Rakib Monasib
প্রকাশ ০৯/০৩/২০২১ ০৪:৩৭পি এম

আল্লাহ আমাদের বাঁচান, বাঁচার কোনো উপায় নাই

আল্লাহ আমাদের বাঁচান, বাঁচার কোনো উপায় নাই Ad Banner

'ভয়ঙ্কর যমুনার কবল থেকে আল্লাহ আমাদের বাঁচান। ফসলি জায়গা নদীগর্ভে চলে গেছে, এহন শেষ সম্বল বসতভিটা ভাঙনে হুমকির মুখে। আবার বাড়ি ভাঙলে যাব কোথায়? বাঁচার কোনো উপায় নাই। আল্লাহ আমাদের বাঁচান, রক্ষা করুন।' যমুনার ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেতে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে নদীপাড়ের বাসিন্দারা মঙ্গলবার বাদ ফজর এভাবে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

তারা এনায়েতপুরের ব্রাহ্মণগ্রাম থেকে পাঁচিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ সময় যমুনার ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেতে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

 স্থানীয় ইউপি সদস্য মহির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সিরাজগঞ্জ চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, এনায়েতপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিক মোল্লা, সাবেক ইউপি সদস্য ইউসুফ আলী শেখ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সেলিম রেজা, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মালেক সরদার উপস্থিত ছিলেন। মোনাজাত পরিচালনা করেন সাবেক ইউপি সদস্য আজমত আলী। পরে সবার মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।

জানা যায়, চৌহালী উপজেলাধীন খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন থেকে দক্ষিণে শাহজাদপুর উপজেলার পাঁচিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এখনও প্রতিদিনই কিছু কিছু এলাকায় ভাঙন চলছেই।

গত দুই বছরের আড়কান্দি-বাঐখোলা, পাকুরতলা, ঘাটাবাড়ি, জালালপুর ও পাঁচিল এলাকার প্রায় সাড়ে তিন হাজার বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বহু ফসলি জমি যমুনার পেটে গেছে।

এদিকে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রক্ষায় প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জমা দিয়েছেন। তবে দীর্ঘ সময়েও প্রকল্পটি অনুমোদন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বেড়ে যায়। কিন্তু ৬ মার্চ ভাঙনে বিধ্বস্ত এলাকাটি পরিদর্শন করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক ও সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মমিন মণ্ডল।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, আশা করছি মঙ্গলবার একনেকসভায় প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পটি অনুমোদন দেবেন।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন জানান, দ্রুতই প্রকল্পটি অনুমোদন হলে কাজ শুরু হবে। তখন এলাকাটিতে আর ভাঙনের ঝুঁকি থাকবে না।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ