Safia Chowdhury
প্রকাশ ২০/০২/২০২১ ০১:৫০পি এম

চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দুই বছর পূর্ণ হলো

চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দুই বছর পূর্ণ হলো Ad Banner

রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দুই বছর পূর্ণ হলো। এ ঘটনায় করা মামলার চার্জশিট এখনও আদালতে জমা দিতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ বলছে, এজাহারে সন্দেহভাজন দুই আসামি আছে। যাদের বিষয়ে কোনও তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি তদন্তকারী কর্মকর্তা। যার কারণে চার্জশিট জমা পড়েনি আদালতে।চুড়িহাট্টার চারতলা ওয়াহেদ ম্যানশনের ক্ষতগুলো নতুন ইটবালিতে সংস্কার হয়েছে।

এখন দেখে বোঝার উপায় নেই ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে দাউ দাউ করে জ্বলছিল ভবনটি। বিভিন্ন ফ্লোর থেকে ছিটকে পড়ছিল লাইটারের গ্যাস, সুগন্ধিসহ বিভিন্ন কেমিক্যালের টিউব। মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল আশপাশের ভবনে।এখন পুরো চকবাজার জুড়ে আবার বসেছে ছোট ছোট কেমিক্যালের গুদাম। সরু গলিতে ঢুকছে সিএনজিচালিত পিকআপ ভ্যান।

গলির মুখে খাবার দোকানগুলোতে জ্বলছে চুলাও। এমনকি ওয়াহেদ ম্যানশনের সামনেই বসেছে অনিরাপদ নানা দাহ্য পদার্থের দোকান।আগুন লাগার দিন যে রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বোঝা গিয়েছিল আগুনের ভয়াবহতা, সেই রেস্তোরাঁর সামনে আবার চুলা জ্বলছে।ঠিক দুই বছর আগে এই দিনে আগুনে স্বামী হারান পুরান ঢাকার বাসিন্দা ফাতেমা আক্তার।

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তাকে ওই ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলো। প্রশ্ন করতেই জানান, তার স্বামী ফয়সালের শরীরের প্রায় শতভাগই পুড়ে গিয়েছিল আগুনে। ফাতেমা অভিযোগ করে বলেন, এই যে মামলা হয়েছে, তাতে কী হয়েছে? বাড়ির মালিকরা তো ১০ দিনও জেলখানায় ছিলেন না। জামিনে বের হয়ে ঘোরাফিরা করছেন। পুড়ে যাওয়া ভবনের সংস্কারও করেছেন।

সরকারও বলেছিল, আমাদের পাশে দাঁড়াবে। এখনও কেউ দাঁড়ায়নি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি, তিনি যেন অন্তত আমাদের পাশে দাঁড়ান।ভবনটির দুই মালিককে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তাদেরকে যদি ঠিকঠাক জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো, তবে বের হয়ে আসতো অনেক কিছু। আজও গোডাউনের মালিককে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

সন্তান হারিয়েছি। কিন্তু বিচার পেলাম না।’ আক্ষেপ নাসির উদ্দিনের।পুলিশ সন্তুষ্ট হলেও মামলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী মো. আসিফ আহম্মেদ। তিনি বলেন, ‘দুই বছর হয়ে গেলো, মামলার অগ্রগতি নেই। বিষয়টা দুঃখজনক। কিন্তু আরও দুঃখের বিষয়, প্রশাসনের চোখের সামনেই ভবনটির আশপাশে আবারও রাসায়নিকের গুদাম গড়ে উঠেছে।’২০১৯ সালে ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর চকবাজার চুড়িহাট্টার মোড়ে কেমিক্যাল থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে ওয়াহেদ ম্যানশনসহ আশপাশের পাঁচটি ভবন পুড়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারায় ৭২ জন। এর মধ্যে ৬৭ জনের মরদেহ ঢামেকে আসে। যার মধ্যে পুরুষ ৫৮, নারী ৫ এবং শিশু ৪ জন। আহত হয় আরও অনেকে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট ১৪ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারিতে অবহেলার কারণে সৃষ্ট অগ্নিসংযোগের ফলে মৃত্যু ঘটাসহ ক্ষতিসাধনের অপরাধে চকবাজারের ওয়াটার ওয়ার্কস রোডের ৩২/৩৩ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা মো. আসিফ চকবাজার থানায় মামলা করেন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ