মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
Bahar Ullah
প্রকাশ ২২/০২/২০২১ ০৭:৩৭পি এম

হাতিয়ার তিন বিদ্যালয় মেঘনায় বিলীনের আশঙ্কায়

হাতিয়ার তিন বিদ্যালয় মেঘনায় বিলীনের আশঙ্কায় Ad Banner

যেকোন মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে নোয়াখালীর হাতিয়ার চানন্দি (নলেরচর) ইউনিয়নের জনতা বাজার বহুমুখী আশ্রয়নকেন্দ্র ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি।

একই ঝুঁকিতে রয়েছে মেঘনা তীরের আরও দুইটি বিদ্যালয়ের ভবন। মেঘনার পানির তোড়ে আশেপাশের জায়গার মাটি সরে ফাটল দেখা দেওয়ায় আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।   

একইভাবে গত সাযেকোন মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে নোয়াখালীর হাতিয়ার চানন্দি (নলেরচর) ইউনিয়নের জনতা বাজার বহুমুখী আশ্রয়নকেন্দ্র ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি। একই ঝুঁকিতে রয়েছে মেঘনা তীরের আরও দুইটি বিদ্যালয়ের ভবন। মেঘনার পানির তোড়ে আশেপাশের জায়গার মাটি সরে ফাটল দেখা দেওয়ায় আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।   

একইভাবে গত সাত বছরে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এরকম অন্তত ১০টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন।ত বছরে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এরকম অন্তত ১০টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন।স্থানীয়দের মতে, নদীতে বিলীন হয়ে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তেমনি ক্ষতির মুখে এ অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থা।

এছাড়া ভবনগুলো ভেঙে নদীতে পড়ে যাওয়ায় ক্ষতি হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকা। তাই সরকারিভাবে নদীভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।   সরজমিনে দেখা গেছে, জনতা বাজার বহুমুখী বিদ্যালয়ের ভবনের দক্ষিণ পাশের নিচের অংশে মাটি সরে গিয়ে মেঘনার বুকে ঢলে পড়েছে।

ভবনের দেয়ালের চারপাশে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। বড় অংশ নিয়ে ফাটল ধরে আছে আশপাশের মাটিও। ভবনটি যে কোন মুহূর্তে মাটিসহ ভেঙে পড়তে পারে নদীতে। এ আশঙ্কায় বিদ্যালয়টির ভেতরে থাকা আসবাপত্র আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। 

একাধিক সূত্র বলছে, ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত উপজেলার চানন্দি ইউনিয়নে নির্মাণ হয়েছে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০টি ভবন। যেগুলো আবার ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা জলোচ্ছ্বাসে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হত।

এগুলোর মধ্যে গত সাত বছরে চর বাসার, শেখ হাসিনা বাজার, আদর্শ গ্রাম, বাতানখালি, জয় বাজার, মুজিব বাজার, রেহানা বাজার, মসজিদ মার্কেট এম আলী, শাবনাজ বাজার হাজী গ্রাম ও কিল্লার বাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আশ্রয়কেন্দ্র ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়াও একই সময়ে নদীগর্ভে গেছে প্রায় ১৫টি মসজিদ, ১০টি বাজার, ৩৭টি দাখিল, ইবতেদায়ী ও নূরানী মাদ্রাসা। বাস্তুচ্যুত হয়েছে অন্তত ২০ হাজার পরিবার।

আর এই পরিবারগুলো বর্তমানে বিচ্ছিন্নভাবে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোরসড়কের পাশে বসতি করে রয়েছে।   এলাবাসী জানায়, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে জনতা বাজারে নির্মিত হয় জনতা বাজার বহুমুখী আশ্রয়ণকেন্দ্র ও প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি।

প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ, নেদারল্যান্ড সরকার ও ইফাদ-এর যৌথ অর্থায়নে চর উন্নয়ন ও বসতি স্থাপন প্রকল্প-৪ (সিডিএসপি) দুই তলায় ১০টি কক্ষ বিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণ করে। মাত্র ছয় বছরে এ ভবনটি এখন নদী গর্ভে বিলীনের পথে।

বন্যা, প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও জলোচ্ছ্বাসের সময় বিদ্যালয়ে এ ভবনটিতে আশ্রয় নিত হাজার হাজার মানুষ। বাকী সময় এখানে বেসরকারিভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান চলতো। কিন্তু কয়েক মাস আগে মেঘনার ভাঙনের মুখে পড়ে বিদ্যালয়টি।

ভবনটি নদীতে তলিয়ে গেলে এলাকার প্রায় তিন শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন বিপন্ন হবে। মেঘনায় বিলীনের পথে রয়েছে ফরিদপুর বাজার ও হেমায়েতপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন দুটিও। এ দুই বিদ্যালয়ের অন্তত ছয় শতাধিক শিশু পড়াশোনা করে। 

স্থানীয়দের জানান, দ্রুত বিদ্যালয়গুলো রক্ষার পাশাপাশি নদীতে ব্লকবাঁধ নির্মাণ করে বিশাল এ জনপদকে রক্ষা করা জরুরি। এছাড়াও ঝুঁকিতে থাকা ভবনগুলোকে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরিয়ে নিলে নদীতে চলাচলকারী নৌযান বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পাবে।

একইসঙ্গে সরকারের মালামাল কিছুটা উদ্ধার হবে।  ফরিদপুর বাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাফর ইকবাল বলেন, তার বিদ্যালয়ে মোট চারজন শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৭৬ জন। করোনাকালীন বন্ধের আগে নিয়মিত চলছিল পাঠদান কার্যক্রম।

কিন্তু গত কয়েক মাসে মেঘনা নদীবিদ্যালয় ভবনটির সন্নিকটে চলে এসেছে। যেকোন মুহূর্তে নদীতে ভেঙে পড়বে বিদ্যালয়টি।   শিশু শিক্ষার্থী মামুন জানায়, সে জনতা বাজার বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল। যখনই মেঘনা নদী বিদ্যালয়টির সন্নিকটে চলে আসে তখন সে তার পরিবারের সাথে চর আজমল গ্রামে চলে যায়।

বর্তমানে সে স্থানীয় ভূমিহীন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভর্তি হয়েছে। জনতা বাজার বিদ্যালয়ের তার অনেক সহপাঠিই বিদ্যালয়টি ভেঙে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছে। 

এদিকে হাতিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ভব রঞ্জন দাস জানান, জনতা বাজার বহুমুখীসহ যেসকল বিদ্যালয়ের ভবন মেঘনার ভাঙনের মুখে রয়েছে সেগুলো থেকে আসবাপত্র সরিয়ে হেফাজতে রাখার জন্য পরিচালনা কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও ওই বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কোনো বিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। 

এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, ভেঙে পড়া বিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি কোন জায়গাতে অস্থায়ীভাবে বিদ্যালয় করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালানোর ব্যবস্থা করার জন্য পরিচালনা কমিটিকে বলা হয়েছে। 

তবে হাতিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুব মোরশেদ জানান, আমরা নদীভাঙন রোধে কাজ করছি। একনেকে থাকা বিলটি পাস হলে দ্রুত নদীভাঙন রোধে কাজ শুরু করা হবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ