About Us
Mohammad Moshfiqur Rahman - (Chattogram)
প্রকাশ ০৩/০৩/২০২১ ০৬:৫৪পি এম

কথ্য কার্টুন: বিড়ালের গলায় টাই!

কথ্য কার্টুন: বিড়ালের গলায় টাই! Ad Banner

গ্রামের এক হুলু বিড়াল হঠাৎ গলায় টাই বাঁধা শিখে ফেলে। এতে সে নিজেকে অনেক যোগ্য মনে করতে থাকে। গ্রামের যে দিকেই সে  যায় তার গলায় টাই দেখে গ্রামের বাকি ইঁদুর বিড়াল গুলো অপলোক তাকিয়ে থাকে। সে ভাবে সে অনেক জ্ঞানী ও স্মার্ট হয়ে গেছে।

একদিন সে সিদ্ধান্ত নেয়, কোন এক রাজ্যে চলে যাবে। রাজ্যের  টাই পরা বিড়ালদের সাথে চলবে আর তার নিত্য কাজ গুলো টাইপরা শ্রেনীর সাথেই করবে।

এই বলে ধনে ও মানে পূর্ন এক রাজ্যের উদ্দ্যেশে রওনা দেয় ।

যথারিতি সে এক রাজ্যে পৌঁছায়। সিদ্ধান্ত নেয় এ রাজ্যে সে শুরুতেই ইঁদুর ভক্ষন করবে না। আগে কিছু দিন যাক, রাজ্যের ভাব বুঝে নেই। কিন্ত পেটতো চালাতে হবে। এই ভেবে সে ইঁদুরকে খাদ্য না বানিয়ে আপাতত দুধ–টুধ কিছু খেয়ে দিন পার করতে থাকে। কিন্তু যেখানেই সে দুধ চুরি করতে যায়, সেখানে থাকা ইঁদুরগুলো চিঁ চিঁ শব্দ করে পালায়। এতে দুধের  মালিক এসে উপস্থিত হয়, সে দুধ পান করতে আর পারেনা। বেশ কিছুদিন খাদ্যভাবে তার স্বাস্থ্যহানী হতে থাকে। 

শেষমেশ, টাইপরা বিড়াল ইঁদুরদের নিয়ে সভায় বসে এবং বলে" ইঁদুর সম্প্রদায় শোন, আমি এই রাজ্যের টাইপরা বিড়াল, ইঁদুর ভক্ষন আমার সাস্ত্রে নেই। তোমরা আমকে যেখানেই দেখবে, ভয় পাবে না।চুরি করে খাওয়াই আমাদের কাজ সেহেতু একে অপরকে ভয় পেয়ে লাভ কি"।

সকল ইঁদুর খুশিতে আত্নহারা হয়ে লেজ উঁচিয়ে বিড়ালকে উষ্ণ সম্ভর্ধনা জানায়। এরপর থেকেই টাইপরা বিড়াল রাজা থেকে শুরু করে রাজ্যের সকলের দুধ চুরি করে খেতে লাগল। রাজ্যের দুধ পান করে বিড়াল স্বাস্থ্যবান হয়ে উঠে।তারপর বিড়াল একে একে ইঁদুর খাওয়াও শুরু করে। দিকদিশা না পেয়ে এবার ইঁদুরের নেতা বাঁচার তাগিতে নিজেরা আবার একটি সভায় বসে সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা রাজ্যের চাল, ডাল সহ সব কিছুই খাবে আর টাইপরা বিড়াল দেখলেই তারা চেঁচিয়ে উঠবে। ইঁদুর-টাইপরা বিড়াল সবাই নিজ নিজ ইচ্ছামত চুরি করা শুরু করে। ফলে রাজ্যের সবাই খাদ্য সমস্যায় পড়ে। এবং বুঝে উঠতে পারে না দুধ থেকে শুরু করে সকল খাদ্যে সংকট কেন হচ্ছে। রাজার নিকট নালিশ আসে। রাজা তার পন্ডিতকে এই বিপদ থেকে মুক্তির উপায় খুজে বের করতে বলে।

পন্ডিত বলে, যে রাজ্যে দুধ চুরি হয় সে রাজ্যে গাভী চুরিও শুরু হয়ে যাবে। পন্ডিত রাজাকে বুদ্ধি দেয় যে দুধ বিক্রেতা নিশ্চই দুধ ওজনে কম দেওয়া শুরু করেছে। পন্ডিত দুধ বক্রেতার বিচার করার বুদ্ধি দেয়।

রাজা দুধ বিক্রেতাকে ধরে এনে সাজা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ঘোষনা দেয় যে আগামীকাল ভোরে বিচারিক মাঠে জন সম্মুক্ষে দুধ বিক্রেতাকে শাস্তি দেওয়া হবে। দুধ বিক্রেতা সারারাত ঘুমোতে পারছিলো না। হঠাৎ বিক্রেতার মাথায় বুদ্ধি আসে এবং সে বুঝতে পারে সমস্যা কোথায়। সে সিন্ধান্ত নেয় যে, রাজার দেওয়া সাজা সে মেনে নেবে কিন্তু রাজাকে দুটি শর্ত দিবে।

প্রথম শর্ত, শহরের সকল টাইপরা বিড়ালকে বিচার মাঠে সাধারন দর্শকের সাথে ঢুকতে দিতে হবে এবং দ্বিতীয় শর্ত, তার পরিবারের সদস্য একশত পেয়ালাতে দুধ নিয়ে উপস্থিত হবে।রাজা দুধ বিক্রেতার শর্তে রাজি হয়।এবং যথারিতি বিচার কার্য শুরু হয়। শহরের টাইপরা শত শত বিড়াল ,উজির নাজির ও প্রজারা উপস্তিত।এদিকে বিক্রেতার পরিবারের নিয়ে আসা প্রায় শ'খানেক পেয়ালাতে দুধ ছিল দর্শকের পেছনে।

বিচারের শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হল ।রাজার লোকজন বিক্রেতার মাথায় কালো টুপি পারাল, পেছনে দুটি হাতও বেঁধে দিল। মঞ্চে তোলা হল। টাইপরা বিড়াল মহা খুশি।

ভাবতে লাগল যে,সে বেঁচে গেছে আর "চুরির শাস্তি নিরিহ ব্যবসায়ী পাচ্ছে আর টাইপরেই  হাসতে হাসতে মাথা দোলাচ্ছে"। এমন সময় দুধ বিক্রেতা বলে উঠে “ মহারাজ থামুন! আমার চোখ বাধা, হাত বাঁধা, মাথায় কালো টুপি,আমি জনতার মঞ্চে।

কিন্তু মহারাজ, আমার পরিবারের আনা একশত পেয়ালার দুধ পেয়ালায় আছে কিনা দেখুন। নাকি আপনার রাজ্যের টাইপরা বিড়ালেরা এই অল্প সময়ের মধ্যেই গোফে সাদা দুধ লাগিয়ে ফেলেছে?" রাজা বিক্রেতার কথা শুনে শিওরে উঠে এবং পায়েক পেয়াদাকে বলে তার পরিবারের আনা পেয়ালা গুলো দেখার জন্য।রাজা দেখতে পায় বিক্রেতার কথা পুরোটাই সত্যি।

বিক্রেতা আবার বলে “ অল্প সময়ের মধ্যেই যদি দধু টাইপরা এইসব বিড়ালরা খেয়ে ফেলে আর অতীতের সময়জুড়ে তারা রাজ্যের কি না  করেছে?মহারাজ আপনার রাজ্য জন্ম থেকে আছি,খাজনা দেই আপনিও আমাদের সেবা করছেন কিন্ত আপনার রাজ্যের টাইপরা এইসব  বিড়ালদের মত কোন ক্ষতি রাজ্যের করি নাই।আর এরা আপনার রাজ্যে ঢুকার পর থেকেই ইঁদুরদের মধ্যেও জেদ চেপেছে,তারাই  চলা,ডাল খেয়ে ভান্ডার খালি করে দিচ্ছে। আগে টাইপরা বিড়ালদের ধরুন তারপর ইঁদুর গুলোকেও ধরুন"। রাজা বিক্রেতাকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে আনে এবং  সকল বিড়ালের গলা থেকে টাই খুলে নিয়ে রাজ্য থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে। 

সম্প্রীতি,করোনা পরিস্থিতিতে দেশের ক্রান্তি লগ্নে সরকার যখন নিরীহ মানুষদের ত্রান সহয়তা দিচ্ছেন তখন কিছু টাইপরা বিড়ালের মত  লেবাজ ধারী চেয়ারম্যান সেই ত্রান রাতের আঁধারে নিজ ঘরে নিয়ে যায়। এইসব ইঁদুর বিড়ালের কারনে সরকার বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। আর এই ত্রানের চাল চুরির ঘটানা সরাসরি চলে যচ্ছে ইংরেজ মাধ্যম পত্রিকাগুলোতে ,যে পত্রিকাগুলো বাংলাদেশের প্রায় সকল দূতাবাসে আছে । দেশের অভ্যন্তরে থাকা বিদেশী এইসব দূত আমাদের এই চেয়ারম্যানদের নিয়ে কি ভাবছে? আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সারাক্ষন “চুরি” শব্দ লাগিয়ে এইসব চোরদের নিয়ে বিষোদগার চলছে।মনেরাখা উচিত ফেইসবুকে বাংলা লিখা স্বয়ংক্রিয় ভাবে ইংরেজীতে রুপান্তরিত হয়ে যায় আর তা বিশ্বদরবারে প্রকাশিত হয়। গেল মাসেই “মুজিব বর্ষ” বাংগালি পালন করেছে। একশত বছরের নেতার দিক্ষা থেকে শিক্ষা না নিলে শিক্ষার পেছনে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ৮৭ হাজার ৬২০ কোটি টাকা বরাদ্দ (সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর ,৩০ জুন ২০১৯ ) করে আর লাভই বা কি ?

করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত দূর্যোগ মোকাবেলার জন্য ৩৯ হাজার ৬৬৭ টন চাল বরাদ্দ করেছে  আর নগদ টাকা গেছে ১১ কোটি ২৪ লাখ ৭২ হাজার ২৬৪ টাকা ( সূত্র স্বদেশ প্রতিদিন ,৩০ মার্চ ২০২০)। কিন্তু চোরদের হাতে কত টন চাল গেল আর কত টাকা গেল তার হিসাব কি সরকার নেবে ?

স্বাধীনতার মাসে বরাদ্দ আর এর পরের মাসেই চোরদের চুরি ,গরীব যাবে কোথায়? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এইসব চোরদের আর কোন সুযোগ দেবেন না। যদি তারা আবারও সুযোগ পায়, দূর্নামের পুনরাবৃত্তি হবে।

রবীন্দ্রনাথের সেই চুরি-নিবারণ কবিতাটি দিয়েই আজ শেষ করি-


         সুয়োরাণী কহে,রাজা দুয়োরাণীটার

          কত মতলব আছে বুঝে ওঠা ভার।

        গোয়াল-ঘরের কোণে দিলে ওরে বাসা,

        তবু দেখো অভাগীর মেটে নাই আশা।

         তোমারে ভুলায়ে শুধু মুখের কথায়,

         কালো গরুটিরে তব দুয়ে নিতে চায়।

         রাজা বলে ঠিক ঠিক ,বিষম চাতুরী-

         এখন কী ক’রে ওর ঠেকাইব চুরি

           সুয়ো বল,একমাত্র রয়েছে ওষধ,

        গরুটা আমারে দাও ,আমি খাই দুধ।

  

~ মোঃমুশফিকুর রহমান।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
প্রকাশ ১৯/০৪/২০২১ ০৩:০৭পি এম