জাহাঙ্গীর আলম কবীর
প্রকাশ ২২/০২/২০২১ ০৬:৫৭পি এম

ভেঙে পড়েছে পোস্ট ই-সেন্টারের সেবা

ভেঙে পড়েছে পোস্ট ই-সেন্টারের সেবা Ad Banner

বর্তমান সরকার ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের আদলে দেশের সকল পোষ্ট অফিসে পোস্ট ই-সেন্টার সেবা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেয়। ‘পোস্ট ই-সেন্টার ফর রুরাল কমিউনিটি’ নামে প্রকল্পটি ২০১২ সাল থেকে শুরু হয়। কাগজে কলমে ২০১৭ সালের ৩০ জুন এই প্রকল্পের কাজ সাতক্ষীরায় শতভাগ সম্পন্ন হয়ে যায়।

প্রতিটি পোস্ট ই-সেন্টার এসএসসি পাস ও তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞানসম্পন্ন একজন পুরুষ ও একজন নারী উদ্যোক্তার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা। পোস্ট ই-সেন্টার পরিচালনা পদ্ধতির নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্যোক্তা নির্বাচনে পোস্টমাস্টার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তির সহযোগিতা গ্রহন করার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি।

প্রতিবন্ধী ও নারীকে উদ্যোক্তা নির্বাচনে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়নি। কিন্তু উদ্যোক্তার বদলে কোন কম্পিউটার ব্যবসায়, ওষুধ ব্যবসায়ী মুদি ব্যাবসায়ী, বা অন্যকোনও ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বানিয়ে দেওয়া হয়েছে পোষ্ট ই-সেন্টার।

সাতক্ষীরার শাখা পোস্ট অফিসগুলোতে অবকাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ের অভাবে পোস্ট ই-সেন্টার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রচারও করা হচ্ছে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ই-সেবা নিতে ততটা আগ্রহী না। সেবা নিতে আসা লোকের সংখ্যা খুবই কম।

অধিকাংশ পোষ্ট ই-সেন্টার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষকসহ সমাজের কোনও মানুষই এই ই-সেন্টার সম্পর্কে অবগত নয়।
পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং, নানারকম ভাতা, ইন্টারনেট সেবা ও উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে সারাদেশের ন্যায় পোস্ট ই-সেন্টার সেবা চালু করা হয়।

কিন্তু অবকাঠামোর অভাব, জনবল সংকট, প্রচার ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে এর কাঙ্খিত সুফল পাচ্ছেন না। কম্পিউটার কম্পোজ, কম্পিউটার প্রিন্টিং, স্ক্যানিং, ছবি প্রিন্ট, ই-মেইল সেবা, ইন্টারনেটের মাধ্যমে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও পরীক্ষার ফলাফল, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, দেশে-বিদেশে ভিডিও কনফারেন্স, আর্থিক সেবা, এজেন্ট ব্যাংকিং,

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ভাতা প্রদান, ই-কমার্স, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা রয়েছে এই ডাক বিভাগের পোষ্ট ই-সেন্টারে।

পোস্ট ই-সেন্টারের লক্ষ্য ছিল কম্পিউটারের উপর মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে আত্বকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, ব্যাংকিং সুবিধা বঞ্চিত জনগণকে ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান, ই-কমার্সের সেবা প্রদান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ভাতা প্রদান, বীমা পলিসি বিক্রয় এবং প্রিমিয়াম আহরণ ও বিতরণ করা,

ই-বিজনেস এর স¤প্রসারণ, টেলিমেডিসিন সেবা প্রদান, কৃষি তথ্য সেবা, বালাই ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি সেবা প্রদান সহ অন্যান্য ই-সেবা প্রদান।

ই-সেন্টারে সরবরাহকৃত মালামাল

সাতক্ষীরা জেলার দুটি উপবিভাগে পোস্ট ই-সেন্টারে উল্লেখিত সেবা দেবার জন্য ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রতি উপজেলা পোস্ট ই-সেন্টারে ২টি ডেক্সটপ কম্পিউটার, ২টি মাউচ, ২টি কী-বোর্ড, ১টি লেজার প্রিন্টার, ১টি ফটো প্রিন্টার, ১টি ওয়েভ ক্যাম, ১টি হেডফোন, ১টি কম্পিউটার ট্যাবিল, ১টি মুভিং চেয়ার, ২টি কাস্টমার চেয়ার, ১টি সিমসহ মডেম, ২টি এমকে ছকেট বোর্ড, ২টি মাল্টিপ্লাগ এবং ১০০০ ওয়ার্ডের সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট সরবরাহ করে। আর ব্রাঞ্চ অফিসের জন্য কোর আই-৫ দোয়েল ব্যান্ডের ৩টি ল্যাপটপ, ৩টি ল্যাপটপ ক্যারি ব্যাগ, ৩টি মাউচ, ৩টি কী-বোর্ড, ১টি লেজার প্রিন্টার, ১টি ফটো প্রিন্টার, ১টি সিমসহ মডেম, ৩টি এমকে ছকেট বোর্ড, ৩টি মাল্টিপ্লাগ ও ১০০০ ওয়ার্ডেও সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট দেয়া হয়। প্রতিটি ই-সেন্টারে সরবরাহকৃত মালামালের মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

সরকারি মালামাল ব্যবহার
এই পোস্ট অফিসের ই-সেন্টার থেকে তেমন কোন সেবা জনগণ পাচ্ছে না। অধিকাংশ পোষ্ট অফিসের কতিপয় কিছু পোষ্ট মাষ্টার তাদের ব্যক্তি স্বার্থের জন্য সাধারণ জনগণের সেই সব সেবা দেয় না। শুধু তাই না পোষ্ট মাষ্টার তাদের নিজস্ব ব্যক্তিদের নাম ঠিকানা দিয়ে উদ্যোক্তা পদে নিয়োগ দিয়ে ডাক বিভাগের সম্পদ ও মালামাল নিজেদের কাজে ব্যবহার করে থাকেন।

আর সরকার এখান থেকে প্রতিমাসে হাজার হাজার টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। ডাক বিভাগের কিছু দুর্নীতিবাজ পোস্ট মাষ্টারের দায়িত্ব অবহেলার কারণেই ডাক বিভাগের ভাবমূর্তী নষ্ট হচ্ছে। এই দুর্নীতিবাজ পোষ্ট মাস্টাররা সরকারি মালামাল নিজের ছেলে-মেয়ের কিংবা তার ব্যবসার কাজে ব্যবহার করে থাকে।

কোনও কোনও ই-সেন্টারগুলোর নামে সরকারের বরাদ্দ করা বিনা মূল্যের সরঞ্জাম বাইরে বাজারে বিক্রি হয়ে গেছে। সৌর বিদ্যুৎ প্লান্টগুলোর বেশির ভাগ ব্যবহারিত হচ্ছে পোস্ট মাস্টার কিংবা উদ্যোক্তাদের বাড়িতে। আবার কোনও কোনও প্লান্ট নষ্ট হয়ে গেছে।

১০০০ ওয়াটের প্লান্ট হওয়ায় স্থানীয়ভাবে মেরামতের কোনও সুযোগ নেই। দোয়েল ব্রান্ডের ল্যাপটপগুলো ভিডিও, ডিসপ্লে ও কিবোর্ডের সমস্যা লেগেইে আছে। এর ব্যাটারিগুলো নি¤œমানের হওয়ায় খারাপ হয়ে গেছে। এখন বিদ্যুৎ ছাড়া চলে না। কলারোয়া উপজেলা পোস্ট ই-সেন্টারের উদ্যোক্তা জানান, তার সেন্টারর লেজার প্রিন্টারটি ৪ বছর খারাপ হয়ে পড়ে আছে।

কালার প্রিন্টারটির হেডের সমস্যা। মথুরেশপুর পোস্ট ই-সেন্টারের উদ্যোক্তা রাকিব হোসেন বলেন, তার সেন্টারের লেজার প্রিন্টারটি ২০১৮ খারাপ হয়ে যায়। খুলনা থেকে সার্ভিসিং করিয়ে নিয়েছেন। মজার ব্যাপার হলো ১৫৯টি ই-সেন্টারের মধ্যে ৬০ ভাগেরও বেশি লেজার প্রিন্টার নষ্ট।

কালার প্রিন্টার খারাপ ৪৫ ভাগ। প্রকল্প শেষ হয়ে যাওয়ায় মেরামতের ব্যবস্থা নেই। কেউ কেউ নিজেরাই মেরামত করিয়ে আনছেন। এসব কারণে শ্যামনগর উপজেলার কয়েকটি ই-সেন্টার বন্ধ হয়ে গেছে।

জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা ২০১১ উপেক্ষা
পোস্ট ই-সেন্টার পরিচালনা পদ্ধতিতে বলা হয়েছিল, প্রতিটি পোস্ট ই-সেন্টার ১ জন পুরুষ ও ১ জন নারী উদ্যোক্তার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। উদ্যোক্তাগণের শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম এসএসসি পাশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন। ডাক বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় উদ্যমী ও কর্মঠ উদ্যোক্তাদের নিয়োগ করবেন।

উদ্যোক্তা নির্বাচনে গ্রামীন ডাকঘরের পোস্টমাস্টার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তির সহযোগিতা গ্রহন করা হয়। প্রতিবন্ধী ও নারীকে উদ্যোক্তা নির্বাচনে অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে। দেশের জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা ২০১১-তেও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সংবিধানের আলোকে রাষ্ট্রীয় ও গণজীবনের সকল ক্ষেত্রে নারী পরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে (ধারা ৫.১.১)।

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে (ধারা ৫.১.৩)। তথ্য প্রযুক্তিতে নারীকে পূর্ণ ও সমান সুযোগ প্রদান করতে হবে (ধারা ৫.১০.১)। চাকরির ক্ষেত্রে নারীর বর্ধিত নিয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রবেশ পর্যায় সহ সকল ক্ষেত্রে কোটা বৃদ্ধি এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে (ধারা ৫.১১.২)। কিন্তু এই উদ্যোক্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে এগুলো সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হয়েছে।

অবকাঠামো
সাতক্ষীরা জেলায় ডাক বিভাগ দুটি ভাগে বিভক্ত। সাতক্ষীরা উপবিভাগ ও কালিগঞ্জ উপবিভাগ। সাতক্ষীরা উপবিভাগে ই-সেন্টারের সংখ্যা ৭৯টি। এর মধ্যে ডাকঘরের নিজস্ব ভবনে ২২টি ই-সেন্টারের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কালিগঞ্জ উপবিভাগে ই-সেন্টারের সংখ্যা ৮০টি।

এর মধ্যে ডাকঘরের নিজস্ব ভবনে ২০টি ই-সেন্টারের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই হিসাবে দুই উপবিভাগে ১৫৯টি ই-সেন্টারের মধ্যে ৪২টি ছাড়া বাকি ১১৭টিই পরিচালিত হয় যত্রতত্র। ডাকঘরের ভবন না থাকায় যেখানে ইউনিয়ন পরিষদের ভবন রয়েছে সেখানে কোনও কোনও ই-সেন্টার এই ভরনের একটি কক্ষে পরিচালিত হচ্ছে।

ডাক বিভাগের প্রত্যেকটি পোস্ট অফিসের জন্য সরকারের নিজস্ব জায়গা না থাকায় সম্পত্তির অভাবে গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ ই-সেন্টারগুলো পরিচালিত হয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, দোকান-পাট ও বাসা বাড়িতে। আর এই কারণে সাধারণ মানুষ ডাক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বাজারের দোকানে ব্যবহার হচ্ছে মূল্যবান মালামাল।

জনগণের সাড়া
সাধারণ মানুষ জানেই না পোস্ট ই-সেন্টার কি। এমন ব্যক্তিও আছেন যিনি ই-সেন্টারের কথা আজ প্রথম শুনলেন। একেবারে নামকাওয়াস্তে চলছে এসব ই-পোস্ট সেন্টারের সেবা কার্যক্রম। এলাকাবাসীরা জানান, সুযোগ-সুবিধা তো পাওয়াই যাচ্ছে না। ওসব তো আমরা কোনওদিন দেখিনি। প্রায় সেন্টারগুলো থাকে বন্ধ। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি কথা থাকলেও তা মানা হয় নি।

আর যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাবে এসব ল্যাপটপ ব্যাবহার করছেন পোষ্ট মাষ্টার, পিয়ন ও তাদের ছেলে মেয়েরা।

প্রত্যাশিত সেবা কার্যক্রম

প্রতিটি পোস্ট ই-সেন্টার ১ জন পুরুষ ও ১ জন নারী উদ্যোক্তা নির্বাচন করে একটি ই-সেন্টার প্রতিষ্ঠার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। সাতক্ষীরা উপবিভাগ ও কালিগঞ্জ উপবিভাগে উদ্যোক্তার সংখ্যা ১৫৯টি ই-সেন্টারে ১৫৯ জন। এর মধ্যে নারী উদ্যোক্তা মাত্র ৮ জন। এখানে রয়েছে সুশিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তার অভাব।

উদ্যোক্তারা পোস্ট অফিসের পাশে সুবিধাজনক স্থানে একটি পোস্ট ই-সেন্টার প্রতিষ্ঠা করবেন, তাও করা হয়নি। কোথাও কোথাও ইউনিয়ন পরিষদের ই-সেন্টারের উদ্যোক্তা ব্যবহার করছে পোস্ট ই-সেন্টারের সরবরাহকৃত মালামাল। আবার কোথাও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে সরঞ্জামাদি।

ই-পোস্ট সেন্টারের সাইনবোর্ড ঝুলানো থাকলেও নেই কোনও ই-সেবার সরঞ্জাম। আবার বিপরীত চিত্রও আছে। মালামাল আছে সাইবোর্ড নেই, থাকলেও তা বিবর্ণ। বোঝার উপায় নেই। কোথাও ডাকঘর আছে, মানুষ নেই। কোথাও ডাকঘর ঘর আছে দরজা জানালা নেই।

কোথাওবা ডাকও নেই, ঘর নেই মানুষ নেই, আছে সরকারি সেবা কার্যক্রম। তাও চলছে সবগুলো কাগজে আর কলমে। এ যেন কাজির গরু কেতাবে আছে। স্টুডিও, নগদ-বিকাশ-ব্যাংকিং এজেন্টের দোকান, ওষুধের দোকান, মুদি দোকান ও বাসা বাড়িতে হওয়ায় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

আইটি প্রশিক্ষণসহ সকল সেবা প্রদাান করার কথা থাকলেও বাস্তবে তার দেখা মেলেনি। কম্পোজ, স্ক্যানিং, ফটোকপি, ছবি সম্পাদনা, ই-মেইল, ব্রাউজিং, ভিডিও কনফারেন্স, প্রিন্টিং, ছবি তোলা, অনলাইনে কেনাবেচা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ও ফল দেখা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে সেবার আবেদন ইত্যাদির জন্য জনগণের ছুটে যেতে হয় বাণিজ্যিক কোনও প্রতিষ্ঠানে।

বিভিন্ন বয়সী প্রশিক্ষণার্থী কম্পিউটারের ওপর মৌলিক প্রশিক্ষণের জন্য যেতে হচ্ছে কলারোয়া, ঝাউডাঙ্গা, মাধবকাটি, কদমতলা, পাটকেলঘাটা, তালা, পারুলিয়া, বুধহাটা, আশাশুনি, নলতা, কালিগঞ্জ, শ্যামনগরসহ জেলা শহর সাতক্ষীরায়। অথচ পোস্ট ই-সেন্টারগুলোতে ১৫ দিন থেকে ৬ মাস মেয়াদী বিভিন্ন কোর্স চালু চালু রাখার কথা।

পোস্ট ই-সেন্টার উদ্যোক্তা ফোরাম

উদ্যোক্তাদের দাবি দাওয়া আদায়ের জন্য ২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর বুধবার জেলা পোস্ট ই-সেন্টার উদ্যোক্তা ফোরামের কমিটি গঠনের উদ্দ্যেশে মোজাফফার গার্ডেনে এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন পোস্ট ই-সেন্টার উদ্যোক্তা ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম মাজেদুল ইসলাম।

জেলার সকল উদ্যোক্তার উপস্থিতে তালা উপজেলা পোস্ট ই-সেন্টার উদ্যোক্তা আতাউর রহমানকে (এলিট) সভাপতি, শ্যামনগরের ভূরুলিয়া পোস্ট ই-সেন্টার উদ্যোক্তা আবু সাইদকে সহ-সভাপতি, সাতক্ষীরা জেলা পোস্ট ই-সেন্টারের উদ্যোক্তা ইকবাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক, কলারোয়া পোস্ট ই-সেন্টারের উদ্যোক্তা শরিফুল ইসলামকে সহ-সাধারণ সম্পাদক, তালার দেওয়ানিপাড়া পোস্ট ই-সেন্টার উদ্যোক্তা মেহেদী হাসানকে কোষাধ্যক্ষ, শ্যামনগরের হরিনগর পোস্ট ই-সেন্টার উদ্যোক্তা তাহমিদুর রহমানকে সাংগঠনিক সম্পাদক,

কালিগঞ্জ উপজেলা পোস্ট ই-সেন্টার উদ্যোক্তা কামরুন্নাহারকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সাতক্ষীরার বাকাল পোস্ট ই-সেন্টার উদ্যোক্তা আল জোবায়েরকে প্রচার সম্পাদক, দেবহাটার গুরুগ্রাম পোস্ট ই-সেন্টার উদ্যোক্তা শাহিনুর রহমানকে দপ্তর সম্পাদক, তালার হরিহরনগর পোস্ট ই-সেন্টার উদ্যোক্তা মুর্শিদ আলমকে আইসিটি সম্পাদক,

আশাশুনি উপজেলা পোস্ট ই-সেন্টার উদ্যোক্তা আশরাফুল আলমকে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সাত উপজেলা থেকে ৭ জনকে সদস্য করে কমিটি হয়। সদস্যরা হলেন শ্যামনগর উপজেলা পোস্ট ই-সেন্টার উদ্যোক্তা মাছুম বিল¬াহ, কালিগঞ্জ মথুরেশপুর পোস্ট ই-সেন্টার উদ্যোক্ত রাকিব হোসেন, তালার বারুইপাড়া পোস্ট ই-সেন্টার উদ্যোক্তা সিদ্দিকুর রহমান,

সাতক্ষীরা জেলা প্রধান পোস্ট ই-সেন্টার উদ্যোক্তা শরিফুল ইসলাম, দেবহাটা উপজেলা পোস্ট ই-সেন্টার উদ্যোক্তা সেগবত উল¬াহ। এই কমিটি ১ বছরের জন্য অনুমোদন প্রধান করা হয়। কিন্তু এই কমিটি তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনও দাবি নিয়ে ভূমিকা রাখতে পারেনি। আর নতুন কোনও কমিটি গঠনও করা হয়নি।

আরও যা হয়নি

সকল পোস্ট ই-সেন্টার এর উদ্যোক্তারা ই-সেন্টারের নামে ফেসবুক আই-ডি খোলার কথা থাকলেও হাতে গোনা ৮টি সেন্টারের আইডি আছে। আইডি খুলেছে উদ্যোক্তাদের নিজ নামে বা খেয়াল খুশি মতো। ৫ বছরেও করা হয়নি উদ্যোক্তা তালিকা। প্রকল্প শেষে সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি উদ্যোক্তাদের কাছে।

পোস্ট ই-সেন্টারটি কীভাবে পরিচালিত হবে, পরবর্তীতে সেন্টারটি কীভাবে চলবে এমন ২৭টি ধারার সমন্বয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। সেটি সম্পর্কে এই প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা কেউ অবহিত নয়। উদ্যোক্তাদের আয়ের ১০ শতাংশ সরকারি খাতে জমা হয় হয়না ঠিক মতো।

এসব বিষয় নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হয় দুই উপবিভাগের পরিদর্শকদের সাথে। সাতক্ষীরা উপবিভাগের পরিদর্শক নন্দন কুমার চৌধুরীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দু’ দুবার চায়ের দাওয়াত দেন তার অফিসে। দাওয়াত দিয়ে দুবারই অফিসে অনুপস্থিত থেকেছেন। পরবর্তীতে তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি।

এই অফিসের অফিস সহকারী বলেন, স্যার অফিসে আসেন খেয়াল খুশি মতো। কালিগঞ্জ উপবিভাগের পরিদর্শক আরিফুল ইসলাম বিষয়টি এড়িয়ে যান। কথা বলতে রাজি হননি। বলেন, তিনি পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। তবে এই দুই পরিদর্শক অফিস না করলেও ফিল্ড ভিজিটের নামে টিএ ডিএ নেন ঠিকই।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ