komal Raha
প্রকাশ ২৩/০২/২০২১ ১১:২৪এ এম

পান-সুপুরির নেশায় হতে পারে মারাত্মক বিপদ!

পান-সুপুরির নেশায় হতে পারে মারাত্মক বিপদ! Ad Banner

পান খাইয়া ঠোট লাল করিলাম বন্ধুর দেখা পাইলাম না। পালের নাও, পান খেয়ে যাও পান নিয়ে প্রচলন আছে বিভিন্ন প্রবাদবাক্য।

প্রাচীন বাংলায় অতিথি  আপ্যায়নে কিংবা কোন বৈঠকে আলোচনা শুরু করার উপলক্ষ্য হিসেবে পানের ব্যবহার দেখা যায়। বিয়ে বাড়ীতে কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়ী বেড়াতে গিয়ে অথবা নিজ বাড়ীতে খাওয়া-দাওয়ার পর মুখ পরিস্কার করতে পান না খেলে যেনো অনেকেরই মন ভরেনা।

পান বলতে মূলত পানের সাথে সুপারি, চুন ও নানান রকমের জর্দা, খয়ের ইত্যাদি একসাথে বোঝায়। পানের সাথে সবসময়ই সুপারি বা নারকেল দেয়া হয়। তবে অনেকেই সুপারি ছাড়া শুধু পান চিবুতে পছন্দ করেন। পানের নেশা ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। 

অনেকেই জানেন, পান–সুপুরি–দোক্তার কারণে মুখের ভিতরের বিভিন্ন অংশে ক্যানসার হতে পারে৷ তাঁদের এমনও ধারণা আছে, তাড়াতাড়ি ধরা পড়লে এই ক্যানসার সেরে যায়৷ এই নেশার ফলে হওয়া ক্যানসার শুধুমাত্র মুখের ভিতরে সীমাবদ্ধ থাকে না, মুখ–গলা–খাদ্যনালী সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে৷  আর এই ক্যানসাগুলো আরও মারাত্মক ৷ এদের কোনও প্রি–ক্যানসার স্টেজও হয় না৷’’

কিন্তু সমস্যা হল, বিপদ বুঝেও মানুষ অনেক সময় এই মারাত্মক নেশা ছাড়তে পারেন না৷ বিশেষ করে পানের সঙ্গে যদি খয়ের, চুন, সুপুরি এসে জোটে। আর সুপুরির সঙ্গে এসে জোটে দোক্তা বা জর্দা৷ যত সময় যায়, এগুলোর নেশা জাঁকিয়ে বসে৷ সারা পৃথিবীতেই এই নেশার চল রয়েছে৷ চা–কফি, সিগারেট, মদের পরই এই নেশার স্থান৷ এর ফলে শুধু ক্যানসার নয়, আরও কিছু মারাত্মক বিপদের আশঙ্কা থাকে৷ অধিকাংশ মানুষ সে খবর জানেন না।

তাই চিকিৎসা চলার সময়ও নেশা ছাড়েন না৷ ফলে চিকিৎসায় আশানুরূপ ফল হয় না৷ বিপদ বাড়ে৷ সুপুরি–দোক্তা বা জর্দার মিশ্রণ শরীরে গিয়ে উদ্দীপকের কাজ করে৷ অল্প করে খেলে ক্যাফেইন ও নিকোটিনের সমতূল্য উদ্দীপনা হয়৷ আর মাত্রা বেড়ে গেলে, তা হয়ে যায় কোকেনের সমতূল্য৷

নিয়মিত মাত্রাছাড়া নেশা চালিয়ে গেলে হৃৎস্পন্দন এলেমেলো হয়ে গিয়ে কার্ডিয়াক জটিল সমস্যার সূত্রপাত হতে পারে৷ তাতে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে৷’’

এখানেই শেষ নয়৷ এই নেশার ফলে মস্তিষ্কের কিছু কাজকর্মের গতিপথ বদলে যেতে পারে৷ মুখে বেশি থুতু তৈরি হয়, চোখে জলের পরিমাণ বেড়ে যায়, ঘাম বেশি হয়, মল–মূত্র ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়, কথায় কথায় ডায়েরিয়া ও বমি লেগে থাকতে পারে ৷

এই সব কাণ্ড–কারখানার কারণেই বিজ্ঞানীরা একে মাদকের তকমা দিয়ে দিয়েছেন ৷ অন্য মাদকের মতো এ থেকে ‘ইউফোরিয়া’ও হয়৷ অর্থাৎ অহেতুক আনন্দ হয়, উত্তেজনা বেড়ে যায়৷ অতিরিক্ত সচেতনও হয়ে যান কেউ কেউ৷ না খেলে হয় সমস্যা দেখা দেয়৷ ফলে আরও বেশি করে নেশার দিকে ঝুঁকে পড়েন মানুষ৷ দ্রষ্টব্য: লেখায় ব্যবহৃত তথ্য ইন্টারনেট থেকে নেয়া।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ