মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
নুরুজ্জামান 'লিটন'
প্রকাশ ২৩/০২/২০২১ ১০:৪২এ এম

নওগাঁয় টোলের নামে চলছে চাঁদাবাজি!

নওগাঁয় টোলের নামে চলছে চাঁদাবাজি! Ad Banner

নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভায় টোলের নামে চলছে চাঁদাবাজি। প্রতিমাসে কয়েক লাখ টাকা আয় হয় এই চাঁদাবাজি থেকে। চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা।

চালকদের অভিযোগ, প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েও সমাধান মিলছে না। তবে পৌরসভার মেয়র রেজাউল কবীর চৌধুরী বলছেন, টোলের বাইরে উত্তোলিত টাকা বিভিন্ন জনকে দিয়ে সন্তুষ্ট করতে হয়।  উপজেলার নজিপুর পৌরসভার ওপর দিয়ে জেলার ধামইরহাট ও সাপাহার উপজেলায় যেতে হয়। জেলা শহর থেকে নওগাঁ-মহাদেবপুর উপজেলা সড়ক ও নওগাঁ-বদলগাছী উপজেলা সড়ক হয়ে নজিপুর পৌরসভায় এবং সাপাহার ও ধামইরহাট উপজেলা থেকে নজিপুর পৌরসভায় আসতে হয়।

নজিপুর পৌরসভা মাঝখানে হওয়ায় অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলা।  সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নজিপুর পৌরসভায় প্রবেশমুখে চারটি রাস্তায় দলবদ্ধভাবে চাঁদা আদায় করা হয়। প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক্টর থেকে ৩০ টাকা, অটোরিকশা থেকে ২০ টাকা করে, ব্যাটারিচালিত চার্জার থেকে ১০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হয়। এসব যানবাহন থেকে প্রতিদিন প্রায় সাত হাজার টাকা এবং মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা উঠানো হয়। যেসব চালকরা চাঁদা দিতে চান না, তাদের যানবাহন রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে দেয়া হবে না বলেও হুমকি দেয়া হয়। 

নওগাঁ শহরের সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক হাসান বলেন, ‘নজিপুর পৌরসভার ওপর দিয়ে সপ্তাহে কয়েকবার জেলার সাপাহার ও ধামইরহাট উপজেলায় যেতে হয়। প্রতিদিন সিএনজি থেকে টোলের নামে ২০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। অবৈধভাবে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা চাঁদা তোলা হচ্ছে। চাঁদা না দিলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন আদায়কারীরা।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কেন তাদের চাঁদা দেব? চাঁদা দিয়ে তো কোনো লাভ নেই। এসব বিষয় দেখার যেন কেউ নেই।’  বদলগাছী উপজেলার কোলা এলাকার ট্রাক্টর চালক রাশেদ বলেন, ‘সপ্তাহে ৬-৭ বার পত্নীতলা থেকে বালু নিয়ে আসতে হয়। সেখানে টোলের নামে ৩০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। নজিপুর পৌরসভার ওপর দিয়ে আসা-যাওয়ার কারণে আমাদের কাছ থেকে এক প্রকার জোর করে চাঁদা আদায় করা হয়।’ 

চাঁদা আদায়কারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘পৌরসভার টোকেন দিয়ে টোল আদায় করা হয়। সাজেদুল ইসলাম সাজু, সাইদুল, শ্রী শঙ্কুসহ তাদের ১৬ জনের একটা দল আছে। প্রতিদিন প্রায় ৩০-৩৫টি অটোরিকশা, ট্রাক্টরসহ অন্যান্য যানবাহন থেকে টোল আদায় করা হয়। শতাধিক ট্রাক্টর থেকে প্রতিদিন ৩০ টাকা, সিএনজি থেকে ২০ টাকা এবং শতাধিক ব্যাটারিচালিত চার্জার থেকে ১০ টাকা করে টোল আদায় করা হয়। তবে কোনো চাঁদা নেয়া হয় না।’ 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাজেদুল ইসলাম সাজু বলেন, ‘গত দুই বছর আগে আমরা পৌরসভা থেকে ইজারা নিয়েছিলাম। পৌরসভা এলাকার মধ্যে লোড/আনলোডের জন্য টোল আদায় করা হতো। কিন্তু দূরপাল্লার জন্য পৌরসভার ওপর দিয়ে কোনো যানবাহন গেলে নেয়া হতো না। এবার আমরা ইজারা পাইনি বা টোল আদায়ের সঙ্গে জড়িত নই।’ 

নওগাঁ জেলা টেম্পু ও সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আশিকুজ্জামান আশিক বলেন, ‘নজিপুর পৌরসভার ওপর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক অটোরিকশা চলাচল করে। চাঁদা উত্তোলনের বিষয়টি নিয়ে অনেকবার আমাদের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে। তারা যেন চাঁদা না তোলে এমন বিষয় নিয়ে কয়েকবার প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও তারা চাঁদা তুলছে। আমরা চাঁদা ওঠানোর পক্ষে না। আসলে পৌরসভার রশিদে কিভাবে তারা চাঁদা তুলছে তা আমার জানা নেই।’ 

 নজিপুর পৌরসভার মেয়র রেজাউল কবীর চৌধুরী বলেন, পৌরসভা এলাকায় লোড বা আনলোডিংয়ের জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে। তবে অন্য উপজেলার যানবাহন চলাচলে পৌরসভার রাস্তাঘাট ব্যবহার করায় ময়লা-আবর্জনা হয়ে যায়। পৌরসভা এলাকায় লোড-আনলোডিং এর বাইরেও কিছু টোল আদায় করা হয়।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ