Md. Asaduzzaman
প্রকাশ ২১/০২/২০২১ ০৩:২৮পি এম

অমর একুশে উদ্‌যাপন

অমর একুশে উদ্‌যাপন Ad Banner

বাঙালি মার্তৃভাষা, মুখের ভাষা বাংলার জন্য প্রাণ দিয়ে বিরল ইতিহাস গড়েছে বাঙালি। প্রাণের ভাষা বাংলাকে উর্দুর পাশাপাশি পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে গড়ে ওঠা দুর্বার আন্দোলনে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন ১৩৫৮)    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু সংখ্যক ছাত্র ও প্রগতিশীল কিছু রাজনৈতিক কর্মী মিলে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন।

মিছিলটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছাকাছি এলে পুলিশ ১৪৪ ধারা অবমাননার অজুহাতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। গুলিতে নিহত হন বাদামতলী কমার্শিয়াল প্রেসের মালিকের ছেলে রফিক,  সালাম, এম. এ. ক্লাসের ছাত্র বরকত ও আব্দুল জব্বার সহ  আরও অনেকে। এছাড়া ১৭ জন ছাত্র-যুবক আহত হয়। শহীদদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়ে ওঠে।           

এবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এসেছে মহামারীর বাস্তবতায় ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের আয়োজনটি এবার হচ্ছে সীমিত পরিসরে।প্রতি বছর একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানের তরফ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়েই শুরু হয় বাঙালির শ্রদ্ধা জানানোর পর্ব। মহামারীর মধ্যে এ বছর তাদের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তাদের সামরিক সচিবরা। রাষ্ট্রপতির পক্ষে ফুল দেন তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহউদ্দিন ইসলাম।

আর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পররাষ্ট্র মন্ত্রী একে আবদুল মোমেন, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিও প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে এসেছিলেন শ্রদ্ধা জানাতে।পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সংসদের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস কমডোর এমএম নাঈম রহমান।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এরপর।পুলিশ বাহিনীর পক্ষে মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ এবং র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির পক্ষে চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং মহাসচিব জিয়া উদ্দিন বাবলুসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারাও শহীদ বেদীতে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করা শহীদদের প্রতি।

সহকর্মীদের নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া।

গুনীজনদের সন্মান জানানোর পর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। সে অপেক্ষায় সাধারন জনগন ফুল হাতে গেইটের বাইরে অপেক্ষায়।   


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ