MAHBUBUR RAHMAN OVI
প্রকাশ ২৪/০২/২০২১ ১২:০১পি এম

করোনার টিকা নিলেন মিন্নির বাবা

করোনার টিকা নিলেন মিন্নির বাবা Ad Banner

বরগুনায় করোনার টিকা নিলেন চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলার মামলার অন্যতম ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির বাবা মো.মোজ্জামেল হোসেন (কিশোর) মঙ্গলবার (২৩ ফ্রেরুয়ারী) বেলা ১১টায় জেনারেল হাসপাতালের টিকা কেন্দ্রে করোনার টিকা (ভ্যাকসিন) গ্রহণ করেছেন তিনি। পরে টিকা কেন্দ্রের বিশ্রামাগারে আধাঘন্টা বিশ্রাম নিয়ে কেন্দ্র থেকে বেড়িয়ে যান তিনি ।                 

এর পূর্বে কিশোর ২১ ফ্রেরুয়ারী টিকা নিবন্ধন করেন। টিকাদান কর্মসূচির ১৭তম দিনে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের টিকা কেন্দ্রে উপচেপড়া ভীড়ছিল। উৎসব মূখুর পরিবেশে এ টিকা কেন্দ্রে সকলে টিকা নিচ্ছে। করোনা টিকা নিতে এ জেলায় মানুষের মধ্যে টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পূর্বের তুলনায় উৎসাহ বেড়েছে টিকা কেন্দ্র ঘুরে এমনটি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।                   

অপরদিকে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি  নিহত শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফের স্ত্রী ও মো.মোজ্জামেল হোসেন (কিশোর) মেয়ে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি কাসিমপুর কারগারে রয়েছেন।

গত বছরের (২৯-অক্টোবর সকাল ৮টায় বরগুনা কারাগার থেকে কড়া নিড়াপত্তার মধ্যে দিয়ে তাকে কাশিমপুর কেন্দ্রী মহিলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।                 

ঔই বছরের (৩০ সেপ্টম্বর) বুধবার বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আলোচিত এই হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষনা করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো.আছাদুজ্জামান মিয়া। এ হত্যা মামলার রায় মিন্নিসহ ছয় আসামিকে ফাঁসি ও চার জনকে খালাস দিয়েছে আদালত। এছাড়াও প্রত্যেক আসামিকে আদালত ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছিলেন।                 

গত বছরের ২৬ জুন বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি বিশ্ব-বিদ্যালয়  কলেজের  মূল গেটে স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির উপস্থিতিতে  নয়ন বন্ড, রিফাত ও রিশান ফরাজীসহ কয়েক যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। রিফাত শরীফকে কুপিয়ে দেহ রক্তাক্ত করে তারা চলে যায়। রিফাতকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে নেট-দুনিয়ার অলোচনার ঝড় ওঠে। আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি  ও মিন্নির বাবা মো.মোজ্জামেল হোসেন (কিশোর) সকলের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। মিডিয়া পাড়ায় তাদের বাপ-বেটিকে নিয়ে টক-শো,পত্রিকায় সংবাদের পর সংবাদ ছাপানো হয়। কোন-কোন পত্রিকায় তাদের নিয়ে লীড সংবাদ প্রকাশিত হয়।               

এ ঘটনায় নিহত রিফাত শরীফের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ পরের দিন ২৭জুন ১২ জনসহ অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামী করে বরগুনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।               

পরে ঔই বছরের (১ সেপ্টেম্বর) রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুই ভাগে (প্রাপ্ত-অ প্রাপ্ত বয়স্ক) বিভক্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। একই সঙ্গে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়। তাছাড়া এ মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা পলাতক ছিল।                   

আদালতে এ রায়ের পর্যবেক্ষনে বিচারক একটি কথাই বলেছেন যে, এই হামলা মধ্য যুগীয় পৈচাশিক বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। 

এ মামলার  রায় এর বিশেষ বিশেষ দিক আদালতে পড়ে শোনানো হয়। এ হত্যা মামলার  প্রাপ্তবয়স্ক অন্যতম আসামী মুছা বন্ড (২২) অনু-উপস্থিতিত সহ ১০ আসামির মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক  ৯ আসামি ও উভয়পক্ষের আইনজীবিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষনা করেন ।               

এই হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষনার পূর্ব মূহূর্তে  আদালতে আসামীরা স্বাভাবিক ছিলেন। কিন্তু রায় ঘোষনার পরপর কোন কোন আসামী আদালতে একে অপরকে জরিয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। তবে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি অবিচল তাকিয়ে ছিলেন। অন্য দিকে খালাস প্রাপ্তরা উল্লাস করেন।               

এ রায়ে বরগুনার সুশিল সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তারা এ রায়কে যুগান্তকারী রায় বলে অভিহিত করেছেন। এ দিকে একটি ছোট শহরে বড় ঘটনা হওয়ায় এ রায়কে ঘিরে ঔই দিন সকাল থেকে আসামীদের স্বজনেরা ও হাজার হাজার উৎসুক জনতা আদালত প্রাঙ্গনে ভীর জমিয়েছিল।

তারা সাংবাদিকদের বলেন, কঠোর বিচার হওয়ায় সমাজে আর এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না। অপরাধীরা বুজবে অপরাধ করে পার পাওয়া যাবে না। যারা মাদক বিক্রি করে ও নেশা করে তারাই সমাজে এ ধরনে ঘটনা ঘটায়। মাদক মুক্ত সমাজ গঠন করতে হবে।                 

অপরদিকে আসামী পক্ষ এ রায়ে অ-সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন সেদিন রায় প্রত্যাখান করে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানায় সাংবাদিকদের।                 

সেদিন আসামি আল-কাইউম ওরফ্ েরাব্বি  আকন, এর স্বজনেরা আদালত প্রাঙ্গনে কান্নায় ভেঙ্গে পরে । নিরব-নিস্তব্ধ আদালত প্রাঙ্গণের বাতাস কিছুক্ষণের স্বজনেরা আহাজারিতে ভারি হয়ে যায়। এ রায় তাদের ন্যায় হয়নি এমনটি দাবী করেছিলেন তারা।                 

প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির পূর্ণাঙ্গ রায়ে ন্যায় বিচার পেয়েছেন এমনটি দাবী করে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন নিহত শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ। আমি আমার পুত্র হত্যার বিচার পেয়েছি, আমি ন্যায় বিচার পেয়েছি, আলোচিত এই হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে এমন প্রতিক্রিয়া জানতে গিয়ে নিহত রিফাত শরীফের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল কান্নায় জড়িত কন্ঠে এ সব কথা বলেছিলেন।                 

রিফাত হত্যার রায়ের দিন আসামি পক্ষের আইনজীবী এ্যাড.গোলাম মোস্তফা কাদের সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে বিচারক এজলাসে ওঠেন। দুপুর পৌনে ২ টায় আদালতে বরগুনা  জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আলোচিত এই হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষনা করেছেন। এছাড়াও প্রত্যেক আসামিকে আদালত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। বরগুনা  জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো.আছাদুজ্জামান এ মামলার  রায় এর বিশেষ বিশেষ দিক আদালতে পড়ে শোনান।                 

আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষনাকে কেন্দ্র করে সেদিন আদালত প্রাঙ্গনে পুলিশ নিছিদ্র নিরাপত্তা দেয়। রায় ঘোষনাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গনে ২শ৫০জন পুলিশ ছয় স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে ছিলেন।               

ঐ দিন সকাল সাড়ে ৮টায় মিন্নি তার বাবা মো.মোজ্জামেল হোসেন (কিশোর) সাথে মটর সাইকেলে আদালত প্রঙ্গণে আসে। দুপুর পৌন বারটায় কারাগার থেকে নিছিদ্র নিরাপত্তা প্রাপ্তবয়স্ক অন্য আসামিদের আদালতে আনা হয়। পরে রায় শেষে মিন্নিসহ অন্য আসামিদের  কারাগার পাঠানো হয়।               

রুপকথার গল্পের মত রিফাত হত্যার লোমহর্ষ ঘটনা শুনিয়ে আজও মায়েরা তার সন্তানদের ভয় দেখিয়ে ঘুম পড়ায়, বুড়োরা শোনে রিফাত-মিন্নির জারীগান আর যুবকেরা তাদের নিয়ে নির্মিত নাটক-সিনেমা দেখে অনুভব করে সেই র্দূষহ স্মৃতি।  


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ