About Us
Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
প্রকাশ ০৯/০৩/২০২১ ০২:২৪পি এম

আসুন কিছুটা হলেও জেনে নিই এই বোজান সম্পর্কে

আসুন কিছুটা হলেও জেনে নিই এই বোজান সম্পর্কে Ad Banner
আচ্ছা কখনো কি কোন গড গিফটেড ফুটবল প্রতিভাকে একেবারে নিজ চোখের সামনেই ধ্বংস হতে দেখেছেন? হ্যা আমি দেখেছি একেবারে জলজ্যান্ত উজ্জ্বল একটা প্রতিভাবান ফুটবলার কিভাবে হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে, কিভাবে ঝড়ে পরে গেলো হুট করেই মূহূর্তের মধ্য। যারা বছর কয়েক হয় বার্সার খেলা কিংবা ইউরোপীয়ান ফুটবল দেখে থাকেন তাদেরকে যদি কোশ্চেন করা হয় যে লা মাসিয়ান প্রোডাক্টদের সেরা ট্যালেন্টেড খেলোয়াড় কে ছিল তাহলে তারা চোখ বন্ধ করেই উত্তর দিয়ে দিবে সেটা হলো লিওনেল মেসি। কিন্তু সময়টা আরেকটু পিছিয়ে কিংবা যারা গত দশকের শেষ দিকে কিংবা এই দশকের শুরুতে বার্সার খেলা দেখে থাকেন তাদেরকে যদি কোশ্চেন করা হয় যে লা মাসিয়ান প্রোডাক্টদের মধ্যে সেরা ট্যালেন্টেড ফুটবলার কে? তাহলে তাদের অধিকাংশই চোখ বন্ধ করে উত্তর দিবে এমন একটা নাম, যেটা নব্য বার্সা ফ্যানদের অনেকের কাছেই খুবই অপরিচিত। কে সে যে লিও মেসির মতো অতি প্রতিভাবান ফুটবলার ছিল তাহলে তার উথান-পতনের গল্পটা শুনুন
বেশি না, টাইম মেশিনে চড়ে এক যুগ কিংবা এক দশক আগে ফিরে গেলেই বার্সার হয়ে খেলা এক তরুণ আপনার নজর কেড়ে নিবে। তখন সে সবেমাত্র ১৬ শেষ করে ১৭ বয়সে পা দিয়েছে। তার চেহারার সাথে আপনি মিল পাবেন তখনকার সবেমাত্র একুশে পা দেওয়া আরেক বার্সার টগবগে তরুন সুপারস্টার লিও মেসির সাথে। চেহারার মিল থাকাটাই স্বাভাবিক, কেননা মেসির পূর্বপুরুষদের রক্তধারা যে ১৭ বছর বয়সী সেই তরুণদের শরীরেও বইছিলো। মেসির পূর্বপুরুষদের যে অংশ ১৮৮৩ সালে ইতালিতে থেকে গিয়েছিল ঠিক তাদেরই বংশধর ছিল বোজান কিরকিচ । হ্যা এই সেই হারিয়ে যাওয়া নক্ষত্র যে অসম্ভব প্রতিভা নিয়ে জন্মগ্রহণ করার পরও অধিকাংশ মানুষের কাছে সে এখন অপরিচিত দূর থাক স্বয়ং বার্সা ফ্যানদের কাছেই অপরিচিত মূখ।
বার্সেলোনার ইয়ুথ লেভেল খেলে লিও মেসি যতগুলো রেকর্ড করেছিল ঠিক সবগুলি রেকর্ডই ভেঙে নিজের করে নিয়েছিলেন এই অপরিচিত বোজান। তাই স্বভাবতই অন্য সবার তৎকালীন নেক্সট মেসি খেতাব পেয়ে যায়। মাত্র ১৯ বছর বয়স হওয়ার আগেই বার্সার হয়ে ১০০ টি অঅফিসিয়াল ম্যাচ খেলে ফেলেন, বয়স ২০ পেরোনোর আগেই বার্সার হয়ে ম্যাচ খেলে ফেলেন ১৪৫ টি যা লিও মেসিও এত কম বয়সে খেলতে পারে নি। বার্সার হয়ে টিনেজার থাকা অবস্থায়ই করে ফেলেন ৩৫ গোল ও ২০ টি এসিস্ট। এই সময়টায় জিতে নেন ৩ টি লিগ শিরোপা, ২ টা উচল এবং একটা ইউরো। এগুলো সব জিতে নিয়েছিলেন বয়স ২০ হওয়ার আগেই। বার্সার হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করার রেকর্ড গুলোও তার দখলে। পরের গল্পটা শুনলে আপনি এক মূহর্তের জন্য থমকে যাবেন। যে ছেলেটা বয়স ২০ পেরনোর আগেই ১৫০ ম্যাচ খেলেছিলেন আর সেই ছেলেটাই কিনা পরিবর্তী ১০ বছরেও ১৫০ ম্যাচ খেলতে পারে নি। যে প্লেয়ারটা মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ৪০ গোল করেছিলেন সেই প্লেয়ারটাই কিনা পরবর্তী ১০ সীজন মিলিয়ে ৩০ গোল করতে পারে নি। কি এমন হয়েছিল বোজানের সাথে সেদিন তা এখনো রহস্যময়।
নেক্সট মেসি কিংবা মেসিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে ভালো ভাবেই এগুচ্ছিলো সে কিন্তু বাধা হয়ে এসে দাঁড়ায় অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ এবং ডিপ্রেশন। ২০০২-০৩ সালে কিশোর মেসিকে নিয়ে মেরুন রঙের সৈনিকেরা যতটা স্বপ্ন দেখতো ঠিক তেমনই আমরাও কিশোর বোজানকে নিয়ে এতটাই স্বপ্ন দেখতাম৷ স্পেন এবং বার্সেলোনার ইয়ুথ লেভেলর সকল রেকর্ড ভেঙেচুড়ে দিয়ে আসতে কখন যে সে নিজেই ভেঙেচুরে নিমিষেই শেষ হয়ে গেলো তা টেরই পেলাম না আমরা। হাওয়ায় মিলিয়ে নিমিষেই একরাশ ঘৃণা নিয়ে একেবারেই আড়ালে চলে গেলো বোজান। অতিরিক্ত ডিপ্রেশন আর প্রত্যাশার চাপ একজন ব্যাক্তির জীবনে কতটা প্রভাব ফেলে সেটা অভাগা বোজানের ক্যারিয়ারে মু্দ্রার দুই দিকে তাকালেই বুঝা যায়। আমাদের দেশে ও বোজানের মতো ঝরেপড়া এমন অনেকেই আছেন স্পেশালি স্টুডেন্ট। যারা পিতামাতার অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ সহ্য করতে পারেন নি, ডিপ্রেশনে ভুগেছেন ফলস্বরূপ তাদের অবস্থা এখন বোজানের মতো বলা চলে, ক্যারিয়ার নিয়ে ধুকতে হচ্ছে প্রত্যাশার চাপ সামলাতে না পেরে। তাই এক কথায় বলতে গেলে বোজানের ক্যারিয়ারের গল্পটা আমাদের জন্য একটা সতর্কবার্তা ও বলা চলে।
জীবনের ২৯ টি বসন্ত পেড়িয়ে গেছে বোজান। তার ২৯ বছরে পা রাখার গল্পটা অন্যরকমও হতে পারতো। লা মাসিয়ান প্রোডাক্টদের মধ্যে সেরা ট্যালেন্টকে আমরা খুব সহজেই হারিয়ে ফেলেছি। বোজান একটা দীর্ঘশ্বাসের নাম আমার কাছে। হয়তো সে ফুটবল ঈশ্বরের কাছ থেকে সময় নিয়ে এসেছিল বছর তিনেক এর জন্য, তাই হয়তো আমাদের আশা দেখিয়ে অদূরে চলে গেলো।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ