About Us
Md. Razib Hossain - (Kushtia)
প্রকাশ ০৯/০৩/২০২১ ০২:৪৮পি এম

প্রেম করে বিয়ে! হাত-পা ভেঙে দিলো মেয়ের বাপ-চাচারা

প্রেম করে বিয়ে! হাত-পা ভেঙে দিলো মেয়ের বাপ-চাচারা Ad Banner

কুষ্টিয়া খাজানগরের উত্তর পাড়ায় প্রেম করে সজিব স্বপ্না’র বিয়ের অপরাধে পিটিয়ে সজিবের হাত পা ভেঙে দিয়েছে স্বপ্নার প্রভাবশালী বাপ-চাচারা! বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে সজিবের গরীব পিতা নজরুল। 

এ ছাড়াও ছেলে মেয়েকে জোরপূর্বক তালাক নামায় সাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন মেয়ের পরিবারের লোকজন। 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কুষ্টিয়ার বটতৈল ইউনিয়নের খাজানগর উত্তরপাড়ার নজরুলের ছেলে সজিব (২২) ( খাজানগর তার চাচার বাড়িতে থাকে) এর সাথে একই এলাকার শহিদুলের মেয়ে স্বপ্না (১৮) এর দুই বছর ধরে মন দেয়া নেয়া চলছিল। এরই একপর্যায়ে গত ৬ মার্চ তারা পালিয়ে কুষ্টিয়া মিরপুরের এক কাজীর কাছে গিয়ে বিয়ে করেন। এ খবর শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়ের পরিবারের লোকজন সজিবকে খুঁজতে থাকে। 

গত ৭ মার্চ কবুরহাট সদ্দারপাড়া মিঠুনের বাড়ি থেকে সজিব কে ধরে সেখানেই এলোপাথাড়িভাবে মারপিট করতে থাকে মেয়ের চাচা রেজাউল ও ইয়াছিন। পরে সেখান থেকে মারতে মারতে তুলে নিয়ে সুবর্ণা এগ্রো ফুডের মালিক জিন্নার খাজানগর বাসার ৪ তলায় নিয়ে তাকে আটকে রেখে আবারও মারধোর করতে থাকে। পরে সেখানে কবুরহাটের কাজী মনিরুজ্জামান কে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক তালাক নামায় ছেলে মেয়ের সাক্ষর করিয়ে নেয়া হয়। 

ছেলের মারধোরের খবর শুনে সজিবের বাবা নজরুল ছুটে যায় স্থানীয় ইউপি সদস্য কালাম মোল্লার কাছে। কালাম মোল্লাও ছুটে যান সেখানে কিন্তু তাকে ভিতরে প্রবেশ করতে না দিয়ে উল্টো হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন এবং জিন্নার লোকজন তাকে বলেন সেখানে কেউ নেই। এলোপাথাড়ি মারধোর করে সজিবের হাত ও পা ভেঙে তাকে ফেলে রাখা হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। 

আহত সজিব জানান, জিন্নাহর হুকুমে রেজাউল ও ইয়াছিন কাঠের রোল দিয়ে আমাকে পিটিয়েছে। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এর পর কি হয়েছে সে বলতে পারে না। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য কালাম মোল্লা বলেন, ঘটনার সময় ছেলের বাবা তার কাছে গেলে সব শুনে তিনি জিন্নাহ’র ওখানে যান। কিন্তু তাকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। তিনি ভিতরে যেতে চাইলে জিন্নাহ’র লোকজন বলেন সেখানে কোন ছেলে মানুষ নেই। এ কথা শুনে ফিরে আসেন এবং পরে জানতে পারেন জিন্নাহ’র বাসায় মারধোর করা হয়েছে। অথচ তাকে মিথ্যা কথা বলে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনা খুব দু:খজনক বলে জানান। 

এ ব্যাপারে স্থানীয় কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমিও প্রথমে বুঝতে পারিনি। তবে ছেলেটাকে মারধোর করা ঠিক হয়নি এটা অমানবিক এবং তাদেরকে দিয়ে জোরপূর্বক তালাক নামায় সাক্ষর করানোর বিষয়টি আমার কাছেও খারাপ লেগেছে। যে কারনে আমি কোন টাকা পয়সা না নিয়ে চলে আসি। 

মেয়ের বাবা শহিদুল বলেন, আমি কাউকে মারিনি মেরেছে আমার ভাইয়েরা।

আপনার মেয়েকে কি ছেলেটা জোরপূর্বক নিয়ে গেছে নাকী স্বেচ্ছায় গেছে এমন প্রশ্নের কোন জবাব না দিয়ে ফোন কেটে দেন। 

সুবর্ণা এগ্রো ফুডের মালিক জিন্নাহ মুঠাফোনে বলেন, তাকে একটু চর থাপ্পড় মারা হয়েছে। হাত পা ভেঙে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার বিরুদ্ধে যা কমপ্লেন লেখার তা লেখেন গা বলে ফোন কেটে দেন। 

কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার খাইরুল আলম বলেন, এখনো থানায় এব্যাপারে কোন অভিযোগ আসেনি। থানায় এজাহার দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ