সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১
oyasim uddin - (Kishoreganj)
প্রকাশ ২২/০২/২০২১ ০৬:১০পি এম

হবলু পাগলা সমাচার

হবলু পাগলা সমাচার Ad Banner

মীর বাড়ীর পুকুর পাড়ে পেঁপে গাছগুলিতে ছোটবড় অনেক পেঁপেঁ ধরেছে। পুকুরের উত্তরপাশ বাদে অন্য তিনটি পাড়েই পেঁপেঁর চারা লাগানো হয়েছিল। যা দেখ দেখ করেই বড় হয়ে গেছে। হবলু ঘুরে ঘুরে গাছগুলি দেখছে।ছোট ছোট পেঁপেগুলি কয়দিন পরেই হয়তো বাজারে বিক্রি  করা যাবে। 

পুকুরের পূর্বপাশ ঘেষে নতুন পিছঢালা রাস্তাটি পশ্চিম দিকে দামিহা  বাজার হয়ে উপজেলার সাথে সংযোগ সৃষ্টি করেছে। যা কিছুদিন পূর্বেও কাচা রাস্তা ছিল। বৃষ্টির দিনে মানুষের ভোগান্তির অন্ত ছিলনা।

দেশ ক্রমেই উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এখন যে কোন সময় মানুষজন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সহজে যাতায়াত করতে পারে। পুকুরের উত্তর দিক থেকে একটি মাইকের আওয়াজ ভেসে আসছে। ইসলামী সমাবেশের মাইকিং করছে।

দুটি যুবক মাইকে জানিয়ে দিচ্ছে  প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও অন্যন্যদের নাম।  পুকুরের পূর্ব পাশ ঘেষে মাইকের রিকশাটি চলে গেল বাজারের দিকে। হবলু তাদের পিছু পিছু হেটে বাজারের দিকে যেতে খাকলো। 

বাজারের ভিতরে ঢুকতেই চায়ের স্টল থেকে হবলু ভাই হবলু ভাই করে ডাকছে।  কাছে যেতেই রহিমউদ্দিন বলে, ভাই আজ আমার স্টলে বসো কয়টা টাকা বেচাকেনা করি। 

হবলু পাগলা বাজারে চায়ের স্টলে বসে গান গাইলে, আশে পাশের মানুষগুলি ভীড় জমায় সেই সুবাদে মানুষজন চা,পান খায়। ফলে স্টলের মালিক লাভবান হয়।

হবলু বলে-- নারে ভাই আজ আমার ভাব নাই গান গাইতে পারব না।

-- ঠিক আছে গান গাইতে হবে না। চা খাইয়া যাও। হবলু ভিতরে ঢুকে বেঞ্চিটাকে গামছা দিয়ে ঝাড়া দিয়ে বসে পড়ে।এরি মধ্যে কয়েকজন লোক হাতে একটি লিফলেট নিয়ে ঢুকে। একজন লোক বলছে এ্যাই চল আজ সন্ধ্যায় ন্যামতপুরে  সভা দেখে আসি। পীরজাদা সাহেব আসবে খুব ভালো বয়ান করে। শুনলে মনটা শীতল হয়ে যায়। অন্যজন বলে নারে ভাই এত দুরে যেতে পারবোনা।

-- দুরে কোথায়? গাড়িতে উঠলে আর কতক্ষণ সময় লাগে। পাশের জন বলে, যাওয়াটা তো সমস্যা না। আসার সময় যে চোখ বন্ধ হয়ে আসে। ঝিমুতে ঝিমুতে টেম্পো থেকে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এভাবে অনেক দূর্ঘটনার নজিরও আছে। 

তারা কিছুক্ষণ এ বিষয়ে কথাবার্তা বলে  সিদ্ধান্ত নিয়েই নিলো যে,  আরো কিছু বন্ধু বান্ধব নিয়ে সন্ধ্যার আগে ওয়াজ মাহফিলের দিকে রওনা দিবে। আনন্দ ফুর্তিও চলবে সওয়াবও হবে।  এদিকে হবলুকে স্টলে বসা দেখে ধীরে ধীরে লোকজন জায়গা দখল করে বসতে শুরু করলো।  অনেকেই বলছে, কি হবলু ভাই আজ এত নীরব কেন? গানে টান দেও মনটা হালকা হঊক।

--হবলু হেসে বলে তো- মিয়া কি কি বাজার করে আনলা?

-- আরে গরীব মানুষের আবার বাজার এ্যা-ই আলু,বেগুন,সীম, আর কয়ডা পাবদা( পেঁপেঁ) কিনছি।

-- গরীব মানুষের যদি বাজার করতে সমস্যাই হয়! তাইলে কতগুলি বেগুনের চারা, পেঁপের চারা সীমের বীজ বাড়ীর আঙ্গিনায় লাগাইয়া রাখলেই তো হয়। নিজে সারা মাস তরতাজা সবজি খাইতে পারবা। আবার বাজারে বিক্রিও করা যাইবো। 

সকলেই কথাটিকে গুরুত্ব দিল। রহিম উদ্দিন বলে ওঠে, হবলু ভাইতো ঠিকই কইছে। আমরা যদি সকলেই গুরুত্ব দিয়ে এই কাজটি করি তাইলে এত দরের তরকারি কিনে খাইতে অইত না। আমরা বুজি ঠিকই কিন্ত করিনা। অলস একবারেই অলস। এরপর  সকলের কথা রাখতে গান না গেয়ে পারলেন না।  স্রোতারা আরো গান শুনতে চাইলে হবলু বলে নারে ভাই আজ আর গাইব না। গোসল কইরা ন্যামতপুরে যাইব..........

এই বলে হবলু বেড়িয়ে পড়লো।  আর ভাবলো হেটেই যেহেতু যেতে হবে তাহলে আগে থেকেই রওনা দিতে হবে। ষ্টল থেকে বেড়িয়ে পলাশের  হাতে ইস্ত্রি করা জামা দেখে জিজ্ঞেস করে কোথাও যাবে নাকি?

-- হুম চাচা ন্যামতপুরে যাব সভা শুনতে। আপনিও যাবেন?

-- হুম যাব -- তাহলে রেডি হয়ে নেন এক সাথেই যাব।

--  নারে বাবা তোমরা সমবয়সীরা এক সাথে যাও। আমি কিছু সময় পরেই হাটা শুরু করে দিব।

-- ও আপনি হেটে যাবেন!! তাছাড়া আপনি তো তাই করেন। আচ্ছা ওখানে দেখা হবে ইনশাআল্লাহ।  হবলু মীর বাড়ীতে গিয়ে গোসল করে খাওয়া দাওয়া সেরে ন্যামতপুরের উদ্দেশ্য রওনা হয়।

ছয় মাইল পথ পাড়ি দিয়ে সভাস্থলে এসে পৌছায়।  সন্ধ্যা হতে এখনো অনেকটা সময় বাকি। তরুনরা মাইকে ইসলামী গজল গাইছে। মাগরিবের নামাযের পরে বয়ান শুরু হবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় বহু লোকের সমাগম ঘটবে। 

স্পেন্ডেলের উত্তর পূর্বদিকের কয়েকটা গলি পেরিয়েই বিশাল বড় হাইস্কুলের মাঠ। পলিথিন ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি করা ছোট ছোট সারিবদ্ধ দোকানে পুরু মাঠ দখল করে নিয়েছে।   

বাঁশি, ঝুনঝুনি, আর মানুষের আওয়াজে যেন এক বিশাল মেলার সন্নিবেশ ঘটেছে। একদিকে সভা অন্যদিকে মেলা। মাঠের নিচুভূমিতে  নাগরদোলা সহ শিশুদের খেলার সমস্ত আয়োজন। 

এদিকে আট নয় বছরের একটি ছেলেকে তার তার বাবা বাম হাত দিয়ে টানছে আর ছেলেটি মাটিতে লুটোপুটি খাচ্ছে। ডান হাত দিয়ে পাঁচ বছরের শিশু কন্যাকে কোলে ধরে রাখছে। এগিয়ে যায় হবলু, জিজ্ঞেস করে ভাই কি হয়েছে?  লোকটি রেগেমেগে আর কইয়েন না ভাই, সারাদিন কাজ কইরা দুইশ টাকা কামাইছি একশ টাকার চাল ডাল কিনছি। 

- - বলছে টুপি নাই সভার দিন, দিলাম তিরিশ টাকা দিয়া টুপি কিইন্যা।  টুপিটা কই হারাইয়া তুইয়া আইছে।  বাকি সত্তর টাকা দিয়া দুইজনকেই খেলনাপাতি কিইন্যা দিছি। বিড়ি খাওয়ার টাকাডাও রাখছিনা। এহন আরো চায়। 

এর বাপের কি জমিদারী আছে? যে বেইচ্ছা বেইচ্ছা কিইন্যা দিব। এই বলে নিজের সন্তানদের আরো দুইটা গালি দেয়। হবলু বলে ভাই শান্ত হোন মাসুম বাচ্ছা ওরা কি আর বুজে! লুটোপুটি খাওয়া ছেলেটিকে হবলু ধরে তুললো।জিজ্ঞেস করলো তুমি কি কিনতে চাও?

ছেলেটি কেঁদে কেঁদে বলে, আমার অনেক দিনের শখ একটা নাটাইসহ ঘুড়ি আর একটা সুন্দর টুপি কিনব।  কোলের মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করে মামুনি তোমার কিসে শখ?  মেয়েটি চোখ কচলিয়ে কচলিয়ে বলে আমার কোন শখ নাই। 

পুতুল কিনা হয়ে গেছে। এখন একটা পালকি কিনে দেয়না।  হবলু লোকটিকে বুজাতে..............


চলমান.......


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ