Shonkor Datta
প্রকাশ ২৩/০২/২০২১ ০৯:৪৬এ এম

সুনামগঞ্জে বিটুমিনের রাস্তা উঠে যাচ্ছে!

সুনামগঞ্জে বিটুমিনের রাস্তা উঠে যাচ্ছে! Ad Banner

সুুনামগঞ্জের ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ-বসন্তপুর রাস্তা এলাকার জীবনমান উন্নয়নে স্বপ্ন সারতি। এ অঞ্চলের মানুষ স্বাধীনতা উত্তর থেকে রাস্তাটির স্বপ্ন দেখে আসছে। সেই স্বপ্ন কিছুটা বাস্তবায়নের পথে । কিন্তু ভালো মানের বিটুমিন(গালা) ব্যবহারের কথা থাকলেও নিম্নমানের ইরানী বিটুমিন ব্যবহার হচ্ছে।তাই রাস্তার কাজের ধরন খুব বাজে প্রকৃতির এবং কোথাও কোথাও পাথর উঠে যাচ্ছে।কাজের মান নিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের বিস্তর অভিযোগ। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায় দু’রকমের বিটুমিন ব্যবহার হচ্ছে রাস্তার। একটি দেশি অন্যটি ইরানী।দেশি ভালো মানের বিটুমিন সবার সামনে রাস্তার পাশে রাখা আর নিম্নমানের ইরানী বিটুমিন লাকেশ্বর মাঝপাড়া মৃত উস্তার আলীর বাড়ির পাশে গুরুস্হানের ওয়াল ঘেঁষে পানিকাপড় দিয়ে ঢাকা রয়েছে। 

দেশি বিটুমিনের গুণগত মান ভালো তাই দামও একটু বেশি।আর দেশি বিটুমিন থেকে ইরানী বিটুমিনের দাম প্রতি ড্রামে ৩ হাজার টাকা কম।আনুমানিক প্রায় ২ হাজার ড্রাম বিটুমিন লগাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েজন শ্রমিক বলেন,”গালা দুইটার মাঝে বেশকম আছে।বাড়িত যে গালা দেকরা (লুকানো) ইতা একজরা নরমাল আর ঐ (কাছে)যে দেকারা ইতা হিতার তাকি কিছু ভালা।” 

এ বিষয়ে আফজলাবাদ ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম মোস্তফা রনি বলেন,রাস্তার কাজে চরম দুর্নীতি হচ্ছে।সাধারণ মানুষ ঠকে যাচ্ছে।যেভাবে রাস্তার কাজ হচ্ছে এমপি মুহিবুর রহমান মানিক ভাইয়ের ও সরকারের বদনাম হবে।আমরা চাই না কতিপয় দুর্নীতিপরায়ণের জন্য সরকারের বদনাম হোক আফজলাবাদ ৬ ন. ওয়ার্ড সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি তারেক আহমদ চন্দন বলেন, খুব বাজে কাজ হচ্ছে।আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহণ করা হোক। 

উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলাম উজ্জ্বল বলেন,আমাদের বহু দিনের স্বপ্ন এ রাস্তা।রাস্তার কাজের যে মান দেখছি মেঘ-বৃষ্টি হলে পাথর খসে পড়বে।আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার চাই। আফজলাবদ ইউপি যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ছাদিক মিয়া বলেন,কাজে জনগণকে ধোকা দেয়া হচ্ছে ।আমরা দেখেছি অনেক জায়গাতে পাথর উঠে যাচ্ছে।সঠিক তদন্ত করে এর সুষ্ঠু সমাধান করা উচিত। 

প্রতিবেদকের সাথে আফজলাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদ, আফজলাবাদ ইউপি আওয়ামিলীগ সভাপতি ফিরুজ আলীর ও ছয় ন.ওয়ার্ড মেম্বার নোয়াব আলী সাথে আলাপ হয়। মুঠোফোনে গয়াছ আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত বলে জানান।মেম্বার নোয়াব আলী সরজমিনে পরিদর্শনও করেন। 

মালামাল রিসিভার কন্ট্রাক্টেরের ভাতিজা জুয়েলকে বাড়ির ভিতরের ড্রাম সম্পর্কে জিজ্ঞাস করা হলে, তিনি বলেন এ বিষয়ে আমি জানি না।মালের মধ্যে পার্থক্য আছে কি না তাও তিনি জানেন না বলে জানান।  ওয়ার্ক এ্যাসিটেন্ট মুসলিম উদ্দীন বলেন, আমরা সব সময় বাংলদেশি বিটুমিন দিয়ে কাজ করি। আমি সকালবেলা দেখে গেছি বাংলাদেশি বিটুমিন ব্যবহার হচ্ছে। তাকে প্রশ্ন করা হয়,ভালো বিটুমিন কোনটা? তিনি বলেন,বাংলাদেশি।তাকে আবার বাড়ির ভেতর লুকানো বিটুমিন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, এটা কোন দেশি? তিনি বলেন এটা ইরানী। কিন্তু কেমন করে কীভাবে এখানে এল আমি জানি না,আপনারা কন্ট্রাক্টধারের সাথে আলাপ করুন।

এ ব্যাপারে কন্ট্রাক্টধার ছাদিক মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলে, আমি অনেক দূরে কাজের সাইটে আছি, আসতে পারবো না।কী বলার বলেন।নকল বিটুমিন সম্পর্কে জিজ্ঞাস করা হলে তিনি বলেন,আমাদের এখানে ইরানী কোনো বিটুমিন নেই। 

মুঠোফোনে সুুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, তিনি অন্যত্র বদলি।তবে ফোন রিসিভ করেন প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম। তাঁকে এ ব্যপারে জিজ্ঞাস করা হলে তিনি বলেন ছাতকের এ অংশটুকু আমাদের অধীনে নয়,সিলেট সড়ক বিভাগের অধীনে। 

সিলেট সড়ক বিভাগের উপ- প্রকৌশলী সুমন চন্দ্র দাসের অধীনে গোবিন্দগঞ্জ এলাকা।তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।ছাতক উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ আবুল মুনসুর মিয়ার সাথে যোগাযোগ হলে তিনি মিটিংয়ে আছে বলে কথা বলা সম্ভব হয়নি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ