MD. Shakil Ahemed
প্রকাশ ২১/০২/২০২১ ০৩:৩৫পি এম

ছুটছে গাড়ী কবিরাজ বাড়ি

ছুটছে গাড়ী কবিরাজ বাড়ি Ad Banner

সব ধরণের জটিল ও কঠিণ রোগ বালায় থেকে মুক্তি ও মানত পূরণে জামালপুর এবং পাশের জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনি শত শত গাড়ীতে চেপে হাজার হাজার মানুষ ছুটছে কবিরাজ বাড়ি। যারা এসেছেন তারায় উপকার পেয়েছেন, দাবি এলাকাবাসী। অতিসম্প্রতি, জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের হরিণধরা গ্রামে এমনি এক বিষ্ময়কর কবিরাজের আবির্ভাব হয়েছে। 

জানা যায়, কবিরাজ কফিল উদ্দিন (৫০) প্রায় ৩ মাস ধরে তিনি শুধু রোগের নাম শুনেই ঝাড় ফুকের মাধ্যমে মানুষের সাধারণ, জটিল ও কঠিণসহ স্বর্ব রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। এমন খবর ছড়িয়ে পরায় প্রতিদিনি জামালপুর ও আশ পাশের জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সরল বিশ্বাসী শত শত মানুষ ছুটে আসছেন এই কবিরাজ বাড়ীতে। ঘন্টার পর ঘন্টা সিরিয়াল দিয়ে নিচ্ছেন চিকিৎসা। সিরিয়াল না পেয়ে কেউ কেউ দিনরাত অপেক্ষা করে নিচ্ছেন ঝাড় ফুক। বিনিময়ে সেবা প্রাপ্ত দান করছেন স্থানীয় মসজিদে ও দিচ্ছেন হাদিয়া। বৃহস্পতিবার, সরেজমিন গিয়ে সেবা প্রত্যাশী, সুবিধভোগী ও কবিরাজ কাউকেই পাওয়া যায়নি।

এসময় কবিরাজের পাড়া প্রতিবেশি জানান, কবিরাজ বৃহস্পতিবার ও রবিবার রোগী দেখেন না। বাকী ৫দিন সকাল থেকে দুপুর আবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত রোগী দেখেন। এদিন শেরপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা অপেক্ষমান কয়েকজন নারী জানান, এ কবিরাজের কাছে এসে ঝাড় ফুক নিলে মানুষের সব রোগ ভাল হয়ে যায় শুনে তারা এসেছেন।

পাশের গ্রাম বেনুয়ারচরের অবঃ শিক্ষক তোজাম্মেল হক বলেন, আমি কফিল কবিরাজের ঝাড় ফুক নিয়েছি। আমি আগের চেয়ে ভাল বোধ করছি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর খোঁজ পাওয়া গেল কবিরাজ কফিল উদ্দিনের। তিনি একটি মাঠে কাজ করছিলেন। সেখানেই তার কাছে হঠাৎ আলোড়িত হয়ে উঠার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একজন অশিক্ষিত দিনমজুর। পেটের দায়ে অন্যের জমিতে কামলা দিই। আমি যা করছি তা আমি কোথা বা কারও কাছ থেকে শিখিনি। এটা আল্লাহ প্রদত্ত। অনেক আগেই আমি এই নিয়ামত প্রাপ্ত হয়েছি। এর আগে টুক টুক চিকিৎসাও করেছি। মানুষও সুফল পেয়েছে। প্রতি বছরই কাজের মৌসুম এলেই আমি জামালপুরের দক্ষিণে কাজ করতে চলে যাই।

এবার আমার এলাকার লোকজন আমাকে যেতে দেয়নি। যার কারণে প্রচারটা বেশি হয়েছে। কোন কোন রোগের চিকিৎসা করেন ও বিনিময়ে কি নেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্বাস করে আমার কাছে যে আসে তার সব রোগের উপকার হয়। বিশ্বাস না থাকলে হয় না। আমার কোনো ডিমান্ড নেই। আমি কারও কাছে কিছু চাই না। তবে, যারা আসে তারা স্থানীয় (হরিণধরা) মসজিদে দান খয়রাত করেন। সেখান থেকে আমি প্রতিদিন ৪শ টাকা নিই। আর কেউ খুশি হয়ে হাদিয়া দিলে সেটা নিই।

তবে, কবিরাজের দশম শ্রেণির ছাত্র তারিকুজ্জামানের কাছে তাদের পারিবারিক চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে, সে জানায় তাদের অসুখ বিসুখ হলে তারা চিকিৎসা নিতে ডাক্তারের কাছে যায়। কারণ কবিরাজদের চিকিৎসা নিজের জন্য কাজে আসে না। সে জানায় কবিরাজের হাতেও একটি টিউমার রয়েছে। সেটা এখন ভাল হয়নি।

এ ব্যাপারে চরগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান, শহীদুল্ল্যাহর মতামত জানার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ডিগ্রিরচর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্য, মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। পরিস্থিতে দেখে আইন শৃঙ্খলা ও জান মালের নিরাপত্তার কথা ভেবে কবিরাজ শাসিয়ে এসেছি। কিন্তু, জনগণ মানছেন না।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ