About Us
M. A. S. ENAMUL MOBIN (SOBUJ) - (Dinajpur)
প্রকাশ ০৫/০৩/২০২১ ০১:০১এ এম

দিনাজপুর খাদ্য অধিদপ্তরের ধান-চাল সংগ্রহে ব্যর্থ, ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি

দিনাজপুর খাদ্য অধিদপ্তরের ধান-চাল সংগ্রহে ব্যর্থ, ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি Ad Banner

দিনাজপুর জেলা খাদ্য শষ্যের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত পুুুুরো দেশে এবারে আমন মৌসুমে খাদ্য বিভাগের ধান-চাল সংগ্রহের অভিযান ব্যর্থ হয়েছে।চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ধান-চাল সংগ্রহের শেষ তারিখ ছিলো ।

খাদ্য অধিদপ্তর ইতিমধ্যে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে।  খোলা বাজারে ধান চালের দাম বৃদ্ধি থাকায় দিনাজপুর জেলার চার উপজেলার কৃষকরা এবং মিল মালিকরা চাল দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন খাদ্য বিভাগ।

দিনাজপুুরের বিরামপুর উপজেলার খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ রবিউল আলম জানায়,আমন মৌসুমে এ উপজেলাতে আমন চালের (সিদ্ধ) লক্ষ্য মাত্রা ছিলো ১,৯৪৪ মেট্রিক টন এর বিপরীতে অর্জন হয়েছে ১২ মেট্রিক টন ১৫০ কেজি,আমন চাল (আতপ) লক্ষ্য মাত্রা ছিলো ১১৫ মেট্রিক টন এর বিপরীতে ২৯ মেট্রিক টন ৩৫০ কেজি অর্জন হয়েছে।  আমন ধানের লক্ষ্য মাত্রা ছিলো ৮৩২ মেট্রিক টন এর বিপরীতে অর্জন হয়েছে ৮০০ কেজি।

এ উপজেলাতে মোট ১৭ টি মিল চুক্তিবদ্ধ করেছেন এর মধ্যে একটি আতপ। ১৭টি মিলের মধ্যে ১৪টি মিল চাল দিতে ব্যর্থ হয়। তবে সময়সীমা বৃদ্ধির কারনে ব্যর্থ মিল মালিকরা চাল দেবে বলে আসা করেন তিনি।

এদিকে হাকিমপুর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা যোসেফ হাসদা জানায়, হাকিমপুর উপজেলার জন্য আমন মৌসুমে, আমন চাল (সিদ্ধ) ২৭৯ মেট্রিক টন, আমন চাল (আতপ) ৫৩ মেট্রিক টন ও আমন ধান ৩৮০ মেট্রিক টন ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয় খাদ্য বিভাগ। কিন্তু এখন পর্যন্ত খাদ্য বিভাগের নিবন্ধিত ১২ মিলের মধ্যে ৭টি মিল তাদের চাল দেওয়ার লক্ষ্য মাত্রা পূরণ করতে পেরেছে।

এখন পর্যন্ত এই উপজেলাতে আমন চাল (সিদ্ধ) ৬৫ মেট্রিক টন ৮৫০ কেজি, আমন চাল (আতপ) ২৭ মেট্রিক টন ৫০ কেজি এবং আমন ধান ১ মেট্রিক টন কিনতে সক্ষম হয়েছে। খোলা বাজারে ধান চালের দাম বেশি থাকায় কৃষকরা খাদ্য বিভাগকে ধান-চাল দিচ্ছেন না বলে জানায় তিনি।

আবার ঘোড়াঘাট উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ আতোয়ার হোসেন জানায়, ঘোড়াঘাট উপজেলাতে এবার আমন মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা পূরণ সম্ভব হয়নি।

এই উপজেলাতে আমন ধান ক্রয়ের লক্ষ্য মাত্রা ছিলো ৫১৯ মেট্রিক টন তার বিপরীতে অর্জন হয়েছে ৪৩৫ মেট্রিক টন, আমন চাল ক্রয়ের লক্ষ্য মাত্রা ছিলো ২২৫ মেট্রিক টন এর বিপরীতে অর্জন হয়েছে ৮৫ মেট্রিক টন ৭২০ কেজি ও আমন চাল (আতপ) ৬ মেট্রিক টন ক্রয় করতে সক্ষম হয়েছে। খাদ্য বিভাগ থেকে নিবন্ধিত মিলের সংখ্যা ১৭টির মধ্যে ১৬টি আমন সিদ্ধ চালের জন্য এবং ১টি আতপ চালের জন্য। তার মধ্যে ৬টি মিলের মালিক চাল দিতে পারেনি বলে জানায় তিনি ।

খাদ্য বিভাগের নির্ধারণ করা দামের চেয়ে বাজারে ধানের দাম বেশি বলে কৃষকরা ধান বিক্রয় করতে রাজি হচ্ছে না। একই কথা নবাবগঞ্জ উপজেলার খাদ্য কর্মকর্তা হালিমুর রহমান জানায়, নবাবগঞ্জ উপজেলার আমন মৌসুমে জন্য আমন ধান (সিদ্ধ) ১,৭৫৯ মেট্রিক টন এবং আমন ধান ৯৫৯ মেট্রিক টন ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে খাদ্য বিভাগ থেকে।

সেই সাথে ২৭টি মিলের সাথে চুক্তিবদ্ধ করেছে খাদ্য বিভাগ। এর মধ্যে ২২টি মিল মালিক তাদের লক্ষ্য মাত্রা পূরণে সক্ষম হলেও ৫টি মিল মালিকরা তাদের লক্ষ্য মাত্রা পূরণ করতে পারেনি হয়়়নি বলে জানায় তিনি।

এ উপজেলাতে আমন মৌসুমে চাল সংগ্রহ হয়েছে ৪৫৯ মেট্রিক টন ৭৭০ কেজি, ধান ১২৮ মেট্রিক টন ৫২০ কেজি। ধান-চালের বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় কৃষকরা ধান-চাল বিক্রি করছেন না বলে জানায় তিনি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ