About Us
Md.Shagar Hasan - (Kushtia)
প্রকাশ ৩১/০৩/২০২১ ০৫:৫৮পি এম

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সম্মুখযুদ্ধ ৩০ মার্চ কুষ্টিয়ায়

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সম্মুখযুদ্ধ ৩০ মার্চ কুষ্টিয়ায় Ad Banner

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সম্মুখযুদ্ধ হয় কুষ্টিয়ায়। এই প্রতিরোধযুদ্ধে পাকিস্তানীদের প্রথম পরাজয়ের দৃষ্টান্তও কুষ্টিয়ায়। কুষ্টিয়া বাংলাদেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো শত্রু মুক্ত হয় ১ এপ্রিল ১৯৭১ সালে। ৩০ মার্চ এর এই যুদ্ধে প্রথমবারের মতো পাকহানাদাররা ধুলায় লুটিয়ে পড়ে। ২৫ মার্চ এর নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের পর মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রহরেই কুষ্টিয়ায় তারা প্রথমবারের মতো পরাজিত হয়। অফিসারসহ শতাধিক পাকসেনা প্রাণ হারায়। এই সংবাদ বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন, ফরাসী টেলিভিশন সহ বিশ্বের বিভিন্ন মিডিয়ায় প্র্রচারিত হলে তাদের সম্মান লুণ্ঠিত হয় অপরদিকে বিশ্বব্যাপী বাঙালির মুক্তির পক্ষে জোরালো সমর্থন আসতে থাকে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরী হতেও এই যুদ্ধ সহায়ক ভূমিকা রাখে।

৩০ লাখ শহীদ, ৩ লাখ মা-বোনের সম্ভম, ৪ লক্ষ শিশুর তরতাজা জীবনের বিনিময়ে ও কোটি-কোটি মানুষের আতংকিত যাপিত জীবনের নৃশংসতার মধ্য দিয়ে জন্ম নিয়েছে বাংলাদেশের। এ স্বাধীনতা মূরমন্ত্র এসেছে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিত ৭ মার্চের ভাষণের মধ্যে দিয়ে। এই ভাষণে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিজ রোপিত হয়। এই ভাষণেই জয় বাংলা সেøাগানের মুহূর্মুহু আওয়াজে বাংলার আকাশ বাতাস প্রকশ্পিতই করেনি, করেছে সাতকোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ। সকলের একই লক্ষ স্বাধীনতা-একই আকাঙ্খা মুক্তি।

মাত্র কয়েকটি দিনের ব্যবধানে সেই কালরাত ২৫ মার্চ হায়েনা পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠির নৃশংস হত্যাযজ্ঞ যা বিশ্বের ৫টি জেনোসাইডের মধ্যে এটি অন্যতম। সেদিন পাকি বুলেটে ঢাকা শহরেই ৫০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। সেই কালরাত থেকেই পাকহানাদাররা সারাদেশে নিষ্ঠুর হত্যাকা-, অত্যাচার, নিপীড়ন চালাতে থাকে। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরেই বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার আগে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। মূলত মার্চই বাংলাদেশ। অগ্নিঝরা মার্চে বীর বাঙালিরা কঠিন ইস্পাতঐক্য গড়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

অগ্নিঝরা মার্চে মুক্তিকামী বাঙালিদের মননে মুক্তির মন্ত্রণা পায়। ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন ছাত্রনেতা আসম আব্দুর রব, নুরে আলম সিদ্দিকী, শাহজাহান সিরাজ ও আব্দুল কুদ্দুস মাথন। যুদ্ধকালীন এই পতাকার ডিজাইনার ছিলেন কুমিল্লার শিবচন্দ্র।৩ মার্চ থেকে চলতে থাকে সারাদেশে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের পতাকা উত্তোলন তারই ধারাবহিতকতায় কুষ্টিয়া ইসলামীয়া কলেজের মাঠে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের জনসভায় লাল সবুজের ছয়টি তারা খচিত একটি পতাকা স্বাধীন বাংলার পতাকা হিসাবে উড়িয়ে দেন কুষ্টিয়া জেলা স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ও জেলা ছাত্রলগের সভাপতি আব্দুল জলিল। স্বাধীন বাংলার ইশতেহার পাঠ করেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হাদী। মারফত আলী, আব্দুল মোমেন, শাসসুল হাদীর নেতৃত্বে গঠিত হয় জয় বাংলা বাহিনী।

২৩ মার্চ কুষ্টিয়া হাইস্কুল মাঠে পুনরায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য গোলাম কিবরিযা (এমপিএ) ও আব্দুর রউফ চৌধুরী এবং তারা জয় বাংলা বাহিনীর অভিবাবদন গ্রহণ করেন। যুদ্ধের প্রস্তুতি চলতে থাকে। কুষ্টিয়ার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে জয় বাংলা বাহিনী গঠিত হয়।সেই কালো রাতে ঢাকা সহ সারাদেশে পাক হানাদাররা ইপিআর সহ গুরুত্বপ্র্নূ স্থাপনা দখল করে নেয়। তেমনিভাবে কুষ্টিয়াতেও সেইন২৫ মার্চ ১৯৭১ রাত পৌনে বারোটায় মেজর শোয়েবের নেতৃত্বে এবং ক্যাপ্টেন শাকিল, ক্যাপ্টেন সামাদ ও লেঃ আতাউল্লাহ শাহ এর উপঅধিনায়কত্বে ২৭ বেলুচ রেজিমেন্ট এর ডি-কোম্পানীর ২১৬ জন সৈন্য কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন আক্রমণ করে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নিরস্ত্র করে। ডিউটিরত পুলিশরা আগে থেকেই আঁচ করতে পারে এবং তারা অস্ত্র নিয়ে নদী সাঁতরে পার হয়ে আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামে আশ্রয় নেয়। পাকিস্তানী সৈন্যরাহিনী পুলিশ লাইন, জিলা স্কুল, টেলিগ্রাফ অফিস, থানা ও আড়ুয়াপাড়া অফিস দখল করে তাদের ঘাটি গড়ে তোলে।

২৬ মার্চ সমস্ত শহরে ২৪ ঘন্টার জন্য কারফিউ জারী করে পাক সেনারা শহরময় টহল দিতে থাকে। টহলের মধ্যেই কুষ্টিয়ার ছাত্র, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ যেনো আগে থেকেই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া নবাব সিরাজউদদৌলা রোডে মিউনিসিপিউলিটি মার্কেটের সামনে বিকেলে ভাষা সৈনিক নাজিম উদ্দিন আহমেদের শ্যালক কুষ্টিয়া কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র রনি রহমান হাতবোমা নিক্ষেপ করে। পরে সেনাবাহিনীর গুলিতে তিনি শহীদ হন। রনি রহমানই মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়ার প্রথম শহীদ। রনি রহমানের শহীদানের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ার মানুষ প্রতিশোধ নিতে ২৯ মার্চ কুষ্টিয়া জেলা স্কুল, পুলিশ লাইনন্স ও টেলিগ্রাফস্থ পাক হানাদার ক্যাম্প আক্রমনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ৩০ মার্চ ভোর চারটায় আক্রমণ করে।



শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ