Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
প্রকাশ ২১/০২/২০২১ ০৬:০১পি এম

উচ্চ আদালতে এখনো পুরোপুরি বাংলা প্রচলন হয়নি: জিএম কাদের

উচ্চ আদালতে এখনো পুরোপুরি বাংলা প্রচলন হয়নি: জিএম কাদের Ad Banner

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদই সর্বস্তরে বাংলাভাষা প্রচলনের আইন করেছিলেন। অনেক ক্ষেত্রেই তা বাস্তবায়ন হলেও উচ্চ আদালতে এখনো পুরোপুরি বাংলা প্রচলন হয়নি। 

রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) জাপার বনানী কার্যালয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। 

জিএম কাদের বলেন, একুশের ধারাবাহিকতায় মুক্তির জন্য স্বাধীনতা সংগ্রাম হয়েছিলো। মুক্তিযুদ্ধে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু এখনো আমরা মুক্তি পাইনি। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে সংসদীয় একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এতে একদিকে বৈষম্য বেড়েছে, অপরদিকে জবাবদিহিতা নেই কোথাও।

স্বাধীনতার আগে পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে আমাদের বৈষম্য ছিলো কিন্তু ৯০ সালের পর থেকে দেশের মানুষের সাথে বৈষম্য করছে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকে। দেশের মানুষকে বঞ্চিত করে দলীয়করণ চলছে। উপজেলা পর্যায়ের নেতারাও হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকে তারাই চাকরি ও ব্যবসায় সুযোগ পাচ্ছে কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ সকল অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে সংবিধানে ৭০ ধারা সংযোজনের কারণে সরকার প্রধানের অধীনে দেশের নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও নিম্ন আদালত। আবার উচ্চ আদালতের নিয়োগ থেকে অনেক কিছুই সরকার প্রধানের প্রভাব থাকে, যাতে কোন মতেই গণতান্ত্রিক চর্চা সম্ভব নয়। তাই ৯০ সালের পর থেকেই দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা নেই।     

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের মানুষ সকল বৈষম্য থেকে মুক্তি চায়। দেশের মানুষ তাদের অধিকার পেতে চায়। ন্যায় বিচার ভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা ফিরে পেতে চায় দেশের মানুষ। আইনের শাসন চায়। ভাষা আন্দোলন আমাদের অন্যায়-অবিচারের কাছে মাথা নত না করে প্রতিবাদ করতে শিক্ষা দেয়। তাই জাতীয় পার্টি প্রতিটি অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দেশের মানুষের পক্ষে আপোষহীন ভাবে প্রতিবাদ করবে। দেশ ও মানুষের অধিকারের প্রশ্নে জাতীয় পার্টি কখনোই আপোষ করবে না। নির্ভয়ে গণমানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জাতীয় পার্টি সবসময় সামনের সারিতে থাকবে। 

জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, সৈয়দপুর পৌর নির্বাচনে অন্যায়ভাবে আধিপত্য বিস্তার এবং নির্বাচনকে কলুষিত করতেই শনিবার রাত ১১টায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের ওপরে হামলা করেছে। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা প্রস্তুত আছে। কোনভাবেই আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ছাড় দেওয়া হবে না। সৈয়দপুরে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে ব্যর্থ হলে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন শুরু করবে জাতীয় পার্টি। 

তিনি বলেন, ১৯৫২ সালে মানুষের প্রশ্ন ছিলো আমরা কোন ভাষায় কথা বলবো, আর এখন মানুষের প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কী কথা বলতে পারবো? দেশের মানুষ আজ কথা বলতে পারছে না, গণমাধ্যম সত্য কথা তুলে ধরতে পারছে না। এটা লজ্জাজনক, দুঃখজনক। তিনি বলেন, অন্যায়-অবিচার আর লুটপাটের গণতন্ত্রের থেকে দেশের মানুষকে মুক্তি দিতেই জাতীয় পার্টির রাজনীতি। 

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অতিরিক্ত মহাসচিব এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য এস.এম. ফয়সল চিশতী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, হেনা খান পন্নি, ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় যুব সংহতির আহ্বায়ক এইচ.এম. শাহরিয়ার আসিফ, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, ইকবাল হোসেন তাপস, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পার্টির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক ভূঁইয়া।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ