মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
Rakib Monasib
প্রকাশ ২০/০২/২০২১ ০৬:১৭পি এম

অরক্ষিত এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম বটবৃক্ষটি

অরক্ষিত এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম বটবৃক্ষটি Ad Banner

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জীর্ণ অবস্থায় রয়েছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের ৪০০ বছরের পুরনো বটবৃক্ষটি। ২০০৯ সাল থেকে যশোর সামাজিক বন বিভাগ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিলেও জমি অধিগ্রহণসহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। চারপাশে চলাচলের রাস্তা হওয়ায় দিন দিন মারা যাচ্ছে গাছটি। এ অবস্থায় এলাকার প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রাখতে ও গাছটিকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঝিনাইদহ শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে কালীগঞ্জ উপজেলার বেথুলী গ্রামের এ প্রাচীন বটগাছটির অবস্থান। তবে দেশ-বিদেশে এটা সুইতলা মল্লিকপুরের বটগাছ হিসেবে পরিচিত। প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর বেড়ে ওঠা বৃক্ষটির ডালপালা বয়সের ভারে মাটিতে নুয়ে পড়েছে।

স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেথুলী গ্রামের একটি কুয়ার পাশে জন্মায় গাছটি। এটি রোপণ করা হয়েছিল নাকি এমনিতেই জন্মেছে তার সঠিক ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর ধারণা প্রায় ৪০০ বছর আগে এ গাছের জন্ম।

বন বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, অতীতে বেশি জায়গাজুড়ে বৃক্ষটি বিস্তৃত থাকলেও এখন আছে ২ দশমিক শূন্য ৮ একরজুড়ে। এ বৃক্ষের মোট ৩৪৫টি বায়বীয় মূল রয়েছে। যে মূলগুলো মাটির গভীরে প্রবেশ করেছে। আর ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে ৩৮টি মূল। বটবৃক্ষটি দেখার জন্য প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ ভিড় জমায় ওই এলাকায়।

তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হতে বসেছে প্রাচীন এ বৃক্ষটি। তিন দিকে লোক চলাচলের রাস্তায় চেপে ধরেছে গাছটিকে। ফলে বেড়ে উঠতে পারছে না আপন গতিতে।

স্থানীয় রাড়িপাড়া গ্রামের এমএ জলিল জানান, বিভিন্ন সময়ে অনেকে সরকারিভাবে বটগাছের উন্নয়নের কথা শুনিয়েছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। দূর থেকে আসা দর্শনার্থীদের কল্যাণে ১৯৮৫ সালে নির্মিত রেস্ট হাউজটির তত্ত্বাবধানকারী জেলা পরিষদ, সেটাও আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। পরে নতুন একটি রেস্ট হাউজ নির্মিত হয়েছে, কিন্তু দেখভালে নিয়োজিত ব্যক্তি অধিকাংশ সময় থাকেন না। এলাকার মানুষের নজরদারিতে দীর্ঘদিন ধরে গাছটি বেঁচে আছে। সরকারিভাবে যতটুকু করা হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়।

একটি পূর্ণাঙ্গ পিকনিক স্পট করতে পারলে এ এলাকার শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে। রক্ষা হবে দেশের একটি দর্শনীয় স্থান।

স্থানীয় মোশারফ হোসেন মাস্টার জানান, বর্তমান রেস্ট হাউজটি সাধারণ দর্শনার্থীদের কল্যাণে আসে না। বৃক্ষটির ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য বন বিভাগ সরকারের উচ্চমহলে ধরনা দিয়েছেন, কিন্তু লাভ হয়নি।

ঝিনাইদহ জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা খোন্দকার মো. গিয়াস উদ্দীন জানান, আগে বটগাছের জমিটি ছিল খাস। পরবর্তী সময় বন বিভাগ দেখল এটা রক্ষণাবেক্ষণ করা দরকার। পরে জেলা প্রশাসন থেকে বন বিভাগ বটগাছটির তত্ত্বাবধায়নের দায়িত্ব নিয়েছে। এরই মধ্যে সেখানে উন্নয়নমূলক কিছু কাজ করা হয়েছে।

সেখানে দেখাশোনার জন্য আমাদের লোক আছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে একটি ব্রাক হাউজ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ওই স্থানটি আরো ভালো করার জন্য বন বিভাগে একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে একটা পর্ষটন কেন্দ্রসহ একটি পূর্ণাঙ্গ পিকনিক স্পট হতে পারে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ