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিডেল কাস্ট্রো, মিসরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদত, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত, যুগোশ্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটো, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু প্রমুখ। নেতার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু ছিলেন সাহিত্য ও সংস্কৃতিমনা মানুষ। তাই দেশি-বিদেশি অসংখ্য কবি, সাহিত্যিক, গায়ক তাঁকে নিয়ে কবিতা, ছড়া, গান লিখেছেন। তিনি একজন লেখকও বটে। তাঁর লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’, ‘আমার দেখা নয়াচীন বইগুলো পড়লে মনে হবে তিনি লেখক হিসেবেও সার্থক।


বড় মনের দিলখোলা মানুষ ব্যতীত কেউ আত্ম সমালোচনা করতে পারে না। মহাত্মা গান্ধী আত্ম সমালোচনা করতেন, নিজের ভুল স্বীকার করতেন। বঙ্গবন্ধুও ছিলেন আত্ম সমালোচক। তিনি বলেন, “আমি ফেরেস্তা নই। আমি শয়তানও নই। আমি মানুষ, আমি ভুল করবোই। আমি ভুল করলে আমার মনে রাখতে হবে, I can rectify myself| আমি যদি rectify করতে পারি, সেখানেই আমার বাহাদুরি। আর যদি গোঁ ধরে বসে থাকি যে, না, আমি যেটা করেছি সেটাই ভালো that can’t be human being| আমার বাংলাদেশে শোষণহীন সমাজ গড়তে হবে।”


বঙ্গবন্ধু ছিলেন দুখী, দরিদ্র, বঞ্চিত মানুষের নেতা। তাই তিনি ধনী দরিদ্রের বৈষম্য লাঘবের কথা বলেছেন, সাম্যের কথা বলেছেন, সমন্বয়ের কথা বলেছেন, তাদের মুখে হাসি ফোটানোর কথা বলেছেন। আজ ইউরোপ আমেরিকা সমাজতন্ত্র ও ধনতন্ত্রের সমন্বয় করে দেশ চালাচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানের দায়িত্ব রাষ্ট্র নিয়েছে। কর্ম করার সুযোগ না দিতে পারলে বেকার ভাতা দিচ্ছে। এটাই সমন্বয়, এটাই কল্যাণকর রাষ্ট্র। রাষ্ট্র হবে জনগণের সুখ দুঃখের ভাগীদার। তিনি তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লিখেছেন, “আমি নিজে কম্যুনিস্ট নই। তবে সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে বিশ্বাস করি না। একে আমি শোষণের যন্ত্র হিসেবে মনে করি। এই পুঁজিপতি সৃষ্টির অর্থনীতি যতদিন দুনিয়ায় থাকবে ততদিন দুনিয়ার মানুষের উপর থেকে শোষণ বন্ধ হতে পারে না। পুঁজিপতিরা নিজেদের স্বার্থে বিশ্বযুদ্ধ লাগাতে বদ্ধপরিকর। বঙ্গবন্ধুর সমাজতন্ত্র ছিল সমন্বয়ের দর্শন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায় বিচারের দর্শন। এ জন্য তিনি ৭ মার্চের ভাষণে   রাজনৈতিক স্বাধীনতার আগে মুক্তির কথা বলেন। তিনি বলেন, “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। এ মুক্তি মানে দারিদ্র থেকে মুক্তি, বৈষম্য-শোষণ-যন্ত্রণা-অন্যায়-অবিচার থেকে মুক্তি, অন্ধত্ব, গোঁড়ামী, রক্ষণশীলতা থেকে মুক্তি, অসত্য, অসৌন্দর্য ও অযৌক্তিকতা থেকে মুক্তি। এ মুক্তির সংগ্রাম চিরন্তন সে কথাই বলে গেছেন মহানায়ক বিশ্ব নেতা বঙ্গবন্ধু। আর এসব কথা শুধু বাঙালির জন্য নয়, সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য প্রযোজ্য।


বঙ্গবন্ধুর শেষ ভাষণটি শুনলেই বুঝা যায় গরিব দুঃখী মেহনতি মানুষের প্রতি তাঁর দরদ-ভালোবাসা কত গভীর! শিক্ষিত পেশাজীবী ও চাকরিজীবী আমলাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি চাকরি করেন, আপনার মাইনা দেয় ঐ গরিব কৃষক, আপনার মাইনা দেয় ঐ গরিব শ্রমিক। আপনার সংসার চলে ঐ টাকায়। আমি গাড়ি চড়ি ঐ টাকায়। ওদের সম্মান করে কথা বলেন, ইজ্জত করে কথা বলেন। ওরাই মালিক। ওরা কর্ম করে। এই বেটা কোথা থেকে আসলি? সরকারি কর্মচারীদের বলবো, মনে রেখ এটা স্বাধীন দেশ, বৃটিশ কলোনি নয়, পাকিস্তান কলোনি নয়। যে লোককে দেখবা তার চেহারা দেখো তোমার বাবার মতো, তোমার ভাইয়ের মতো। ওদের কষ্টের পয়সা। ওরাই সম্মান বেশি পাবে। ওরা নিজে কামাই করে খায়। আর তোমরা কাকভুইয়া। একটা কথা জিজ্ঞাসা করি আপনাদের কাছে, মনে করবেন না কিছু। আমাদের লেখাপড়া শিখাইছে কিডা?  আমার বাপ মা, আমরা মনে করি বাপ মা। আমাদের লেখাপড়া শিখাইছে কে? আইজ ডাক্তারি পাস করায় কে? ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করায় কে? আইজ সাইন্স পাস করায় কে? বৈজ্ঞানিক করেন কে? অফিসার করেন কে? কার টাকায়? বাংলার দুঃখী জনগণের টাকায়। আপনাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা, শিক্ষিত ভাইয়েরা, আপনার লেখাপড়ার খরচ দিয়েছে শুধু আপনার সংসার দেখার জন্য নয়, আপনার ছেলেমেয়ে দেখার জন্য নয়। দিয়েছে, তাদের আপনি কাজ করবেন, সেবা করবেন। তাদের আপনি কী দিয়েছেন? কী ফেরত দিচ্ছেন? কতটুকু দিচ্ছেন? কার টাকায় ডাক্তার সাব? কার টাকায় ইঞ্জিনিয়ার সাব? কার টাকায় অফিসার সাব? কার টাকায় রাজনীতিবিদ সাব? কার টাকায় মেম্বর সাব? কার টাকায় সব সাব? সমাজ ঘুনে ধরে গেছে। এ সমাজকে আমি চরম আঘাত করতে চাই। যে আঘাত করেছিলাম আমি পাকিস্তানিদের, সে আঘাত করতে চাই আমি এ ঘুনে ধরা সমাজব্যবস্থাকে। এ রকম গরিববান্ধব কথা কি বাঙালি বা বিশ্ববাসী আর কোন নেতার মুখে শুনতে পাবে? তবে এ ঘুনে ধরা সমাজব্যবস্থাকে আঘাত করার আগে, সে সমাজব্যবস্থাই তাঁকে আঘাত করে শেষ করে দিল। আহ!

†iRvDj Kwig, mnKvix Aa¨vcK, BwZnvm wefvM, miKvwi iv‡R›`ª K‡jR, dwi`cyi।

 

 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
প্রকাশ ১৯/০৪/২০২১ ০৩:০৭পি এম