Swapan Roy - (Comilla)
প্রকাশ ৩১/০৩/২০২১ ০৫:৩৭পি এম

সিনিয়র শিক্ষক পদোন্নতি কোন পথে?

সিনিয়র শিক্ষক পদোন্নতি কোন পথে? Ad Banner

বাংলাদেশের সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগে গত একযুগ ধরে বিভিন্ন ক্যাটাগরির পদোন্নতিতে এক অশুভ ছায়া বিরাজ করছে। প্রতিটি পদোন্নতিকে ঘিরে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে এখানে। একটি অংশ বিধি মোতাবেক পদোন্নতি চাইলেও অন্য অংশের নিয়োগ শর্ত ভঙ্গকারী শিক্ষকগণ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে নিজেদের জ্যেষ্ঠতা দাবি করছে। এতে আইনী জটিলতায় পড়ে ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে যোগ্য শিক্ষকেরা। 

সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের পাঁচ বছরের মধ্যে বিএড ডিগ্রি অর্জনের শর্ত পালন বাধ্যতামূলক। এছাড়াও ২০০৮ সালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুসারে চাকুরিতে থাকাকালীন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন গ্রহণযোগ্য নয় বলা হয়েছে পত্রটিতে। সেক্ষেত্রে অনুমোদন নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে পেশাগত বিএড ডিগ্রি অর্জনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিছু বিষয়ের শিক্ষক রয়েছে যারা পদোন্নতি যোগ্য নয় তাদের বিষয়ে জ্যেষ্ঠতা নীতিমালা অনুসরণ না করায় জটিলতা রয়েছে। নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও সেগুলো অনুসরণ না করার সঠিক ব্যাখ্যা দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। পক্ষান্তরে দায়িত্বশীল পদে থেকে কতিপয় কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকাকালীন অবহেলাগুলোকে জায়েজ করতে কোনো কোনো কর্মকর্তার বাড়াবাড়ি শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। 

এমতাবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া না হলে শিক্ষকদের উদাসীনতায় ভবিষ্যত প্রজন্ম শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা বেড়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।  উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ১৯৯১ ব্যাচের বিএড শর্ত পালনকারী সহকারী শিক্ষকরা (সিনিয়র শিক্ষক পদোন্নতি ভায়োলেট করে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি দেয়া হয়েছিল। এই নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাউশিকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছিল বলে জানা যায়) সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির ন্যায্য জ্যেষ্ঠতা চেয়ে প্রশাসনিক ট্রাইবুনালে ৭০/২০১৯ মামলা করে এবং পক্ষে রায় পায়। অথচ শর্ত ভঙ্গকারীরা রায়ের যথার্থতা বুঝেও সময় ক্ষেপনের জন্য রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ১৯৫/২০২০ নং আপিল করেছে। আপিল শুনানির দিন ধার্য্য হলে তারা এই নিয়ে দুইবার সময় চেয়ে শুনানি পিছিয়ে দিয়েছে। অথচ সম্প্রতি সিনিয়র শিক্ষক পদোন্নতিকে বাধাগ্রস্ত করতে একই মামলার চুড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত করতে আদালত থেকে স্ট্রে অর্ডার করার ষড়যন্ত্রে মেতেছে তারাই। যোগসাজশ করে কেন্দ্রীয় শিক্ষক সমিতিকে ব্যবহার করে পেশাজীবী সমিতির নীতিমালা অগ্রাহ্য করে কয়েকজন সমিতির প্যাড ব্যবহার করছে যত্রতত্র বলে জানা যায়। দশ হাজার শিক্ষকের স্বার্থ উপেক্ষা করে কেন এই তৎপরতা জানতে চাইলে সাধারণ শিক্ষকরা কিছু অভিযোগ করেন। তন্মধ্যে গোষ্ঠীপ্রীতি, প্যানেল স্বার্থ, আর্থিক বিষয় নিয়েও তারা মন্তব্য করে। 

তাদের মতে, সিনিয়র শিক্ষক নতুন সৃষ্ট একটি পদ হওয়ায় এই পদের পদোন্নতি নিয়ে কোনো আইনী জটিলতা নেই। মাউশি থেকে সিনিয়র শিক্ষক পদোন্নতিতে আইনী কোনো জটিলতা নেই মর্মে ক্লিয়ারেন্সও দেওয়া আছে এমন তথ্য পাওয়া যায়। তারা আরো বলেন, ৭০/২০১৯ মামলাটি মূলত সহকারী প্রধান শিক্ষক পদোন্নতির জ্যেষ্ঠতা নিয়ে একটি মামলা। এর সাথে সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতির কোনো সম্পর্ক না থাকায় মামলাটির কারণে সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতি স্থগিত রাখার কোনো সুযোগ নেই। এই নিয়ে বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির প্যাড ব্যবহার করে সভাপতি, সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক(শর্ত ভঙ্গকারী) যৌথ স্বাক্ষর করে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বলে জোর গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। সমিতির নাম ভাঙ্গিয়ে কয়েকজন শর্ত অমান্যকারীর পক্ষে সমিতির প্যাড যাচ্ছেতাই ব্যবহার করে দশ হাজার শিক্ষকের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দাম্ভিকতা কাউকে দেয়া হয়নি জানিয়ে শর্তমান্যকারী শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে। অনৈতিকভাবে সমিতির প্যাড ব্যবহার করে পেশাজীবী সমিতি কলংকৃত করার কুশীলবদের বিরুদ্ধে অচিরে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে তারা নিশ্চিত করে। সাধারণ শিক্ষকদের মেন্ডেট নিয়ে তাদের সাথেই নীতি বিরুদ্ধ আচরণ করায় শিক্ষকরা ভীষণ ক্ষুব্ধ। 

উল্লেখ্য, সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের পাঁচ বছরের মধ্যে বিএড ডিগ্রি অর্জনের শর্ত পালন বাধ্যতামূলক এই পেশায়। তবে অজ্ঞাত কারণে শর্ত ভঙ্গকারীদের পদোন্নতি দিতে কর্তৃপক্ষ মানবিক অবস্থান নিয়েছে বলে জানা যায়। একই ইস্যুতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একপত্রে শর্তভঙ্গকারীদের পদোন্নতি দেয়ার ছাড় দেয়া হয়। তবে পদোন্নতির জ্যেষ্ঠতায় নিয়োগ শর্তভঙ্গকারীদের জ্যেষ্ঠতা কিরুপ হবে এইপত্রে স্পষ্ট না করায় জটিলতা আরো ঘনীভূত হয়েছে। শর্ত মান্যকারীরা মনে করে জ্যেষ্ঠতা তালিকায় শর্তঅমান্যকারীরা শর্ত মান্যকারীদের পরে অবস্থান হওয়ার বিকল্প নেই।

তারা অভিযোগ জানায়, সমিতির বিতর্কিত কয়েকজন চিহ্নিত ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য অনৈতিকভাবে সমিতির নাম ব্যবহার করে পদোন্নতি বাধাগ্রস্ত করতে কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করে চলেছে। তাদের বিভ্রান্তিতে পড়ে ইতোপূর্বে ২০১৮ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক/সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পদে বিতর্কিত একটি পদোন্নতি হওয়ায় ৭০/২০১৯ এ প্রশাসনিক ট্রাইবুনালে একটি মামলা হয়। 

উদ্দেশ্য প্রণোদিত সেই রেজুলেশনের মাধ্যমে দেয়া নিয়ম বহির্ভূত পদোন্নতির বিপক্ষে মামলার রায় আসে। পরবর্তীতে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আপিল করা হয়েছে। অনেকে মনে করে আপিলের নামে মামলাটির রায় স্থগিত রেখে সময়ক্ষেপন করে বিতর্কিত রেজুলেশনের আদলে সিনিয়র শিক্ষক পদোন্নতির জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রণয়নের সুযোগ নিতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু শিক্ষকদের তীব্র অসন্তোষের কারণে অশুভ চক্রান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে চলমান কার্যক্রমে নিয়োগ শর্ত ভঙ্গকারীদের নিয়ে মাউশি দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। দাপ্তরিক কাজে সমিতির শর্তভঙ্গকারী লোকদের সম্পৃক্ত করে পদোন্নতির গোপনীয়তা প্রকাশ করে পদোন্নতি বাধাগ্রস্থ করতে চেষ্টারত কয়েকজন কর্মকর্তার দিকে শিক্ষকদের অভিযোগ রয়েছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ