About Us
Md. Khairul Islam Sohag - (Barisal)
প্রকাশ ০৯/০৩/২০২১ ০৪:৫৭পি এম

বিশৃঙ্খলা এড়াতে ছাত্র সংসদ চায় ববি'র সিংহভাগ শিক্ষার্থী

বিশৃঙ্খলা এড়াতে ছাত্র সংসদ চায় ববি'র সিংহভাগ শিক্ষার্থী Ad Banner

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি), বরিশালবাসীর দীর্ঘআন্দোলনের ফসল। বয়সে প্রায় এক যুগ হলেও এখনো রয়েছে শিক্ষার্থীদের অনেক অপূর্ণতা।

শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অধিকার আদায়ে সুনির্দিষ্ট প্লাটফর্ম থাকলেও হিসেবের খাতায় শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্ম এখনো শূন্য। তাই বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (বাকসু) প্রতিষ্ঠার দাবি করছেন।

পূর্বের অভিজ্ঞতায় দেখা যায় খুব ক্ষুদ্র কারণে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য আন্দেলন ফলে এখনও সেই খেসারত গুনতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

কয়েকটি বিভাগে আন্দোলনের কারণে সেশনজট এতটাই বেশি যে শিক্ষার্থীদের 'ছাইড়া দে মা, কাইন্দা বাঁচি' অবস্থা। 

 এছাড়া পূর্বের সৃষ্ট বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনগুলোতে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে নেতৃত্বের বিষয়টি।

বিশেষ করে ২০১৭ সালে ২২ দফা আন্দোলনে তৎকালীন নামধারী ছাত্রলীগ ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য  ইমামুল হকের আর্থিক লেনদেনের গুঞ্জনের পর শিক্ষার্থীরা আস্থাহীনতায় রয়েছেন নেতৃত্ব নিয়ে। তাই শিক্ষার্থীদের দাবি ছাত্র ছাত্র সংসদই হতে পারে এর একমাত্র সমাধান। 

ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাত লিমন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশে, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সঠিক একটি প্লাটফর্ম যেন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাতের অন্ধকারে মেসে গিয়ে হামলার মত যে জঘন্য ঘটনা ঘটেছে ইতোপূর্বে এমন ঘটনা আরও ঘটেছে তবে সেটা স্বল্প পরিসরে ঘটেছিল। সেই ঘটনারও কোন বিচার হয় নি।

বর্তমান ঘটনার বিচারও হয় নি, মূল আসামীদের কাউকে গ্রেফতার করা হয় নি।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের বেহাল অবস্থা, স্থানীয় ঠিকাদারদের অবকাঠামোগত দুর্নীতি। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি কোনঠাসা অবস্থায় রয়েছে।

এমন অবস্থায় ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের শক্ত প্লাটফর্ম হবে যা ভবিষ্যৎ ছাত্র নেতৃত্বকেও বিকশিত করবে। আমরা সাধারণ  শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদ চাই।'

এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সুব্রত কুমার দাস বলেন, ছাত্র সংসদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে কিছু বলা নেই। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা চাইলে তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ও প্রশাসন আলোচনা করতে পারে। 

তবে আইনের বিষয়ে ডাকসু'র সাবেক ভিপি নুরুর হক নূর বলেন, দেশের চারটি স্বায়ত্তশাসিত  ঢাকা, রাজশাহী, চট্রগ্রাম এবং জাহাঙ্গীরনগর  বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ, শিক্ষক, কমকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠনের জন্য নিজস্ব আইন রয়েছে।

বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রণালয়য়ের নিয়ন্ত্রানাধীন তাই সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসন কম, তাই আইন প্রনয়নের এখতিয়ারও খুব কম।

তবে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও  শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সংগঠন রয়েছে কিন্তু তার জন্য কিন্তু সুনির্দিষ্ট আইন নেই।

সেক্ষেত্রে ছাত্র সংসদের বিষয়ে কোন আইন থাকা জরুরি বলেও আমার মনে হয় না।  সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাইলেই ছাত্র সংসদ সম্ভব।'


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ