শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
oyasim uddin
প্রকাশ ২৪/০২/২০২১ ১২:২৩পি এম

হবলু পাগলা সমাচার। পর্ব- ৪

হবলু পাগলা সমাচার। পর্ব- ৪ Ad Banner
ছেলেটির বাবা টানাহেঁচড়া বাদ দিয়ে ভাবতে লাগলো এই বেটাকি ছেলেধরা নাকি? চেনা নেই জানা নেই এতকিছু জিজ্ঞেস করছে কেন?
আবার এও ভাবছে ছেলেধরা হলেতো, কত শিশু অভিভাবক ছাড়া ঘুরছে, খেলছে, তাদের কাছে যেতে পারতো!

-- আরে ভাই সাহেব কি ভাবছেন? চলুন, বাচ্ছারা কাদঁছে। সন্ধ্যা হয়ে এলো তাড়াতাড়ি চলুন,
-- নারে ভাই আপনি কিনে দিলেই আমি নিয়ে নিব এইটা ভাবছেন কি করে?
-- না ভাই, আপনি নিবেন এটা আমি একদমই ভাবছি না। তবে আপনার ছেলে মেয়ে নিবে। কি বাপুরা নিবেনা? 
তারা আমতা আমতা করে বলে,  আপনি কিনে দিবেন আমাদের খেলনা? তাহলে দেন তাড়াতাড়ি  কিনে দেন।
হবলু তাদেরকে কোন রকম টেনেই, নিয়ে গেলেন। লোকটি ভ্যাবাচেকা খেয়ে যেতে বাধ্য হল। 

টুপি, নাটাইসহ ঘুড়ি, মাটির পালকী ও একটি ঝিনুকের মালার বিনিময়ে যে হাসিটুকু দেখতে পাওয়া গেলো তা পৃথিবীর সেরা হাসিটুকুর চাইতে কম না। 
স্পেন্ডেল থেকে মাগরিবের নামাযের আযান ভেসে আসলো।

চমৎকার মধুর সুরের আযান। সুরের মূর্ছনায় ব্যাকুল হয়ে ঐ মুয়াজ্জিনকে দেখার আগ্রহ জাগলো।

কিন্তু সময় সংকীর্ণ, মাগরিবের আযানের সাথে সাখেই নামায শুরু হয়ে যায়। ওযু করে নামায পড়তে হবে।

তাই ইচ্ছেটাকে দমন করে নিতে হল।

মাগরিবের নামাযের পর এলাকার ওলামায়ে কেরামগণ ওয়াজ শুরু করেছেন।

স্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করার বা বুজানোর দক্ষতাও অসাধারণ মনে হচ্ছে।

তবুও মানুষজন ওঠে যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছে এই হুজুরের  ওয়াজ তো প্রায় সময়ই শুনি। একটু ঘুরে আসি। 

প্রধান অতিথি স্টেজে আসুক তার বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনব।

হবলু যে স্থানে বসেছিল তার সামনের অনেক জায়গা খালি হয়ে গিয়েছে।
পিছনে চেয়ে দেখে সকলেই ওঠে গেছে।

হুজুর স্রোতাদের উদ্দেশ্য বলছে, আমরা হলাম প্রথম রাত আর শেষ রাতের বক্তা।
 
আপনারা যারা স্পেন্ডেলের নিচে আছেন তারা সকলেই সামনের দিকে চেপে বসুন।
 এরিমধ্যে পলাশ  এসে বলে চাচা চলুন সামনে চেপে বসি।
-- আরে পলাশ -- তোমার সঙ্গীরা কোথায়?
-- ওরা, তো ঐপাশে, মেলা হচ্ছে ওখানে ঘুরতে গেছে। পরে আসবে।
আর আমি ভাবলাম আসছি যেহেতু মাহফিল শুনতে, তাহলে অযথা ঘুড়াঘুড়ি না করে ওয়াজ শুনি।
-- হুম ভালই করেছ।  চল সামনে চেপে বসি।

পলাশ সামনে গিয়ে হুজুরকে প্রশ্ন করে বসল।

হুজুর আপনি যে বললেন, প্রথম রাত আর শেষ রাতের বক্তা   কথার মানে বুজিনি।

--বুঝেন নাই, বুঝিয়ে বলছি-- প্রথম রাতের বক্তা বলতে -- এ সময় স্রোতারা স্টেজের সামনে বসেনা। আপনাদের মত কিছু দর্শক বা স্রোতা নিয়ে খালি মাঠে বয়ান করে বড় বড় ওলামায়ে কেরামদের বয়ান পর্যন্ত সময় পার করতে হয়। 

আবার, তাদের বয়ান যখন শেষ হয়। তখনো স্রোতা কমে যায়। সেই কম সংখ্যক স্রোতা নিয়ে শেষ রাত অবধি বয়ান করতে হয়।  এজন্যই উক্ত কথাটুকু বলেছি। 

হুজুর বয়ান করে চলেছেন--ইমান, নামায, রোজা,  এই তিন জিনিস মুসলমানদের ঠিক রাখতে হবে, বা পালন করতেই হবে। এতে কোন ছাড় দেয়া চলবেনা। আর যারা ধনী ব্যক্তি আছেন, তাদের উপর আরো দুটি জিনিস ফরজ করা হয়েছে তাহল হ্জ্জ ও যাকাত। ইসলামের এই পাঁচটি স্তম্ভ ধরে রাখতে পারলেই কামিয়াবি হবেন।  

তারপর, মানব সেবা ইসলামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য- আল্লাহকে কাছে পেতে আরেকটি অন্যতম মাধ্যম হলো মানব সেবা।

ইসলাম মানুষের সঙ্গে মানুষের ভালোবাসা ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের জন্য অনুপ্রেরণা দেয়। মানুষের সেবা করতে ও তার কষ্ট লাঘব করার জন্য রাসূল (সঃ) নির্দেশ দিয়েছেন।

মানব সেবা ইসলামের একটি শাখা। আমাদের মুসলমান হিসাবে দায়িত্ব ও কর্তব্য মানুষের সুখে দুঃখে পাশে থাকা। সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়া।

নবী রাসুল ও পীর আউলিয়া যারা ইসলাম প্রচার করেছেন। তারা সবাই মানবতার সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।

হযরত আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসূল ( সঃ) বলেছেন "যে ব্যাক্তি কোন মুমিনের পার্থিব কষ্ট সমূহ থেকে কোন কষ্ট দুর করবে, কেয়ামতের কষ্ট সমুহ থেকে তার একটি কষ্ট দুর করবেন " আবার "যে ব্যাক্তি কোন অভাবীকে দুনিয়াতে ছাড় দিবেন।

আল্লাহতায়ালা তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে ছাড় দিবেন" " যে ব্যাক্তি কোন মুমিনের দোষ গোপন করবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন" (মুসলিম,আবু দাউদ, তিরমিজি) 

আরেকটি হাদিস বলার জন্য সুরেলা কন্ঠে  আরবি পাঠ করছেন। এমতাবস্থায় কয়েকজন তরুণ স্টেজে এসে বলে, হুজুর তাড়াতাড়ি মাইক্রোফোনটি দেন।

বিশেষ অতিথি এসে পড়েছেন। এই বলে মাইক্রোফোনটি নিয়ে নেয়
নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার-
বিশেষ অতিথির আগমণ, শুভেচ্ছা স্বাগতম।
আহলান সাহলান মারহাবা মারহাবা (৪ বার)

বিশেষ অতিথিকে গাড়ী থেকে অভ্যর্থনা দিয়ে কর্তৃপক্ষ বিশ্রামাগারের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে খাওয়া দাওয়া সারবেন।তারপর বিশ্রাম শেষে  ইশা নামাযের পর বয়ান করবেন।
চলমান


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

Mukut Ranjan Das - (Kishoreganj)
প্রকাশ ০৩/০২/২০২১ ১০:৫৩পি এম